স্পেনের প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজ।
মধ্যপ্রাচ্যে ইরানের বিরুদ্ধে চলমান সামরিক অভিযানকে কেন্দ্র করে পশ্চিমা মিত্রদের ঐক্যে বড় ধরনের ধস নামলো। স্পেনের আকাশসীমা ও সামরিক বিমানঘাঁটিগুলো ইসরায়েল অভিমুখী বা ইরান যুদ্ধে লিপ্ত যেকোনো মার্কিন ও ইসরায়েলি বিমানের জন্য কঠোরভাবে নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছে মাদ্রিদ। বুধবার এক জরুরি ঘোষণায় স্পেন সরকার জানিয়েছে, তাদের ভূখণ্ড ব্যবহার করে ইরানের ওপর কোনো ধরনের হামলা বা সামরিক তৎপরতা চালাতে দেওয়া হবে না।
স্পেনের এই সাহসী ও কৌশলগত অবস্থান ইউরোপীয় রাজনীতিতে এক নতুন মেরুকরণের জন্ম দিয়েছে, যা সরাসরি ওয়াশিংটনের মধ্যপ্রাচ্য নীতিকে চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলেছে।
মাদ্রিদের পক্ষ থেকে দেওয়া এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, স্পেনের আকাশসীমা এবং বিমানঘাঁটিগুলো ইরানের বিরুদ্ধে মার্কিন-ইসরায়েলি হামলার সঙ্গে সম্পর্কিত যে কোনো পদক্ষেপের জন্য এখন থেকে পুরোপুরি ‘নিষিদ্ধ এলাকা’। শুধু তা-ই নয়, এই যুদ্ধে অংশ নেওয়া মার্কিন সামরিক বিমান কিংবা জ্বালানি সরবরাহকারী (তেলবাহী) বিমানগুলোকেও স্পেনের কোনো ঘাঁটি ব্যবহারের অনুমতি দেওয়া হবে না।
সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ বিষয় হলো, স্পেন কেবল নিজের ভূখণ্ডই নয়, বরং ব্রিটেন বা ফ্রান্সে মোতায়েনকৃত মার্কিন বিমানগুলোর জন্যও তাদের আকাশপথ ব্যবহারের পথ বন্ধ করে দিয়েছে। এর ফলে আটলান্টিক মহাসাগর হয়ে মধ্যপ্রাচ্যে রসদ ও সমরাস্ত্র সরবরাহের ক্ষেত্রে পেন্টাগনকে এখন দীর্ঘ ও জটিল পথ পাড়ি দিতে হবে।
স্পেনের প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজ এই যুদ্ধকে একটি ‘পূর্ণাঙ্গ বিপর্যয়’ হিসেবে অভিহিত করে ওয়াশিংটন ও তেল আবিবের তীব্র সমালোচনা করেছেন। তিনি মনে করেন, এই সংঘাত কেবল মধ্যপ্রাচ্য নয়, বরং গোটা বিশ্বের স্থিতিশীলতাকে ধ্বংসের মুখে ঠেলে দিচ্ছে। সানচেজ ও স্পেনের শীর্ষস্থানীয় নেতৃবৃন্দ শুরু থেকেই ইরানে হামলার বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে জোরালো প্রতিবাদ জানিয়ে আসছেন।
স্পেন সরকারের এক মুখপাত্র জানান, “সার্বভৌম রাষ্ট্র হিসেবে স্পেন কোনোভাবেই একটি ধ্বংসাত্মক যুদ্ধের সহযোগী হতে চায় না। আমরা কূটনীতি ও শান্তির পক্ষে, রক্তপাতের পক্ষে নয়।”
ন্যাটোর অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সদস্য রাষ্ট্র হয়েও স্পেনের এই কঠোর অবস্থান সামরিক জোটটির ভেতরে থাকা গভীর মতভেদকে সামনে নিয়ে এসেছে। ফ্রান্স ও ইতালির পর স্পেনের এই সরে দাঁড়ানো প্রমাণ করে যে, ইউরোপ এখন আর অন্ধভাবে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিটি সামরিক পদক্ষেপকে সমর্থন করতে রাজি নয়। এই সিদ্ধান্তটি এমন এক সময়ে এলো যখন যুক্তরাষ্ট্র ইরানে হামলা জোরদার করার জন্য মিত্রদের সহযোগিতা কামনা করছে।
সামরিক বিশ্লেষকদের মতে, স্পেনের এই অবরুদ্ধ আকাশপথ নীতি মার্কিন বিমানবাহিনীর লজিস্টিক চেইনে বড় ধরনের বিপর্যয় ডেকে আনতে পারে। এটি একইসঙ্গে ইরান ইস্যুতে ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার ক্রমবর্ধমান দূরত্বের বহিঃপ্রকাশ।
মাদ্রিদের এই অবস্থান কেবল একটি কূটনৈতিক প্রতিবাদ নয়, বরং এটি একটি শক্তিশালী ভূ-রাজনৈতিক বার্তা। স্পেনের এই সিদ্ধান্তের ফলে মধ্যপ্রাচ্যের রণক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের কৌশলগত আধিপত্য নতুন করে হোঁচট খেল। যুদ্ধের আগুনের লেলিহান শিখা যখন চারদিকে ছড়িয়ে পড়ছে, তখন স্পেনের মতো রাষ্ট্রের এই শান্তিপ্রচেষ্টা ও সার্বভৌম অবস্থান বিশ্ব রাজনীতিতে এক অনন্য উদাহরণ হয়ে থাকবে।
বিষয় : স্পেন যুক্তরাষ্ট্র ইরান
সম্পাদক ও প্রকাশক: মো. আলী হোসেন
যোগাযোগ: +880244809006 ,01922575574
ই-মেইল: [email protected]
ঠিকানা: ২২০/১ (৫ম তলা), বেগম রোকেয়া সরণি, তালতলা, আগারগাঁও, পশ্চিম কাফরুল, ঢাকা-১২০৭
© 2026 National Tribune All Rights Reserved. Design & Developed By Root Soft Bangladesh
