মার্কিন কংগ্রেসের মুসলিম সদস্য ইলহান ওমর।
মার্কিন রাজনীতির অলিন্দে এখন বইছে তীব্র সমালোচনার ঝড়। একদিকে কংগ্রেসের প্রখর যুক্তি, অন্যদিকে রূপালী পর্দার কিংবদন্তির নৈতিক অবস্থান—উভয়ই বিদ্ধ করছে ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসনকে। কংগ্রেস সদস্য ইলহান ওমর ও অস্কারজয়ী অভিনেতা রবার্ট ডি নিরো পৃথক বার্তায় বর্তমান প্রশাসনের বিরুদ্ধে ‘সীমাহীন ক্ষমতার অপব্যবহার’, ‘স্বৈরতান্ত্রিক আচরণ’ এবং ‘দুর্নীতির’ গুরুতর অভিযোগ এনেছেন। তাদের মতে, আমেরিকা আজ এক সংকটময় সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে, যেখানে সত্য ও গণতন্ত্রের ভিত্তিই নড়বড়ে হয়ে পড়েছে।
মার্কিন কংগ্রেসের আলোচিত মুসলিম সদস্য ইলহান ওমর ট্রাম্প প্রশাসনের প্রতিটি পদক্ষেপকে ‘মিথ্যাচার’ ও ‘অক্ষমতার’ সংমিশ্রণ হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন। ইরানের বার্তা সংস্থা ইরনার বরাতে জানা যায়, ইলহান অভিযোগ করেছেন যে, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প আমেরিকার সেই শক্তি ও আদর্শিক ভিত্তিকেই ধ্বংস করে দিচ্ছেন, যা দেশটিকে বিশ্বমঞ্চে অনন্য করেছিল।
তার মতে, কিউবা বা গ্রিনল্যান্ডের মতো অঞ্চল দখলের অবৈধ আকাঙ্ক্ষাকে যেভাবে ‘স্বাভাবিক’ হিসেবে উপস্থাপন করা হচ্ছে, তা আন্তর্জাতিক রীতির চরম লঙ্ঘন। ইলহান বলেন, “কথিত যুদ্ধবিরোধী ট্রাম্পের নেতৃত্বে আমরা আজ ইরান, ভেনেজুয়েলা ও ইকুয়েডরে সামরিক আগ্রাসনের সাক্ষী হচ্ছি। এটি ক্ষমতার চরম অপব্যবহার।” মার্কিন জনগণের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি কঠোর ভাষায় বলেন, “আমেরিকা কোনো রাজাদের দেশ নয়। এ ধরণের স্বৈরতান্ত্রিক আচরণ এদেশের মানুষ আর সহ্য করবে না।”
হলিউড কিংবদন্তি রবার্ট ডি নিরো বরাবরই ট্রাম্পের কট্টর সমালোচক হিসেবে পরিচিত। এবার তিনি আরও সরাসরি ও তীক্ষ্ণ আক্রমণ শাণিয়েছেন। ডি নিরোর মতে, ট্রাম্প এবং তার ‘দুর্নীতিগ্রস্ত সহযোগীদের’ থামানোর সময় এখনই।
তিনি বলেন, “যথেষ্ট হয়েছে! অনর্থক যুদ্ধ আমাদের জাতীয় সম্পদ লুট করছে, অকাতরে প্রাণ যাচ্ছে আমাদের সেনাদের এবং অগণিত নিরপরাধ মানুষের। এই নেতৃত্ব কেবল নিজেদের এবং জেফরি এপস্টাইনের মতো অসাধু বন্ধুদের পকেট ভারি করছে।” ডি নিরো ট্রাম্পের চারপাশের রাজনৈতিক সহযোগীদেরও কাঠগড়ায় দাঁড় করিয়েছেন। তার মতে, ক্ষমতার মোহ আর চাকরি হারানোর ভয়ে কংগ্রেসের একদল নেতা এই ‘শয়তানি কাজে’ ইন্ধন জোগাচ্ছেন। তাদের নীরবতা ও সমর্থনই ট্রাম্পকে বেপরোয়া করে তুলেছে।
ইলহান ওমরের রাজনৈতিক বিশ্লেষণ আর রবার্ট ডি নিরোর আবেগঘন প্রতিবাদ—উভয়ই আমেরিকার অভ্যন্তরীণ ও বৈদেশিক নীতির এক অন্ধকার দিক উন্মোচন করেছে। মিথ্যাচার ও দুর্নীতির যে বলয় ওয়াশিংটনের ক্ষমতাকে আষ্টেপৃষ্ঠে জড়িয়ে ধরেছে, তা ভাঙতে এখন সাধারণ মানুষের প্রতিরোধের ওপর জোর দিচ্ছেন বিশ্লেষকরা। ইতিহাসের এই ক্রান্তিলগ্নে দাঁড়িয়ে বিশ্ব দেখছে, আমেরিকার খোদ অন্দরমহল থেকেই পরিবর্তনের দাবি কীভাবে উত্তাল হয়ে উঠছে। সত্য ও দুর্নীতির এই লড়াই কেবল ক্ষমতার পালাবদল নয়, বরং আমেরিকার দীর্ঘদিনের গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ পুনরুদ্ধারের সংগ্রাম হিসেবেই বিবেচিত হচ্ছে।
সম্পাদক ও প্রকাশক: মো. আলী হোসেন
যোগাযোগ: +880244809006 ,01922575574
ই-মেইল: [email protected]
ঠিকানা: ২২০/১ (৫ম তলা), বেগম রোকেয়া সরণি, তালতলা, আগারগাঁও, পশ্চিম কাফরুল, ঢাকা-১২০৭
© 2026 National Tribune All Rights Reserved. Design & Developed By Root Soft Bangladesh
