খাতামুল আম্বিয়া (সা.আ.)-এর কেন্দ্রীয় সদর দপ্তরের মুখপাত্র লেফটেন্যান্ট কর্নেল ইব্রাহিম জুলফাকারি। ছবি: সংগৃহীত
মধ্যপ্রাচ্যের রণক্ষেত্রে আধিপত্য বিস্তারের লড়াইয়ে মার্কিন ও ইসরায়েলি সামরিক শক্তির বিরুদ্ধে এক নজিরবিহীন ও দীর্ঘমেয়াদী যুদ্ধের ঘোষণা দিয়েছে ইরান। তেহরানের সামরিক নীতিনির্ধারকরা স্পষ্ট করে জানিয়েছেন, প্রতিপক্ষকে সম্পূর্ণভাবে নতজানু না করা পর্যন্ত তাদের এই আক্রমণাত্মক অভিযান স্তিমিত হবে না। ইরানের খাতামুল আম্বিয়া (সা. আ.) কেন্দ্রীয় সামরিক সদর দপ্তরের পক্ষ থেকে দেওয়া এই হুঁশিয়ারি এ অঞ্চলের ভূ-রাজনৈতিক সমীকরণকে এক চূড়ান্ত সংঘাতের দিকে ঠেলে দিয়েছে।
ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর (আইআরজিসি) অপারেশনাল শাখা 'সাদেক প্রমিজ-৪' (সত্য প্রতিশ্রুতি-৪)-এর ধারাবাহিকতায় এবার ৮৭তম তরঙ্গের জোরালো হামলা চালিয়েছে। খাতামুল আম্বিয়া কেন্দ্রীয় সদর দপ্তরের মুখপাত্র লেফটেন্যান্ট কর্নেল ইব্রাহিম জুলফাকারি এই অভিযানের সফলতার কথা নিশ্চিত করে জানান, ইরান তার সামরিক সক্ষমতার পূর্ণ প্রয়োগ ঘটাচ্ছে।
জুলফাকারি বলেন, “আমাদের আক্রমণ ততক্ষণ পর্যন্ত অব্যাহত থাকবে, যতক্ষণ না মার্কিন-ইহুদিবাদী শত্রুরা আমাদের শক্তির সামনে আত্মসমর্পণ করতে বাধ্য হয়। এটি কেবল একটি সামরিক অভিযান নয়, বরং সার্বভৌমত্ব রক্ষার এক আপসহীন লড়াই।”
ইরানি সংবাদমাধ্যম পার্সটুডের প্রতিবেদন অনুযায়ী, এবারের অভিযানে অত্যন্ত সুনির্দিষ্ট ও কৌশলগত লক্ষ্যবস্তুগুলোকে বেছে নেওয়া হয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থিত পাঁচটি মার্কিন সামরিক ঘাঁটিসহ অধিকৃত ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডের দক্ষিণ, মধ্য ও উত্তরাঞ্চলীয় হাইফা, তেল আবিব, কিরিয়াত শমোনা, বীরশেবা এবং ডিমোনার মতো গুরুত্বপূর্ণ শহরগুলো এখন ইরানি ক্ষেপণাস্ত্রের নিশানায়।
বিশেষ করে শত্রুপক্ষের কমান্ড অ্যান্ড কন্ট্রোল সেন্টার, ড্রোনের হ্যাঙ্গার, উন্নত অস্ত্রাগার এবং রসদ সরবরাহ কেন্দ্রগুলো গুঁড়িয়ে দেওয়ার দাবি করেছে তেহরান। অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ তথ্য হলো, এই হামলায় মার্কিন ও ইসরায়েলি পাইলটদের জন্য তৈরি বিশেষ নিরাপদ আস্তানাগুলোকেও লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে।
এই বিধ্বংসী হামলায় ইরান তাদের নিজস্ব প্রযুক্তিতে তৈরি অত্যন্ত শক্তিশালী 'ইমাদ', 'কিয়াম' ও 'খোররামশাহর' মডেলের কঠিন ও তরল জ্বালানিচালিত ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করেছে। এর পাশাপাশি নিখুঁত লক্ষ্যভেদে সক্ষম একঝাঁক আত্মঘাতী ড্রোনও ব্যবহার করা হয়েছে, যা আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে ফাঁকি দিয়ে লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে সক্ষম।
সামরিক বিশ্লেষকদের মতে, ডিমোনার মতো স্পর্শকাতর পারমাণবিক স্থাপনা এবং আল-খারজ বা জুফিরের মতো কৌশলগত পয়েন্টগুলোতে আঘাত হানার সক্ষমতা প্রদর্শন করে তেহরান মূলত ওয়াশিংটন ও তেল আবিবকে এক চরম সতর্কবার্তা দিল।
ইরানের এই অনড় অবস্থান এবং ধারাবাহিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা প্রমাণ করে যে, মধ্যপ্রাচ্যে এখন আর কোনো পক্ষই পিছিয়ে আসার মেজাজে নেই। 'শত্রুকে নতজানু করা'র এই অঙ্গীকার কেবল বাগাড়ম্বর নয়, বরং আধুনিক সমরাস্ত্রের প্রয়োগে তেহরান এখন এক ভয়ংকর বাস্তবতায় রূপ নিয়েছে। বিশ্বজুড়ে উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়লেও পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলের আকাশে এখন কেবল বারুদের গন্ধ আর যুদ্ধের দামামা। এই সংঘাতের শেষ কোথায়, তা এখন পুরো বিশ্বের জন্য এক বড় প্রশ্ন।
বিষয় : যুক্তরাষ্ট্র ইসরাইল ইরান
সম্পাদক ও প্রকাশক: মো. আলী হোসেন
যোগাযোগ: +880244809006 ,01922575574
ই-মেইল: [email protected]
ঠিকানা: ২২০/১ (৫ম তলা), বেগম রোকেয়া সরণি, তালতলা, আগারগাঁও, পশ্চিম কাফরুল, ঢাকা-১২০৭
© 2026 National Tribune All Rights Reserved. Design & Developed By Root Soft Bangladesh
