× প্রচ্ছদ জাতীয় রাজনীতি অর্থনীতি সারাদেশ আন্তর্জাতিক খেলা বিনোদন ফিচার প্রবাস সকল বিভাগ
ছবি ভিডিও লাইভ লেখক আর্কাইভ

ইসরায়েলি আকাশ-প্রতিরক্ষায় ফাটল ধরাচ্ছে ইরান

ন্যাশনাল ট্রিবিউন ডেস্ক

২৯ মার্চ ২০২৬, ০১:৫৩ এএম । আপডেটঃ ২৯ মার্চ ২০২৬, ০১:৫৪ এএম

ইরানের হামলার পর ইসরায়েলের উত্তরাঞ্চলের বন্দরনগরী হাইফায় আগুন জ্বলতে দেখা যায়। ১৬ জুন। ছবি: এএফপি

রাতের আকাশে ইন্টারসেপ্টর ক্ষেপণাস্ত্রের আলোর বিচ্ছুরণ যখন দক্ষিণ ইসরায়েলের আকাশকে মোহনীয় করে তোলে, ৫৪ বছর বয়সী ডেভিড আজরানের মতো বাসিন্দারা তখন বারান্দায় দাঁড়িয়ে সেই দৃশ্য দেখেন। দীর্ঘকাল ধরে ইসরায়েলিদের মনে বিশ্বাস ছিল—তাঁদের আকাশ এক অভেদ্য ‘আয়রন ডোম’ বা ‘ডেভিডস স্লিং’ দিয়ে ঘেরা। কিন্তু গত শনিবার রাতে সেই বিশ্বাসের ভিত নড়ে গেছে। ইরানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র যখন সুরক্ষিত ডিমোনা ও আরাদের আবাসিক এলাকায় আঘাত হেনে জানালা চুরমার করে দিচ্ছিল, তখন উদগত প্রশ্নটি ছিল স্পষ্ট: বিশ্বের অন্যতম সেরা আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা কি তবে ভেঙে পড়ছে?

ওয়াশিংটন পোস্টের এক বিশেষ প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, ইসরায়েলের এই সুরক্ষাকবচ ধরে রাখতে পেন্টাগনকে গত দুই দিনেই খরচ করতে হয়েছে ৫৬০ কোটি ডলার মূল্যের গোলাবারুদ। পেন্টাগনের তিনজন শীর্ষ কর্মকর্তার তথ্যমতে, ইন্টারসেপ্টর ক্ষেপণাস্ত্রের এই আকাশচুম্বী ব্যয় এবং ক্রমবর্ধমান চাহিদার কারণে ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী এখন গভীর সংকটে। একটি ‘অ্যারো’ ক্ষেপণাস্ত্রের দাম যেখানে ৩০ লাখ ডলার, সেখানে ইরানের একেকটি ড্রোন বা সাধারণ রকেট ধ্বংস করতে এই ব্যয়বহুল প্রযুক্তির ব্যবহার কি দীর্ঘমেয়াদি যুদ্ধে টেকসই?

ইসরায়েলি বিমান ও ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা বাহিনীর সাবেক কমান্ডার রান কোচাভ স্বীকার করেছেন, “আমাদের ইন্টারসেপ্টরের মজুতের হিসাব রাখতে হয় এবং যুদ্ধের ময়দানে তাৎক্ষণিক সিদ্ধান্ত নিতে হয়।” বিশ্লেষকদের মতে, স্পর্শকাতর পারমাণবিক স্থাপনা সমৃদ্ধ ডিমোনায় ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করতে না পারা মূলত ‘সাশ্রয় নীতি’ না কি ‘কারিগরি ব্যর্থতা’, তা নিয়ে আইডিএফ ধোঁয়াশা বজায় রেখেছে।

ইরানি স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ঘোষণা করেছেন, “ইসরায়েলের আকাশ এখন অরক্ষিত।” যদিও ইসরায়েলি গবেষক ইয়েহুশুয়া কালিস্কি একে ‘পরিসংখ্যানগত ত্রুটি’ বলে অভিহিত করেছেন। তাঁর মতে, ধেয়ে আসা ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ঠেকানো অনেকটা “চলন্ত বুলেটের পিঠে নিজের পিস্তল দিয়ে গুলি করার মতো” জটিল।

তবে আতঙ্কের মাত্রা বাড়িয়ে দিয়েছে ইরানের সাম্প্রতিক দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা। গত শুক্রবার তেহরান প্রায় ২,৫০০ মাইল দূরে ভারত মহাসাগরের ডিয়েগো গার্সিয়া দ্বীপে মার্কিন-ব্রিটিশ যৌথ ঘাঁটিতে হামলা চালানোর চেষ্টা করেছে। এতে ইউরোপীয় শহরগুলো এখন হঠাৎ করেই ইরানি ক্ষেপণাস্ত্রের নাগালে চলে এসেছে। জ্যেষ্ঠ ফেলো জেসন এইচ ক্যাম্পবেল সতর্ক করেছেন যে, ইরান যদি তাদের ধারণার চেয়ে বেশি দূরপাল্লার সক্ষমতা অর্জন করে থাকে, তবে ন্যাটো ও পেন্টাগনকে তাদের সম্পূর্ণ যুদ্ধকৌশল নতুন করে সাজাতে হবে।

ইসরায়েলের আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা ৯২ শতাংশ সফলতার দাবি করলেও, অবশিষ্টাংশের ফলাফল কতটা ভয়াবহ হতে পারে, তার সাক্ষী ডিমোনার ধ্বংসস্তূপ। ৩,০০০ থেকে ৫,০০০ ক্ষেপণাস্ত্রের একযোগে আঘাত সইবার ক্ষমতা বর্তমান কোনো ব্যবস্থারই নেই। ইরান যদি তাদের উৎপাদনব্যবস্থা দ্রুত সচল করে এই সংখ্যা ছাড়িয়ে যায়, তবে কেবল প্রযুক্তি দিয়ে আকাশ রক্ষা করা অসম্ভব হয়ে পড়বে। মধ্যপ্রাচ্যের এই ছায়াযুদ্ধ এখন কেবল রণক্ষেত্রের সীমানা ছাড়িয়ে বৈশ্বিক নিরাপত্তার এক নতুন এবং অনিশ্চিত সমীকরণ তৈরি করেছে।



তথ্যসূত্র: ওয়াশিংটন পোস্ট

National Tribune

সম্পাদক ও প্রকাশক: মো. আলী হোসেন

যোগাযোগ: +880244809006 ,01922575574

ই-মেইল: [email protected]

ঠিকানা: ২২০/১ (৫ম তলা), বেগম রোকেয়া সরণি, তালতলা, আগারগাঁও, পশ্চিম কাফরুল, ঢাকা-১২০৭

আমাদের সঙ্গে থাকুন

© 2026 National Tribune All Rights Reserved.