× প্রচ্ছদ জাতীয় রাজনীতি অর্থনীতি সারাদেশ আন্তর্জাতিক খেলা বিনোদন ফিচার প্রবাস সকল বিভাগ
ছবি ভিডিও লাইভ লেখক আর্কাইভ

মধ্যপ্রাচ্য সংকটে চীন ও পাকিস্তানের যৌথ উদ্যোগ, যুদ্ধ বন্ধে ৫ দফা শান্তি প্রস্তাব

ন্যাশনাল ট্রিবিউন ডেস্ক

০১ এপ্রিল ২০২৬, ০০:৫৩ এএম । আপডেটঃ ০১ এপ্রিল ২০২৬, ০১:৫৯ এএম

ইসহাক দার ও ওয়াং ই। ছবি: পিআইডি

মধ্যপ্রাচ্যে ইরান, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের মধ্যে ক্রমবর্ধমান সংঘাত নিরসনে একটি সমন্বিত কূটনৈতিক প্রচেষ্টা শুরু করেছে পাকিস্তান ও চীন। মঙ্গলবার বেইজিংয়ে পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দার এবং চীনা পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই-র মধ্যে উচ্চপর্যায়ের এক বৈঠকের পর পাঁচ দফার একটি ঐতিহাসিক শান্তি প্রস্তাব ঘোষণা করা হয়। দীর্ঘস্থায়ী এই যুদ্ধ বন্ধে এশিয় অঞ্চলের দুই পরমাণু শক্তিধর দেশের এই পদক্ষেপকে বিশ্ব রাজনীতির পটপরিবর্তনে এক নতুন মোড় হিসেবে দেখা হচ্ছে।

বৈঠক শেষে চীনা পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে জানানো হয়, এই শান্তি প্রস্তাবের মূল ভিত্তি হলো অবিলম্বে রক্তক্ষয়ী সংঘাতের অবসান এবং সংলাপে ফেরা। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ান-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, মধ্যস্থতাকারী হিসেবে পাকিস্তানের ঝিমিয়ে পড়া কূটনৈতিক প্রচেষ্টায় বেইজিংয়ের পূর্ণ সমর্থন আদায়ে এই সফরটি ছিল অত্যন্ত সময়োপযোগী ও কৌশলগত।

ঘোষিত পাঁচ দফা প্রস্তাবের মধ্যে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে অবিলম্বে যুদ্ধবিরতি এবং বিশ্ব অর্থনীতির লাইফলাইন হিসেবে পরিচিত হরমুজ প্রণালিসহ অবরুদ্ধ নৌপথগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ওপর। পাকিস্তান ও চীন যৌথভাবে একমত হয়েছে যে, সামরিক শক্তি প্রদর্শন নয়, বরং সংলাপ ও কূটনীতিই এই দীর্ঘস্থায়ী সংঘাত নিরসনের একমাত্র কার্যকর পথ।

বেইজিং শুরু থেকেই এই সংকটে এক ধরনের সতর্ক কৌশলগত দূরত্ব বজায় রাখছে। ইরানের তেলের বৃহত্তম ক্রেতা হওয়া সত্ত্বেও চীনের মূল উদ্বেগ হরমুজ প্রণালি দিয়ে তাদের তেলবাহী জাহাজের অবাধ চলাচল নিশ্চিত করা। অন্যদিকে, পাকিস্তান এই সংকট নিরসনে নিজেকে এক প্রভাবশালী মধ্যস্থতাকারী হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে চাইছে।

বিশ্লেষকদের মতে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে সুসম্পর্ক স্থাপন এবং মুসলিম বিশ্বে নিজেদের হারানো প্রভাব পুনরুদ্ধারের এটাই বড় সুযোগ ইসলামাবাদের সামনে। পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ ও সেনাপ্রধান আসিম মুনির সরাসরি ট্রাম্প ও ইরানি প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন।

রাজনৈতিক বিশ্লেষক রফিউল্লাহ কাকার এ প্রসঙ্গে বলেন: "ইসলামাবাদ এখন নিজেকে ওয়াশিংটন ও উপসাগরীয় দেশগুলোর কাছে একটি অপরিহার্য ভূ-রাজনৈতিক শক্তি হিসেবে তুলে ধরতে চাইছে। তবে এই কূটনৈতিক তৎপরতার পেছনে পাকিস্তানের নিজস্ব গভীর নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক উদ্বেগ কাজ করছে।"

পাকিস্তানের এই সক্রিয়তার পেছনে মূলত তিনটি কারণ কাজ করছে:

  1. সীমান্ত নিরাপত্তা: ইরানের সঙ্গে পাকিস্তানের ৯০০ কিলোমিটার দীর্ঘ সীমান্ত রয়েছে। যুদ্ধের আঁচ অশান্ত বেলুচিস্তানে পড়ার প্রবল আশঙ্কা রয়েছে।
  2. অর্থনৈতিক ধস: হরমুজ প্রণালি বন্ধ থাকায় পাকিস্তানের আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্য প্রায় স্থবির হয়ে পড়েছে।
  3. সাম্প্রদায়িক অস্থিরতা: ইরানের বাইরে পাকিস্তানেই সবচেয়ে বেশি শিয়া মুসলিমের বসবাস। তেহরানে হামলার প্রতিবাদে পাকিস্তানে ইতিমধ্যে বিক্ষোভ ও প্রাণহানি ঘটেছে।


মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আলোচনার অগ্রগতিকে 'চমৎকার' বলে দাবি করলেও তেহরান এখনো সরাসরি আলোচনার বিষয়টি অস্বীকার করছে। এমন পরিস্থিতিতে চীন ও পাকিস্তানের এই যৌথ উদ্যোগ যুদ্ধের প্রধান পক্ষগুলোকে আলোচনার টেবিলে আনতে কতটা সফল হবে, তা নিয়ে সংশয় কাটেনি।

বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন যে, সৌদি আরবের সঙ্গে সাম্প্রতিক প্রতিরক্ষা চুক্তির কারণে পাকিস্তান অনিচ্ছাসত্ত্বেও এই যুদ্ধে জড়িয়ে পড়ার ঝুঁকিতে রয়েছে। রফিউল্লাহ কাকারের মতে, ইরানে কোনো বড় ধরনের অস্থিরতা তৈরি হলে তা সরাসরি পাকিস্তানের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা ও সামাজিক স্থিতিশীলতাকে বিপন্ন করবে।

চীন ও পাকিস্তানের এই ৫ দফা প্রস্তাব কি পারবে মধ্যপ্রাচ্যের বারুদের স্তূপে শান্তির জল ঢালতে? নাকি এটি কেবল আরেকটি ব্যর্থ কূটনৈতিক প্রচেষ্টা হিসেবে ইতিহাসে জায়গা করে নেবে—এখন সেদিকেই তাকিয়ে আছে বিশ্ব সম্প্রদায়।

National Tribune

সম্পাদক ও প্রকাশক: মো. আলী হোসেন

যোগাযোগ: +880244809006 ,01922575574

ই-মেইল: [email protected]

ঠিকানা: ২২০/১ (৫ম তলা), বেগম রোকেয়া সরণি, তালতলা, আগারগাঁও, পশ্চিম কাফরুল, ঢাকা-১২০৭

আমাদের সঙ্গে থাকুন

© 2026 National Tribune All Rights Reserved.