মধ্যপ্রাচ্যের রণক্ষেত্রে কোনো সাময়িক বিরতি নয়, বরং একটি স্থায়ী ও পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধবিরতির পক্ষে নিজেদের অনড় অবস্থানের কথা স্পষ্ট করেছে ইরান। দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই-র সঙ্গে এক উচ্চপর্যায়ের ফোনালাপে এই কূটনৈতিক বারতা প্রদান করেন। তেহরানের এই অবস্থান এমন এক সময়ে এল, যখন লেবাননের বিদ্যুৎ ও জ্বালানি অবকাঠামো লক্ষ্য করে ইসরায়েলের অব্যাহত হামলায় পুরো অঞ্চলের স্থিতিশীলতা খাদের কিনারে এসে দাঁড়িয়েছে।
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে আলাপকালে জোর দিয়ে বলেন, অঞ্চলটিকে বৃহত্তর সংঘাত থেকে রক্ষা করতে হলে খণ্ডকালীন কোনো সমঝোতা যথেষ্ট নয়। তিনি একটি সামগ্রিক ও স্থায়ী যুদ্ধবিরতির প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন, যা মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান উত্তেজনা প্রশমনে কার্যকর ভূমিকা রাখবে। বেইজিং এই সংকটে আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের ওপর গুরুত্বারোপ করেছে।
মধ্যপ্রাচ্যের এই সংঘাতের প্রভাবে বিশ্বব্যাপী জ্বালানি সরবরাহে যে বড় ধরনের ধস নামতে শুরু করেছে, তার প্রথম শিকার হয়েছে ফিলিপাইন। যুদ্ধের কারণে অপরিশোধিত তেল আমদানিতে চরম বিঘ্ন ঘটায় বিশ্বের প্রথম দেশ হিসেবে জ্বালানি খাতে ‘জাতীয় জরুরি অবস্থা’ ঘোষণা করেছে ম্যানিলা। ফিলিপাইন সরকারের এই সিদ্ধান্ত ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, মধ্যপ্রাচ্যের কামানের গোলা কেবল আরব ভূখণ্ডেই সীমাবদ্ধ নেই, বরং এর অর্থনৈতিক অভিঘাত সুদূর প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলেও আছড়ে পড়ছে।
এদিকে রণাঙ্গনের পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। লেবাননের বেসামরিক ও রাষ্ট্রীয় জ্বালানি স্থাপনাগুলো লক্ষ্য করে দফায় দফায় হামলা চালাচ্ছে ইসরায়েলি বিমান বাহিনী। বিদ্যুৎ কেন্দ্র ও জ্বালানি গুদামে এই ধ্বংসাত্মক অভিযানের ফলে লেবানন এখন অন্ধকারে ডুবে যাওয়ার হুমকিতে রয়েছে, যা দেশটিতে বিদ্যমান মানবিক সংকটকে আরও ঘনীভূত করছে।