এমকিউ-৯ রিপার ড্রোন। ছবি: সংগৃহীত
মধ্যপ্রাচ্যের আকাশে পশ্চিমা আকাশ-প্রযুক্তির শ্রেষ্ঠত্বকে চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়ে ইরান দাবি করেছে, তাদের অত্যাধুনিক বিমান প্রতিরক্ষা ইউনিট মধ্য ইরানের ইস্পাহানে আরও দুটি মার্কিন এমকিউ-৯ মডেলের ড্রোন ভূপাতিত করেছে। ইরানের শক্তিশালী বিশেষ বাহিনী ‘ইসলামী বিপ্লবী গার্ড বাহিনী’ (আইআরজিসি)-এর সাম্প্রতিক এই অভিযানে শত্রুপক্ষের ভূপাতিত ড্রোনের মোট সংখ্যা এখন ১৪৫-এ উন্নীত হয়েছে।
নিখুঁত লক্ষ্যভেদ এবং নিজস্ব প্রযুক্তির রাডার ব্যবস্থার অভাবনীয় সাফল্য তেহরানকে এই অঞ্চলের সামরিক সমীকরণে এক অনন্য উচ্চতায় নিয়ে গেছে বলে মনে করছেন আন্তর্জাতিক সামরিক বিশ্লেষকরা।
আইআরজিসি জানিয়েছে, অত্যন্ত ব্যয়বহুল এবং অত্যাধুনিক প্রযুক্তির এই এমকিউ-৯ ড্রোন দুটির প্রতিটির বাজারমূল্য প্রায় ১ কোটি মার্কিন ডলার। ইস্পাহানের স্পর্শকাতর আকাশসীমায় অনুপ্রবেশের পরপরই ইরানি প্রতিরক্ষা ইউনিটের ‘সারফেস-টু-এয়ার’ মিসাইল সিস্টেম এগুলোকে নিখুঁতভাবে শনাক্ত ও ধ্বংস করে। এই ঘটনাটি কেবল একটি সামরিক জয় নয়, বরং ওয়াশিংটনের ড্রোন-প্রযুক্তির নির্ভরযোগ্যতা নিয়েও বড় প্রশ্ন তুলে দিয়েছে।
আইআরজিসি-এর প্রকাশিত সর্বশেষ পরিসংখ্যানে জানানো হয়েছে, চলমান সংঘাত শুরুর পর থেকে এ পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের মোট ১৪৫টি ড্রোন ধ্বংস করেছে ইরান। এর পাশাপাশি আকাশপথে বড় ধরনের সক্ষমতা প্রদর্শন করেছে তেহরান। তাদের নিজস্ব প্রযুক্তিতে নির্মিত রাডার ব্যবস্থার মাধ্যমে মার্কিন পঞ্চম প্রজন্মের যুদ্ধবিমান এফ-৩৫ সহ একাধিক এফ-১৬ এবং এফ-১৮ জঙ্গিবিমান ভূপাতিত করার দাবি করা হয়েছে।
বিশেষ করে এফ-৩৫-এর মতো ‘স্টিথ’ বা রাডার-ফাঁকি দিতে সক্ষম যুদ্ধবিমান ধ্বংসের দাবিটি আন্তর্জাতিক সামরিক মহলে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। এটি প্রমাণ করে যে, ইরানের রাডার প্রযুক্তি এখন বৈশ্বিক মানদণ্ডে অত্যন্ত শক্তিশালী পর্যায়ে পৌঁছেছে।
ড্রোনের পাশাপাশি আকাশপথে ধেয়ে আসা প্রায় ১০০টি মার্কিন ও ইসরায়েলি ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র শনাক্ত ও ধ্বংস করার দাবি করেছে ইরানের বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা। তেহরানের দাবি, তাদের এই প্রতিরক্ষা দেয়াল এতটাই নিশ্ছিদ্র যে, কোনো আধুনিক সমরাস্ত্রই তাদের রাডারের চোখ এড়িয়ে লক্ষ্যবস্তুতে পৌঁছাতে পারছে না।
ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ সামরিক শক্তির বিপরীতে ইরানের এই ধারাবাহিক সাফল্য মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনীতিকে এক নতুন সংজ্ঞায় সংজ্ঞায়িত করছে। নিজস্ব উদ্ভাবনী শক্তি ও প্রতিরক্ষা কৌশলের মাধ্যমে তেহরান যে শক্তিমত্তা প্রদর্শন করছে, তা কেবল সামরিক প্রতিরোধ নয়, বরং দীর্ঘমেয়াদী সার্বভৌমত্বের এক জোরালো ঘোষণা। আকাশপথের এই লড়াই শেষ পর্যন্ত কোন দিকে মোড় নেয়, এখন সেটিই দেখার বিষয়।
বিষয় : যুক্তরাষ্ট্র ইজরায়েল ড্রোন ইরান
সম্পাদক ও প্রকাশক: মো. আলী হোসেন
যোগাযোগ: +880244809006 ,01922575574
ই-মেইল: [email protected]
ঠিকানা: ২২০/১ (৫ম তলা), বেগম রোকেয়া সরণি, তালতলা, আগারগাঁও, পশ্চিম কাফরুল, ঢাকা-১২০৭
© 2026 National Tribune All Rights Reserved. Design & Developed By Root Soft Bangladesh
