মধ্যপ্রাচ্যের আকাশসীমা ছাপিয়ে আবারও গর্জে উঠল তেহরানের শক্তিশালী ব্যালেস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র। মার্কিন-ইসরায়েলি সামরিক অভিযানের ২৫তম দিনে তেল আবিবের প্রাণকেন্দ্রে আঘাত হেনেছে ইরানের অত্যাধুনিক ‘ইমাদ’ ও ‘কদর’ ক্ষেপণাস্ত্র। ‘অপারেশন ট্রু প্রমিজ-৪’-এর ৭৮তম ধাপের এই নজিরবিহীন হামলায় প্রকম্পিত হয়ে উঠেছে ইসরায়েলি ভূখণ্ড। এতে অন্তত ছয়জন গুরুতর আহত হওয়ার পাশাপাশি ব্যাপক জানমালের ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া গেছে।
মঙ্গলবার সকালে তেল আবিব ও এর আশপাশে যখন সাইরেন বেজে ওঠে, তখন আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার পাশ কাটিয়ে অন্তত একটি ১০০ কেজি ওজনের ওয়ারহেডবাহী ক্ষেপণাস্ত্র সরাসরি জনাকীর্ণ এলাকায় আঘাত হানে। ইসরায়েলি জরুরি সেবা সংস্থা ‘মাগেন ডেভিড অ্যাডম’ (এমডিএ) নিশ্চিত করেছে, ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে এবং এর ধ্বংসাবশেষের তীব্রতায় ছয়জন বেসামরিক নাগরিক আহত হয়েছেন।
পুলিশের তেল আবিব জেলা কমান্ডারের বরাত দিয়ে স্থানীয় গণমাধ্যমগুলো জানিয়েছে, অত্যন্ত বিধ্বংসী ক্ষমতাসম্পন্ন এই ক্ষেপণাস্ত্রটি যে স্থানে আঘাত হেনেছে, সেখানে কয়েক ফুট গভীর গর্ত তৈরি হয়েছে। ঘটনাস্থলে দাঁড়িয়ে থাকা সারিবদ্ধ গাড়িগুলো দুমড়ে-মুচড়ে গেছে, একটি গাড়ি প্রবল বিস্ফোরণে উল্টে পড়ে থাকতে দেখা যায়।
ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, চলমান আগ্রাসনের মোক্ষম জবাব দিতেই এই সূক্ষ্ম নিশানার হামলা চালানো হয়েছে। একের পর এক ক্ষেপণাস্ত্র আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ভেদ করে লক্ষ্যে আঘাত হানায় ইসরায়েলি সামরিক সক্ষমতা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠছে। সরাসরি সম্প্রচারিত ফুটেজে দেখা গেছে, ধ্বংসস্তূপে পূর্ণ রাজপথে পুলিশ ও জরুরি সেবা কর্মীরা উদ্ধারকাজ চালাচ্ছেন, যেখানে কিছুক্ষণ আগেও ছিল ব্যস্ত নাগরিক জীবনের স্পন্দন।
ইরানের এই পাল্টা হামলা মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতকে নতুন এক মাত্রায় নিয়ে গেছে। বিশেষ করে ‘ইমাদ’ ও ‘কদর’ এর মতো শক্তিশালী ক্ষেপণাস্ত্রের ব্যবহার ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, তেহরান তার সামরিক কৌশলে কোনো ধরনের আপস করতে রাজি নয়। এই হামলার পর পুরো অঞ্চল জুড়ে যুদ্ধের দামামা আরও প্রকট হয়েছে, যা বিশ্ব অর্থনীতি ও তেলের বাজারেও বড় ধরনের অস্থিরতা তৈরি করতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
তথ্যসূত্র: আল জাজিরা