ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ ও ডোনাল্ড ট্রাম্প। ফাইল ছবি: এপি
মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তপ্ত পরিস্থিতিতে ইসরায়েল অভিমুখী মার্কিন সামরিক উড়োজাহাজকে নিজেদের আকাশপথ ব্যবহারে বাধা দিয়েছে ফ্রান্স। ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধে ওয়াশিংটনের কৌশলগত অংশীদারিত্বে প্যারিসের এই আকস্মিক ‘না’ কূটনৈতিক মহলে ব্যাপক চাঞ্চল্য সৃষ্টি করেছে। এই ঘটনায় তীব্র ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প, যা দুই দীর্ঘকালীন মিত্রের মধ্যে স্নায়ুযুদ্ধের নতুন ইঙ্গিত দিচ্ছে।
মার্কিন প্রশাসনের এই অস্বস্তি কেবল ফ্রান্সেই সীমাবদ্ধ নেই, এর আগে স্পেন ও ইতালির মতো ইউরোপীয় দেশগুলোও একই ধরনের কড়াকড়ি আরোপ করেছিল। ফলে ন্যাটোর অভ্যন্তরীণ ফাটল এখন আরও স্পষ্ট হয়ে উঠছে।
নিজের মালিকানাধীন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ দেওয়া এক পোস্টে ফ্রান্সের এই অবস্থানকে কঠোর ভাষায় সমালোচনা করেছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি অভিযোগ করেন, ইসরায়েলগামী গুরুত্বপূর্ণ সামরিক সরঞ্জামবাহী বিমানগুলোকে ফ্রান্স তাদের ভূখণ্ডের ওপর দিয়ে উড়ে যাওয়ার অনুমতি দেয়নি।
ট্রাম্প তার পোস্টে লিখেছেন, “ফ্রান্স অত্যন্ত অসহযোগিতামূলক আচরণ করেছে। ইরানের সেই ‘কসাইকে’ (সাবেক সর্বোচ্চ নেতা) সফলভাবে নির্মূল করার প্রচেষ্টায় তারা বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। দেশটির এই অবস্থান অত্যন্ত নেতিবাচক।”
প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের এই আক্রমণাত্মক বার্তা ওয়াশিংটন ও প্যারিসের মধ্যকার ঐতিহাসিক কূটনৈতিক সম্পর্কে বড় ধরনের ধাক্কা দেবে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
ফ্রান্সের এই সিদ্ধান্ত একক কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। বিশ্লেষকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্য সংকটে ইউরোপীয় দেশগুলো এখন আগের চেয়ে অনেক বেশি সতর্ক। বিশেষ করে স্পেনের পর ফ্রান্সের মতো প্রভাবশালী দেশের এই অবস্থান যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক শ্রেষ্ঠত্ব ও রসদ সরবরাহের পথে বড় অন্তরায় হয়ে দাঁড়িয়েছে। প্যারিস সরাসরি কোনো আনুষ্ঠানিক বিবৃতি না দিলেও বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, সংঘাতের বিস্তৃতি রোধ এবং আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতেই ফ্রান্স এই কঠোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
দীর্ঘদিন ধরে যুক্তরাষ্ট্রের ঘনিষ্ঠ মিত্র হিসেবে পরিচিত ফ্রান্সের এমন অবস্থান হোয়াইট হাউসকে ক্ষুব্ধ করেছে। ট্রাম্পের ‘আমেরিকা ফার্স্ট’ নীতির বিপরীতে ফ্রান্সের এই সার্বভৌম অবস্থান ন্যাটোর কার্যকারিতা নিয়ে নতুন করে প্রশ্নের জন্ম দিচ্ছে। ইরানের বিরুদ্ধে ওয়াশিংটনের নেওয়া কঠোর পদক্ষেপগুলোতে প্যারিসের এই অনীহা প্রমান করে যে, ইসরায়েল-ইরান ইস্যুতে পশ্চিমাবিশ্ব এখন দ্বিধাবিভক্ত।
ফ্রান্সের আকাশপথ বন্ধ করে দেওয়ার এই সিদ্ধান্ত কেবল একটি কৌশলগত বাধাই নয়, বরং এটি আন্তর্জাতিক রাজনীতির একটি শক্তিশালী বার্তা। ট্রাম্পের কড়া সমালোচনা সত্ত্বেও প্যারিস যদি তার অবস্থানে অনড় থাকে, তবে অদূর ভবিষ্যতে ট্রান্স-আটলান্টিক সম্পর্কের সমীকরণ আমূল বদলে যেতে পারে। মধ্যপ্রাচ্যের রণক্ষেত্রে যখন বারুদের গন্ধ তীব্র হচ্ছে, তখন পশ্চিমা মিত্রদের এই অভ্যন্তরীণ কোন্দল বিশ্বশান্তির জন্য এক নতুন চ্যালেঞ্জ হয়ে দেখা দিয়েছে।
তথ্যসূত্র: এপি
সম্পাদক ও প্রকাশক: মো. আলী হোসেন
যোগাযোগ: +880244809006 ,01922575574
ই-মেইল: [email protected]
ঠিকানা: ২২০/১ (৫ম তলা), বেগম রোকেয়া সরণি, তালতলা, আগারগাঁও, পশ্চিম কাফরুল, ঢাকা-১২০৭
© 2026 National Tribune All Rights Reserved. Design & Developed By Root Soft Bangladesh
