× প্রচ্ছদ জাতীয় রাজনীতি অর্থনীতি সারাদেশ আন্তর্জাতিক খেলা বিনোদন ফিচার প্রবাস সকল বিভাগ
ছবি ভিডিও লাইভ লেখক আর্কাইভ

ভূ-রাজনীতির অনলে পুড়ছে ভারতের রান্নাঘর

ন্যাশনাল ট্রিবিউন ডেস্ক

২৪ মার্চ ২০২৬, ২৩:৪৬ পিএম । আপডেটঃ ২৫ মার্চ ২০২৬, ০১:১৬ এএম

ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতায় জ্বালানি সরবরাহের অনিশ্চয়তা ভারতের ঐতিহ্যবাহী স্ট্রিট ফুড সংস্কৃতিকে ফেলেছে বড় চ্যালেঞ্জের মুখে। অনেক দোকানেই এখন চায়ের চিরচেনা সুবাস আর খাবারের স্বাদ ধরে রাখা কঠিন হয়ে পড়েছে। ছবি: রয়টার্স

মধ্যপ্রাচ্যের হরমুজ প্রণালিতে ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতা এবং ইরানের কঠোর নিয়ন্ত্রণ কেবল বিশ্ব জ্বালানি বাজারে কম্পন ধরায়নি, বরং এর সুদূরপ্রসারী প্রভাব পড়েছে ভারতের ১৪০ কোটি মানুষের দৈনন্দিন খাদ্যাভ্যাসে। তেহরান ও তেল আবিবের মধ্যকার যুদ্ধাবস্থা ভারতের রাজপথের চিরচেনা আড্ডা আর স্ট্রিট ফুডের স্বাদকেও বিপন্ন করে তুলেছে। যে সংকটের শুরু হয়েছিল তেলের পাম্পে, তা এখন ভারতের রান্নাঘরের আগুনের শিখা পর্যন্ত বিস্তৃত।

বিশ্বের অন্যতম দ্রুত বর্ধনশীল অর্থনীতির দেশ ভারত তার প্রয়োজনীয় এলপিজি গ্যাসের প্রায় ৮৫ শতাংশই আমদানি করে মধ্যপ্রাচ্য থেকে। পারস্য উপসাগরের সরবরাহ ব্যবস্থা বিঘ্নিত হওয়ায় ভারত সরকার এখন গৃহস্থালির রান্নার গ্যাস নিশ্চিত করতে বাণিজ্যিক খাতে সরবরাহ সীমিত করেছে। ফলে ক্যানটিন, হোটেল ও রেস্তোরাঁগুলোতে তৈরি হয়েছে তীব্র জ্বালানি হাহাকার।

এই ঘাটতি কেবল অর্থনৈতিক নয়, বরং সাংস্কৃতিক সংকটে রূপ নিয়েছে। ভারতীয় রান্নার চিরন্তন স্বাদ—তীব্র আঁচ, লোহার কড়াই আর আগুনের সরাসরি শিখার ওপর নির্ভরশীল। গ্যাসের অভাবে অনেক রেস্তোরাঁ মালিক ইন্ডাকশন কুকারের আশ্রয় নিলেও সেখানে হোঁচট খাচ্ছে ঐতিহ্যবাহী রন্ধনশৈলী। উচ্চ তাপের অভাবে শিঙাড়ার সেই বিশেষ মচমচে ভাব যেমন হারিয়ে যাচ্ছে, তেমনি আগুনের শিখা ছাড়া তন্দুরি বা কারির ম্যারিনেটেড ফ্লেভারও আর আগের মতো ফুটছে না।

রাজস্থানের জয়পুরের বিখ্যাত ‘গুলাবজি চা’-এর চিত্রটি এখন ভারতের অনেক শহরেরই বাস্তব প্রতিচ্ছবি। রেস্তোরাঁটির কর্ণধার চেতন সিংয়ের কণ্ঠে ঝরল অসহায়ত্ব। তিনি জানান, এলপিজি সংকটের কারণে তাঁদের মেনু থেকে বাদ দিতে হয়েছে যুগান্তকারী ‘বান-মাখন’ ও ‘শিঙাড়া’।

“মানসম্মত ‘বেনে দোসা’ পরিবেশনের যে সংকল্প নিয়ে আমাদের যাত্রা শুরু হয়েছিল, তার সঙ্গে আপস করা অসম্ভব। পরিস্থিতি যতই প্রতিকূল হোক, আমাদের মেনু থেকে এই ঐতিহ্যবাহী স্বাদ কখনোই চিরতরে হারিয়ে যেতে দেব না।”
অখিল আইয়ার, কর্ণধার, বেনে দোসা।


চেতন সিং বলেন, “মানুষ দূর-দূরান্ত থেকে আমাদের খাবারের স্বাদের জন্য আসে। এখন আমরা বিদ্যুৎচালিত চুলায় চা ফোটাচ্ছি ঠিকই, কিন্তু আগুনের শিখার সেই বিশেষ রসায়ন বা ফ্লেভার সেখানে অনুপস্থিত। গুণগত মানের সাথে আপস করতে আমরা বাধ্য হচ্ছি।”

একই চিত্র দিল্লি ও মুম্বাইয়ের ‘বেনে দোসা’ রেস্তোরাঁতেও। জ্বালানির মজুদ শেষ পর্যায়ে পৌঁছানোয় তারা জনপ্রিয় কিছু পদ বিক্রি বন্ধ করে দিয়েছে। সিলিন্ডারের আশায় সাধারণ মানুষকে রাত তিনটা থেকে গ্যাস বিতরণ কেন্দ্রের সামনে দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যাচ্ছে।

জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় ভারত সরকার দেশীয় উৎপাদন ৩৮ শতাংশ বৃদ্ধির দাবি করলেও বাজারের অস্থিরতা কাটছে না। পরিস্থিতির ভয়াবহতা আঁচ করে সাধারণ মানুষ এখন বিকল্পের দিকে ঝুঁকছে। আমাজন ইন্ডিয়ার তথ্যমতে, দেশটিতে গত এক সপ্তাহে ইন্ডাকশন চুলার বিক্রি বেড়েছে ৩০ গুণেরও বেশি।

তবে অখিল আইয়ারের মতো অনেক উদ্যোক্তাই শঙ্কিত। পরিবেশ দূষণের ঝুঁকি থাকলেও রান্নার কাজ সচল রাখতে অনেকে কাঠ পোড়ানোর মতো সনাতন পদ্ধতিতে ফেরার কথা ভাবছেন। ভূ-রাজনৈতিক এই দাবানল যতক্ষণ প্রশমিত না হচ্ছে, ততক্ষণ ভারতের সাধারণ মানুষের পাতে শিঙাড়ার মচমচে স্বাদ আর চায়ের সুবাস ফেরানো এক কঠিন চ্যালেঞ্জ হয়েই থাকছে।


তথ্যসূত্র: সিএনএন 


National Tribune

সম্পাদক ও প্রকাশক: মো. আলী হোসেন

যোগাযোগ: +880244809006 ,01922575574

ই-মেইল: [email protected]

ঠিকানা: ২২০/১ (৫ম তলা), বেগম রোকেয়া সরণি, তালতলা, আগারগাঁও, পশ্চিম কাফরুল, ঢাকা-১২০৭

আমাদের সঙ্গে থাকুন

© 2026 National Tribune All Rights Reserved.