× প্রচ্ছদ জাতীয় রাজনীতি অর্থনীতি সারাদেশ আন্তর্জাতিক খেলা বিনোদন ফিচার প্রবাস সকল বিভাগ
ছবি ভিডিও লাইভ লেখক আর্কাইভ

দুবাইয়ে মার্কিন অবস্থানে ইরানের ভয়াবহ আঘাত, কয়েকশ সেনার প্রাণহানি

ন্যাশনাল ট্রিবিউন ডেস্ক

২৯ মার্চ ২০২৬, ০১:২৭ এএম । আপডেটঃ ২৯ মার্চ ২০২৬, ০১:২৮ এএম

লেফটেন্যান্ট কর্নেল ইব্রাহিম জুলফাকারি।

মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনৈতিক মানচিত্রকে এক রক্তক্ষয়ী মোড়ে দাঁড় করিয়ে সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাইয়ে অবস্থানরত কয়েকশ মার্কিন সেনার ওপর সিরিজ ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি)। শনিবার ভোরে পরিচালিত এই নিখুঁত অভিযানে নিহতের সংখ্যা কয়েকশ ছাড়াতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। তেহরানের ‘খাতামুল আম্বিয়া’ (আ.) কেন্দ্রীয় সদর দপ্তর থেকে দেওয়া এক কঠোর বার্তায় এই অঞ্চলকে মার্কিন সেনাদের জন্য ‘কবরস্থান’ হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে, যা বিশ্বজুড়ে এক প্রলয়ঙ্করী যুদ্ধের দামামা বাজিয়ে দিয়েছে।

আইআরজিসি-র অ্যারোস্পেস ও নৌ-বাহিনীর সমন্বিত এই হামলার বিস্তারিত তুলে ধরে লেফট্যানেন্ট কর্নেল ইব্রাহিম জুলফাকারি জানান, মার্কিন বাহিনী তাদের নিয়মিত ঘাঁটি ছেড়ে দুবাইয়ের দুটি ভিন্ন স্থানে আত্মগোপন করেছিল। এর মধ্যে একটি স্থানে ৪০০ এবং অন্যটিতে ১০০-এর বেশি সেনা অবস্থান করছিল। গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে ইরানের ‘নির্ভুল’ ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন বহর উভয় আস্তানাকে মুহূর্তেই ধ্বংসস্তূপে পরিণত করে। প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্রগুলো জানিয়েছে, হামলার পর কয়েক ঘণ্টা ধরে অ্যাম্বুলেন্সের বহর উচ্চপদস্থ কমান্ডারসহ আহত ও নিহত সেনাদের সরিয়ে নিতে ব্যস্ত ছিল।

এই অভিযানকে কেবল একটি পাল্টা হামলা নয়, বরং মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জন্য এক চূড়ান্ত সতর্কবার্তা হিসেবে দেখছে তেহরান। বিবৃতিতে সাফ জানানো হয়েছে, পেন্টাগনের সামনে এখন কেবল দুটি পথ খোলা—হয় নিঃশর্ত আত্মসমর্পণ, নয়তো এই অঞ্চলের তপ্ত বালিতে সেনাদের চিরস্থায়ী সমাধি। ইরানের এই অনমনীয় অবস্থান ওয়াশিংটনের সামরিক কৌশলে এক চরম অস্থিরতা তৈরি করেছে।

দুবাইয়ের হামলার রেশ কাটতে না কাটতেই ওমানের সালালাহ বন্দর সংলগ্ন গভীর সমুদ্রে মার্কিন সামরিক বাহিনীর একটি গুরুত্বপূর্ণ সহায়তা জাহাজকে লক্ষ্যবস্তু করে ইরান। তবে এই অভিযানের ক্ষেত্রে ওমানের সার্বভৌমত্বের প্রতি বিশেষ শ্রদ্ধা প্রদর্শন করে তেহরান জানিয়েছে, ভ্রাতৃপ্রতিম ওমান রাষ্ট্রের কোনো স্বার্থ ক্ষুণ্ণ করা তাদের উদ্দেশ্য নয়, বরং লক্ষ্য কেবল মার্কিন সামরিক সক্ষমতাকে পঙ্গু করে দেওয়া।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের শান্তিপূর্ণ পারমাণবিক কর্মসূচির বিতর্ককে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যে ‘অবৈধ’ আগ্রাসন শুরু করেছিল, তার প্রতিক্রিয়ায় তেহরান এখন পূর্ণ মাত্রায় ‘বৈধ প্রতিরক্ষা’ নীতি গ্রহণ করেছে। বিশেষ করে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ সাইয়্যেদ আলী খামেনেয়ি ও শীর্ষ সামরিক কমান্ডারদের ওপর হামলার পর থেকে পশ্চিম এশিয়াজুড়ে মার্কিন ও ইসরায়েলি স্বার্থের ওপর আঘাত হানার ধারাবাহিকতা বজায় রেখেছে আইআরজিসি।

দুবাইয়ের এই রক্তক্ষয়ী অধ্যায় প্রমাণ করেছে যে, পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে মার্কিন সামরিক শ্রেষ্ঠত্ব এখন খাদের কিনারায়। ওয়াশিংটনের অত্যাধুনিক প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ইরানের সমন্বিত ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র প্রযুক্তির সামনে কতটা অসহায়, তা এই অভিযানে আবারও স্পষ্ট হলো। কূটনীতির পথ রুদ্ধ হয়ে যাওয়ায় এবং তেহরানের এই ‘ডু অর ডাই’ অবস্থানে বিশ্ব এখন এক অনির্দিষ্টকালের জ্বালানি সংকট ও বৈশ্বিক মহাপ্রলয়ের আশঙ্কায় প্রহর গুনছে।

National Tribune

সম্পাদক ও প্রকাশক: মো. আলী হোসেন

যোগাযোগ: +880244809006 ,01922575574

ই-মেইল: [email protected]

ঠিকানা: ২২০/১ (৫ম তলা), বেগম রোকেয়া সরণি, তালতলা, আগারগাঁও, পশ্চিম কাফরুল, ঢাকা-১২০৭

আমাদের সঙ্গে থাকুন

© 2026 National Tribune All Rights Reserved.