× প্রচ্ছদ জাতীয় রাজনীতি অর্থনীতি সারাদেশ আন্তর্জাতিক খেলা বিনোদন ফিচার প্রবাস সকল বিভাগ
ছবি ভিডিও লাইভ লেখক আর্কাইভ

প্যাট্রিয়ট দিচ্ছে না পোল্যান্ড, আকাশ প্রতিরক্ষা নিয়ে বিপাকে যুক্তরাষ্ট্র

ন্যাশনাল ট্রিবিউন ডেস্ক

০১ এপ্রিল ২০২৬, ০৭:৩৪ এএম । আপডেটঃ ০১ এপ্রিল ২০২৬, ০৭:৩৫ এএম

পোল্যান্ডে মোতায়েন করা একটি প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা। ওয়াশিংটনের অনুরোধ সত্ত্বেও এই প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাটি মধ্যপ্রাচ্যে পাঠাতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে ওয়ারশ। ছবি: এএফপি

মধ্যপ্রাচ্যে ইরান-ইসরায়েল সংঘাতের তীব্রতা বৃদ্ধির প্রেক্ষাপটে ওয়াশিংটনের কৌশলগত অনুরোধ সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছে পোল্যান্ড। ইরানের বিরুদ্ধে চলমান যুদ্ধে ব্যবহারের জন্য পোল্যান্ডে মোতায়েন করা মার্কিন ‘প্যাট্রিয়ট’ ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা পশ্চিম এশিয়ায় স্থানান্তরের প্রস্তাব দিয়েছিল যুক্তরাষ্ট্র। তবে ওয়ারশ সেই প্রস্তাবে সাফ ‘না’ জানিয়ে দিয়েছে। ন্যাটোর অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই সদস্য রাষ্ট্রের অনড় অবস্থান হোয়াইট হাউসের জন্য এক বড় ধরনের কূটনৈতিক ও সামরিক ধাক্কা হিসেবে দেখা হচ্ছে।

পোল্যান্ডের এই সিদ্ধান্তের ফলে কেবল আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার সংকটই প্রকট হয়নি, বরং মধ্যপ্রাচ্য ইস্যুতে ইউরোপীয় মিত্রদের মধ্যে ক্রমবর্ধমান বিভাজনও স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।

ওয়ারশর এই প্রত্যাখ্যান কেবল একটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। এর আগে স্পেনও ইরানের বিরুদ্ধে চলমান এই যুদ্ধকে ‘অবৈধ’ আখ্যা দিয়ে এর তীব্র নিন্দা জানিয়েছে। মাদ্রিদ শুরু থেকেই এই সংঘাতে মার্কিন-ইসরায়েল অক্ষের ভূমিকার বিরোধিতা করে আসছে।

অন্যদিকে, ইতালিও ওয়াশিংটনের অনুরোধ ফিরিয়ে দিয়ে তাদের ভূখণ্ডে অবস্থিত ‘সিগোনলা’ বিমান ঘাঁটি ব্যবহারের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে। ফলে ভূ-মধ্যসাগরীয় অঞ্চলে মার্কিন সামরিক অভিযান পরিচালনার পথ ক্রমেই সংকুচিত হয়ে আসছে। মিত্রদের এই ধারাবাহিক ‘অসহযোগিতা’ ন্যাটোর অভ্যন্তরীণ ঐক্যকে এক নজিরবিহীন চ্যালেঞ্জের মুখে ঠেলে দিয়েছে।

আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলোর প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইরান ও তার মিত্রদের অব্যাহত ক্ষেপণাস্ত্র হামলার মুখে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার সক্ষমতা নিয়ে বড় ধরনের প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। নিজস্ব মজুত ফুরিয়ে আসায় ওয়াশিংটন এখন বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে মোতায়েন করা তাদের প্যাট্রিয়ট ও ‘থাড’ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা তড়িঘড়ি করে পশ্চিম এশিয়ায় স্থানান্তর করতে বাধ্য হচ্ছে।

পোল্যান্ডের মতো ফ্রন্টলাইন রাষ্ট্রগুলো থেকে এই ব্যবস্থা সরিয়ে নেওয়ার চেষ্টা মূলত ওয়াশিংটনের সামরিক পরিকল্পনায় এক ধরনের মরিয়া ভাবের প্রতিফলন। তবে নিজের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ওয়ারশ এখন ওয়াশিংটনের বৈশ্বিক স্বার্থের চেয়ে আঞ্চলিক স্থিতিশীলতাকেই বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে।

বিশ্লেষকরা মনে করছেন, পোল্যান্ড, স্পেন ও ইতালির এই কঠোর অবস্থান প্রমাণ করে যে, ইউরোপীয় দেশগুলো আর অন্ধভাবে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিটি সামরিক অভিযানে অংশ নিতে আগ্রহী নয়। বিশেষ করে ইরানের বিরুদ্ধে এই যুদ্ধের বৈধতা এবং এর সম্ভাব্য বৈশ্বিক প্রভাব নিয়ে ব্রাসেলসের নীতি-নির্ধারকদের মধ্যে গভীর উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

পোল্যান্ডের এই ‘না’ কেবল একটি সামরিক ব্যবস্থার মালিকানা রক্ষা নয়, বরং এটি ওয়াশিংটনের এককেন্দ্রিক প্রভাবের বিরুদ্ধে এক নীরব কূটনৈতিক বিদ্রোহ। মিত্রদের সমর্থন হারানো এবং প্রতিরক্ষা সরঞ্জামের ঘাটতি—এই দুই সংকটের মুখে দাঁড়িয়ে মধ্যপ্রাচ্যে নিজেদের আধিপত্য বজায় রাখা যুক্তরাষ্ট্রের জন্য এখন সময়ের চেয়েও বড় চ্যালেঞ্জ। রণক্ষেত্রে বারুদের উত্তাপ যত বাড়ছে, কূটনৈতিক টেবিলে ওয়াশিংটনের একাকীত্ব ততই প্রকট হয়ে উঠছে।

National Tribune

সম্পাদক ও প্রকাশক: মো. আলী হোসেন

যোগাযোগ: +880244809006 ,01922575574

ই-মেইল: [email protected]

ঠিকানা: ২২০/১ (৫ম তলা), বেগম রোকেয়া সরণি, তালতলা, আগারগাঁও, পশ্চিম কাফরুল, ঢাকা-১২০৭

আমাদের সঙ্গে থাকুন

© 2026 National Tribune All Rights Reserved.