মধ্যপ্রাচ্যে ইরানকে কেন্দ্র করে মার্কিন-ইসরায়েলি সম্ভাব্য সামরিক অভিযানের প্রেক্ষাপটে নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করেছে ইউরোপের দুই শক্তিশালী রাষ্ট্র ব্রিটেন ও জার্মানি। ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ের স্টারমার সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, ইরানের বিরুদ্ধে কোনো যুদ্ধে জড়াবে না লন্ডন। অন্যদিকে, জার্মান চ্যান্সেলর ফ্রেডরিখ মের্টজ এই সংঘাতকে ইউরোপীয় অর্থনীতির জন্য এক ভয়াবহ ঝুঁকি হিসেবে আখ্যায়িত করে অবিলম্বে আগ্রাসন বন্ধের আহ্বান জানিয়েছেন।
পশ্চিমা সামরিক জোটের অভ্যন্তরীণ সমীকরণ ছাপিয়ে এখন বড় হয়ে উঠছে জনমত ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার প্রশ্ন। সোমবার লন্ডনে এক ভাষণে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ের স্টারমার বলেন, "মধ্যপ্রাচ্যের এই সংকট নিয়ে ব্রিটিশ জনগণের মধ্যে গভীর উদ্বেগ কাজ করছে। আমি স্পষ্ট করে বলতে চাই, এই যুদ্ধ আমাদের নয় এবং ব্রিটেন কোনোভাবেই এর অংশ হবে না।"
সংঘাতের আইনি ভিত্তি নিয়ে শুরু থেকেই সংশয় প্রকাশ করে আসা স্টারমার আরও যোগ করেন, ব্রিটিশ নাগরিকদের নিরাপত্তা এবং আঞ্চলিক শান্তি রক্ষাই এখন লন্ডনের অগ্রাধিকার। যদিও ওই অঞ্চলে মার্কিন বাহিনীকে ব্রিটিশ ঘাঁটি ব্যবহারের অনুমতি দেওয়া নিয়ে নিজ দেশে প্রবল রাজনৈতিক ও জনরোষের মুখে পড়েছেন তিনি, তবুও সরাসরি যুদ্ধে অংশ না নেওয়ার বিষয়ে তিনি অনড় অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেছেন।
একই দিনে বার্লিনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে জার্মানির চ্যান্সেলর ফ্রেডরিখ মের্টজ পশ্চিম এশিয়ার অস্থিতিশীলতাকে বৈশ্বিক অর্থনীতির জন্য 'অশনি সংকেত' বলে অভিহিত করেন। তিনি সতর্ক করে বলেন, "ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক তৎপরতার বিস্তার ইউরোপীয় অর্থনীতির ওপর অসহনীয় চাপ সৃষ্টি করবে।"
মের্টজ আরও উল্লেখ করেন যে, ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি বা আঞ্চলিক প্রভাবের মতো জটিল ইস্যুগুলো কেবল সামরিক শক্তি দিয়ে সমাধান করা সম্ভব নয়। তিনি কূটনৈতিক আলোচনার টেবিলে ফেরার ওপর জোর দিয়ে অবিলম্বে মার্কিন-ইসরায়েলি সামরিক তৎপরতা বন্ধের দাবি জানান।
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ইউক্রেন যুদ্ধের প্রভাবে বিপর্যস্ত ইউরোপীয় অর্থনীতি আর কোনো বড় ধরনের সামরিক সংঘাতের বোঝা বইতে প্রস্তুত নয়। বিশেষ করে জ্বালানি সংকট এবং মুদ্রাস্ফীতির আশঙ্কায় জনমত এখন সরাসরি যুদ্ধের বিপক্ষে। ব্রিটেন ও জার্মানির এই সাম্প্রতিক অবস্থান ওয়াশিংটনের জন্য একটি বড় কূটনৈতিক বার্তা হিসেবে দেখা হচ্ছে, যা মধ্যপ্রাচ্যের কৌশলগত ভূ-রাজনীতিতে নতুন মাত্রা যোগ করতে পারে।