ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র।
সৌদি আরবের কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ প্রিন্স সুলতান বিমান ঘাঁটিতে ইরানের সাম্প্রতিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক শ্রেষ্ঠত্বের মিথকে বড় ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলেছে। এই হামলায় মার্কিন বাহিনীর অন্তত ১২ জন সদস্য গুরুতর আহত হওয়ার পাশাপাশি আকাশ-প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার অপূরণীয় ক্ষতি হয়েছে বলে জানা গেছে। মার্কিন গণমাধ্যম সিবিএস-এর এক বিশ্লেষণে দাবি করা হয়েছে, এই ঘটনা পেন্টাগনের ক্ষেপণাস্ত্র-বিধ্বংসী প্রযুক্তির ভয়াবহ ঘাটতিকে বিশ্বমঞ্চে উন্মোচিত করে দিয়েছে।
মার্কিন প্রভাবশালী সংবাদমাধ্যম ‘দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল’-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত শুক্রবারের হামলায় মার্কিন বাহিনীর বেশ কয়েকটি জ্বালানি পরিবহন বিমান ধ্বংস হয়েছে। হামলায় আহত ১২ সেনার মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা অত্যন্ত আশঙ্কাজনক। তবে সবচেয়ে বড় আঘাত এসেছে অঞ্চলের সুরক্ষা বর্ম হিসেবে পরিচিত ‘থাড’ ব্যবস্থার ওপর। পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে মোতায়েনকৃত ৫টি থাড ইউনিটের সবকটিই হয় সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়েছে অথবা ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। রাডার ও প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার এই পতন মার্কিন সামরিক কৌশলে এক নজিরবিহীন শূন্যতা তৈরি করেছে।
সিবিএস টেলিভিশন জানিয়েছে, এই হামলা কেবল ভৌত অবকাঠামো ধ্বংস করেনি, বরং মার্কিন আকাশ-প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার ‘মিসাইল ডিফিশিয়েন্সি’ বা ক্ষেপণাস্ত্র ঘাটতিকে জনসমক্ষে নিয়ে এসেছে। ওয়াশিংটনের আরব মিত্র দেশগুলোর মধ্যে এই ঘটনায় গভীর উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়েছে। বিশেষ করে যারা ইরানি হুমকির মুখে মার্কিন নিরাপত্তার ওপর নির্ভরশীল ছিল, তারা এখন নিজেদের সুরক্ষা নিয়ে নতুন করে ভাবছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে পেন্টাগন ইউক্রেন যুদ্ধক্ষেত্র থেকে কিছু রাডার ও আকাশ-প্রতিরক্ষা সিস্টেম মধ্যপ্রাচ্যে সরিয়ে আনার কথা গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করছে বলে বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে।
প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞদের মতে, ইউক্রেন থেকে প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম সরিয়ে আনার পরিকল্পনাটি ওয়াশিংটনের জন্য একটি ‘দ্বিমুখী সংকট’ তৈরি করতে পারে। একদিকে মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন ঘাঁটিগুলোর সুরক্ষা নিশ্চিত করা, অন্যদিকে ইউরোপে রুশ অগ্রযাত্রা রুখে দেওয়া—এই দুই ফ্রন্টে ভারসাম্য বজায় রাখা পেন্টাগনের জন্য কঠিন হয়ে পড়ছে। ইরানের এই সুনির্দিষ্ট আঘাত প্রমাণ করেছে যে, অত্যাধুনিক ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র প্রযুক্তির সমন্বয়ে তারা যেকোনো প্রথাগত প্রতিরক্ষা ব্যূহ ভেদ করার সক্ষমতা অর্জন করেছে।
সুলতান ঘাঁটির এই অগ্নিকাণ্ড ও ধ্বংসস্তূপ কেবল ১২ জন সেনার রক্তপাত নয়, বরং এটি বিশ্বশক্তির সমীকরণে একটি বড় ধরনের পরিবর্তনের ইঙ্গিত। মার্কিন আকাশ-প্রতিরক্ষার এই ফাটল যদি দ্রুত মেরামত করা না যায়, তবে পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে ওয়াশিংটনের প্রভাব ও মিত্রদের আস্থা—উভয়ই দীর্ঘস্থায়ী সংকটে নিপতিত হতে পারে। মধ্যপ্রাচ্যের আকাশ এখন কেবল বারুদ নয়, বরং মার্কিন শ্রেষ্ঠত্বের ভবিষ্যৎ নিয়ে এক বিশাল প্রশ্নচিহ্নে ঢাকা পড়ে গেছে।
বিষয় : ড্রোন যুক্তরাষ্ট্র ইরান
সম্পাদক ও প্রকাশক: মো. আলী হোসেন
যোগাযোগ: +880244809006 ,01922575574
ই-মেইল: [email protected]
ঠিকানা: ২২০/১ (৫ম তলা), বেগম রোকেয়া সরণি, তালতলা, আগারগাঁও, পশ্চিম কাফরুল, ঢাকা-১২০৭
© 2026 National Tribune All Rights Reserved. Design & Developed By Root Soft Bangladesh
