মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ছবি: রয়টার্স ফাইল ছবি
মধ্যপ্রাচ্যের আকাশজুড়ে যখন যুদ্ধের ঘনঘটা, ঠিক তখনই রণকৌশলে বড় ধরনের পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। দীর্ঘস্থায়ী সংঘাতের পথে না হেঁটে আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই ইরানের সাথে চলমান সামরিক অভিযানের পরিসমাপ্তি টানতে চান তিনি। প্রভাবশালী মার্কিন সংবাদমাধ্যম ‘দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল’-এর এক বিশেষ প্রতিবেদনে এই দাবি করা হয়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প তাঁর সহযোগীদের স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, তিনি ইরানে কোনো দীর্ঘমেয়াদি যুদ্ধে জড়াতে ইচ্ছুক নন। বরং জনসমক্ষে ইতিপূর্বে তিনি যে ‘চার থেকে ছয় সপ্তাহ’-এর সময়সীমা বেঁধে দিয়েছিলেন, সেই লক্ষ্যমাত্রার মধ্যেই অপারেশন শেষ করতে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নির্দেশ দিয়েছেন। হোয়াইট হাউসের অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, ট্রাম্প এই সংঘাতকে এখন ‘অন্তিম পর্যায়ে’ দেখছেন।
ট্রাম্পের এই যুদ্ধ শেষের তাড়াহুড়ার পেছনে মূলত কাজ করছে তাঁর রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক অগ্রাধিকার। তিনি মনে করেন, ইরানের এই সংঘাত তাঁকে জনগুরুত্বপূর্ণ অন্যান্য কাজ থেকে বিচ্যুত করছে। বিশেষ করে মার্কিন ভোটারদের উদ্বেগের কেন্দ্রবিন্দু—দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা রক্ষায় তিনি বেশি মনোযোগী হতে চান। তাঁর ঘনিষ্ঠ উপদেষ্টাদের একটি অংশও মনে করেন, যুদ্ধের চেয়ে এখন দেশের অভ্যন্তরীণ সমস্যা সমাধানে নজর দেওয়া বেশি জরুরি।
ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল আরও জানিয়েছে, আগামী মে মাসের মাঝামাঝি সময়ে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের চীন সফরের প্রস্তুতি নিচ্ছে হোয়াইট হাউস। ধারণা করা হচ্ছে, বেইজিংয়ের সাথে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনার টেবিলে বসার আগেই তিনি ইরানের ফ্রন্টলাইন থেকে মার্কিন মনোযোগ সরিয়ে নিতে চান। এই সফরকে সফল করতে যুদ্ধ বন্ধ করাকে তিনি কৌশলগতভাবে অপরিহার্য মনে করছেন।
উল্লেখ্য, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরান থেকে আসা ‘সম্ভাব্য ক্ষেপণাস্ত্র ও পারমাণবিক হুমকি’ মোকাবিলায় তেহরানসহ দেশটির প্রধান শহরগুলোতে যৌথ হামলা শুরু করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল। এই হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনিসহ শীর্ষস্থানীয় বেশ কয়েকজন নেতা নিহত হন।
জবাবে ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) ইসরায়েলের কৌশলগত স্থাপনা এবং বাহরাইন, জর্ডান, কুয়েত ও কাতারসহ মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে পাল্টা হামলা চালায়। এই রক্তক্ষয়ী সংঘাতের ফলে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দামে অস্থিরতা দেখা দিয়েছে, যা শেষ পর্যন্ত ট্রাম্পকে যুদ্ধ শেষের সিদ্ধান্ত নিতে প্রভাবিত করছে বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন।
ট্রাম্পের এই আকস্মিক ‘এক্সিট প্ল্যান’ বা যুদ্ধ থেকে বের হয়ে আসার পরিকল্পনা মধ্যপ্রাচ্যের মানচিত্রে নতুন কোনো বাঁক নিয়ে আসে কি না, এখন সেটিই দেখার বিষয়। যদি সত্যিই মে মাসের আগে সংঘাত থেমে যায়, তবে তা বিশ্ব অর্থনীতির জন্য স্বস্তির খবর হতে পারে। তবে ইরানের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক শূন্যতা এবং ইসরায়েলের অবস্থান এই শান্তি প্রক্রিয়ায় কতটা সহায়ক হবে, তা নিয়ে সংশয় থেকেই যাচ্ছে।
তথ্যসূত্র: ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল
সম্পাদক ও প্রকাশক: মো. আলী হোসেন
যোগাযোগ: +880244809006 ,01922575574
ই-মেইল: [email protected]
ঠিকানা: ২২০/১ (৫ম তলা), বেগম রোকেয়া সরণি, তালতলা, আগারগাঁও, পশ্চিম কাফরুল, ঢাকা-১২০৭
© 2026 National Tribune All Rights Reserved. Design & Developed By Root Soft Bangladesh
