× প্রচ্ছদ জাতীয় রাজনীতি অর্থনীতি সারাদেশ আন্তর্জাতিক খেলা বিনোদন ফিচার প্রবাস সকল বিভাগ
ছবি ভিডিও লাইভ লেখক আর্কাইভ

ইরানে সেনা না পাঠানোর ঘোষণা ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী স্টারমারের

ন্যাশনাল ট্রিবিউন ডেস্ক

৩০ মার্চ ২০২৬, ২২:২৮ পিএম । আপডেটঃ ৩০ মার্চ ২০২৬, ২২:২৮ পিএম

ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার। ছবি: রয়টার্স

মধ্যপ্রাচ্যের ক্রমবর্ধমান সংঘাতের কেন্দ্রবিন্দুতে থাকা ইরানের বিরুদ্ধে সরাসরি কোনো স্থলযুদ্ধে অংশ না নেওয়ার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত ঘোষণা করেছে যুক্তরাজ্য। আজ সকালে ডাউনিং স্ট্রিটে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, ব্রিটিশ সেনাদের ইরানে পাঠানোর কোনো পরিকল্পনা তাঁর সরকারের নেই। তবে সরাসরি যুদ্ধে জড়াতে অস্বীকৃতি জানালেও মধ্যপ্রাচ্যে নিজেদের কৌশলগত স্বার্থ ও নৌপথের নিরাপত্তা রক্ষায় ‘প্রতিরক্ষামূলক’ সামরিক তৎপরতা অব্যাহত রাখার ইঙ্গিত দিয়েছেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রী স্টারমারের এই বক্তব্য এমন এক সময়ে এলো যখন মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিরতা বিশ্বব্যাপী নতুন উত্তাপ ছড়াচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী তাঁর বক্তব্যে স্পষ্ট করেন যে, ব্রিটেনের অগ্রাধিকার হলো নিজেদের নাগরিক ও মিত্র দেশগুলোর সুরক্ষা নিশ্চিত করা। তিনি বলেন, "এটি আমাদের যুদ্ধ নয় এবং আমরা এতে সরাসরি জড়িয়ে পড়ব না। তবে আমাদের নাগরিকদের জীবন রক্ষা এবং মধ্যপ্রাচ্যে আমাদের অংশীদারদের সুরক্ষায় ব্রিটেন প্রয়োজনীয় প্রতিরক্ষামূলক পদক্ষেপ গ্রহণ করে যাবে।"

বিশেষ করে বিশ্ব বাণিজ্যের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ পথ হরমুজ প্রণালি পুনরায় চলাচলের জন্য নিরাপদ ও উন্মুক্ত করতে ব্রিটেনের সামরিক ও কূটনৈতিক প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকবে বলে তিনি জোর দিয়ে জানান।

সরাসরি সেনা মোতায়েন নাকচ করে দিলেও ব্রিটেন যে এই সংঘাতে একেবারে নিরপেক্ষ থাকছে না, তা স্পষ্ট। স্টারমার সরকারের পক্ষ থেকে কৌশলগতভাবে বড় ধরনের সামরিক সহায়তার পথ খোলা রাখা হয়েছে। এর মধ্যে প্রধান দুটি পদক্ষেপ হলো:

  • ঘাঁটি ব্যবহারের অনুমতি: ইরানের নির্দিষ্ট সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে হামলার সুবিধার্থে যুক্তরাষ্ট্রকে ব্রিটিশ সামরিক ঘাঁটি ব্যবহারের পূর্ণ অনুমতি দিয়েছে লন্ডন।


  • আকাশপথের পাহারা: ইরানের ছোড়া ড্রোন বা ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করতে মধ্যপ্রাচ্যের আকাশে ইতিমধ্যে ব্রিটিশ যুদ্ধবিমান মোতায়েন করা হয়েছে, যা মিত্রদের আকাশপথের নিরাপত্তায় সক্রিয় ভূমিকা রাখছে।

কূটনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, স্টারমারের এই ঘোষণা একদিকে যেমন নিজ দেশে যুদ্ধবিরোধী জনমতকে শান্ত করার একটি প্রয়াস, অন্যদিকে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে মিত্রদের প্রতি সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেওয়ার কৌশল। সরাসরি যুদ্ধে অংশগ্রহণ না করার এই ‘ভারসাম্যপূর্ণ অবস্থান’ ব্রিটেনকে মধ্যপ্রাচ্যের বৃহত্তর ভূ-রাজনীতিতে কতটুকু সুবিধা দেবে, তা সময় বলে দেবে। তবে হরমুজ প্রণালিকে কেন্দ্র করে ব্রিটিশ নৌ-শক্তির সক্রিয়তা ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, সরাসরি যুদ্ধ না হলেও অঞ্চলটিতে ব্রিটেনের সামরিক উপস্থিতি শিথিল হচ্ছে না।

পরিশেষে, ব্রিটেনের এই সতর্ক অবস্থান মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিতিশীল পরিস্থিতির গভীরতাকে যেমন ফুটিয়ে তোলে, তেমনি বৃহৎ শক্তির দেশগুলোর সরাসরি যুদ্ধে জড়িয়ে পড়ার ক্রমবর্ধমান ঝুঁকিকেও নির্দেশ করে।


তথ্যসূত্র: আল-জাজিরা

National Tribune

সম্পাদক ও প্রকাশক: মো. আলী হোসেন

যোগাযোগ: +880244809006 ,01922575574

ই-মেইল: [email protected]

ঠিকানা: ২২০/১ (৫ম তলা), বেগম রোকেয়া সরণি, তালতলা, আগারগাঁও, পশ্চিম কাফরুল, ঢাকা-১২০৭

আমাদের সঙ্গে থাকুন

© 2026 National Tribune All Rights Reserved.