ইসরায়েলের বাইত শেম্শ এলাকায় আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ভেদ করে ধেয়ে আসা একটি ইরানি ক্ষেপণাস্ত্রের বিস্ফোরণের মুহূর্ত। ভিডিও থেকে নেওয়া ছবি: সংগৃহীত
মধ্যপ্রাচ্যের রণক্ষেত্রে চরম উত্তেজনা ছড়িয়ে দিয়ে ইসরায়েলের অভ্যন্তরে শক্তিশালী ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে ইরান। সামরিক কঠোর সেন্সরশিপ ও তথ্যপ্রবাহে কড়াকড়ি থাকা সত্ত্বেও ইসরায়েলি ভূখণ্ডে ক্ষেপণাস্ত্র পতনের একাধিক চিত্র সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। একই সঙ্গে লেবানন সীমান্তে হিজবুল্লাহর অতর্কিত স্থল-অভিযানে বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির মুখে পড়েছে ইসরায়েলি সেনাবাহিনী (আইডিএফ)।
সংঘাতের এই নতুন মোড় পুরো অঞ্চলের স্থিতিশীলতাকে এক অনিশ্চিত ভবিষ্যতের দিকে ঠেলে দিয়েছে। বিশেষ করে ইসরায়েলের প্রাণকেন্দ্র হিসেবে পরিচিত অঞ্চলে ইরানি ক্ষেপণাস্ত্রের সফল আঘাত হানার ঘটনা দেশটির তথাকথিত অভেদ্য আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার কার্যকারিতা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলছে।
মঙ্গলবার গভীর রাতে ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যমগুলো অধিকৃত অঞ্চলের কেন্দ্রীয় অংশে ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হানার বিষয়টি নিশ্চিত করে। যদিও ইসরায়েলি সামরিক কর্তৃপক্ষ ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ গোপন রাখার চেষ্টা করছে, তবে ইন্টারনেটে ছড়িয়ে পড়া ভিডিও চিত্রে দেখা যায়, ইরানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রগুলো অত্যাধুনিক প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে ফাঁকি দিয়ে লক্ষ্যবস্তুতে আছড়ে পড়ছে।
সবচেয়ে চাঞ্চল্যকর তথ্য হলো, পবিত্র বায়তুল মুকাদ্দাস (জেরুজালেম) সংলগ্ন ‘বাইত শেম্শ’ এলাকায় একাধিক ক্ষেপণাস্ত্র সরাসরি আঘাত হেনেছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের ক্যামেরায় ধারণ করা ভিডিওতে দেখা যায়, আকাশ থেকে ধেয়ে আসা আগুনের গোলার মতো ক্ষেপণাস্ত্রগুলো মাটির স্পর্শে বিশাল বিস্ফোরণ ঘটাচ্ছে। প্রাথমিক তথ্যানুযায়ী, এই হামলায় সামরিক স্থাপনাগুলো লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে কি না, তা যাচাই করা হচ্ছে।
কেবল ইরান নয়, ইসরায়েলের ওপর যৌথভাবে চাপের সৃষ্টি করছে আঞ্চলিক প্রতিরোধ অক্ষ। ইয়েমেনের আনসারুল্লাহ (হুথি) বাহিনী এবং লেবাননের হিজবুল্লাহর ক্ষেপণাস্ত্র হামলা এখন নিয়মিত ঘটনায় পরিণত হয়েছে।
বিশেষ করে দক্ষিণ লেবানন সীমান্তে ইসরায়েলি স্থলবাহিনীর জন্য বিভীষিকা হয়ে দাঁড়িয়েছে হিজবুল্লাহর যোদ্ধারা। সীমান্ত এলাকায় হিজবুল্লাহর অতর্কিত স্থল-হামলায় সম্প্রতি বিপুল সংখ্যক ইসরায়েলি সেনা হতাহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। সামরিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, হিজবুল্লাহর উন্নত গরিলা যুদ্ধকৌশল ইসরায়েলি কমান্ডোদের অগ্রযাত্রাকে কেবল থমকে দেয়নি, বরং বড় ধরনের জনবল সংকটের মুখে ফেলেছে।
মধ্যপ্রাচ্যের এই সংকট এখন আর কেবল সীমান্ত সংঘর্ষে সীমাবদ্ধ নেই। ইরানের সরাসরি হস্তক্ষেপ এবং ইয়েমেন-লেবানন থেকে আসা সমন্বিত হামলা প্রমাণ করছে যে, ইসরায়েল এখন একটি দীর্ঘস্থায়ী বহুমুখী যুদ্ধের কবলে পড়েছে।
যদিও ইসরায়েল সরকার এখনও ক্ষয়ক্ষতির সুনির্দিষ্ট পরিসংখ্যান দেয়নি, তবে তেল আবিব ও জেরুজালেমের নিকটবর্তী অঞ্চলে ক্ষেপণাস্ত্রের বিস্ফোরণ দেশটির জনমনে গভীর আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় যুদ্ধবিরতির আহ্বান জানালেও সংঘাতের তীব্রতা হ্রাসের কোনো লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না।
ইরানি ক্ষেপণাস্ত্রের আকাশ কাঁপানো শব্দ এবং হিজবুল্লাহর স্থল-হামলার প্রচণ্ডতা—সব মিলিয়ে মধ্যপ্রাচ্য এখন এক আগ্নেয়গিরির ওপর দাঁড়িয়ে। শক্তির ভারসাম্য পরিবর্তনের এই লড়াই কেবল সামরিক বিজয় নয়, বরং অঞ্চলের রাজনৈতিক মানচিত্রও বদলে দিতে পারে। বিশ্বের পরাশক্তিগুলো যদি অবিলম্বে কার্যকর কূটনৈতিক পদক্ষেপ না নেয়, তবে এই সংঘাতের দাবানল মধ্যপ্রাচ্যের সীমানা ছাড়িয়ে বৈশ্বিক সংকটে রূপ নিতে বেশি সময় নেবে না।
বিষয় : ক্ষেপণাস্ত্র ইরান
সম্পাদক ও প্রকাশক: মো. আলী হোসেন
যোগাযোগ: +880244809006 ,01922575574
ই-মেইল: [email protected]
ঠিকানা: ২২০/১ (৫ম তলা), বেগম রোকেয়া সরণি, তালতলা, আগারগাঁও, পশ্চিম কাফরুল, ঢাকা-১২০৭
© 2026 National Tribune All Rights Reserved. Design & Developed By Root Soft Bangladesh
