ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্য মণিপুরে কয়েক মাসের আপেক্ষিক শান্তাবস্থা ভেঙে আবারও ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে জাতিগত সহিংসতা। কুকি বিদ্রোহীদের অত্যাধুনিক ড্রোন ও রকেট হামলায় এখন পর্যন্ত অন্তত ছয়জনের প্রাণহানি ঘটেছে। এই রক্তক্ষয়ী সংঘাতের প্রতিবাদে এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থার আমূল পরিবর্তনের দাবিতে রাজধানী ইম্ফল এখন রণক্ষেত্রে পরিণত হয়েছে। সোমবার বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা সরকারি ভবনের জাতীয় পতাকা নামিয়ে ফেললে পরিস্থিতি চরম উত্তেজনাকর রূপ নেয়।
২০২৩ সালের মে মাসে মেইতি ও কুকি সম্প্রদায়ের মধ্যে শুরু হওয়া সেই পুরনো ক্ষত নতুন করে বিষিয়ে উঠেছে। গত শুক্রবার রাজ্যের সাবেক মুখ্যমন্ত্রীর বাসভবনে এবং শনিবার দুটি পৃথক জেলায় কুকি বিদ্রোহীরা রকেট ও ড্রোন ব্যবহার করে নজিরবিহীন হামলা চালায়। প্রযুক্তিনির্ভর এই অতর্কিত হামলায় প্রাণ হারিয়েছেন অন্তত ছয়জন। উদ্ভূত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাজ্য সরকার অনির্দিষ্টকালের জন্য সমস্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ ঘোষণা করেছে।
চলমান নিরাপত্তা সংকট মোকাবিলায় ব্যর্থতার অভিযোগ তুলে সোমবার মুখ্যমন্ত্রী এন. বীরেন সিং-এর বাসভবন অভিমুখে বিশাল বিক্ষোভ মিছিল বের করে শিক্ষার্থীরা। শান্তি ফিরিয়ে আনার দাবিতে উত্তাল এই জনতাকে ছত্রভঙ্গ করতে নিরাপত্তা বাহিনী লাঠিচার্জ ও টিয়ার শেল নিক্ষেপ করলে সংঘর্ষ আরও তীব্র হয়। বিক্ষুব্ধ ছাত্ররা বিভিন্ন সরকারি কার্যালয়ে ভাঙচুর চালায়।
আন্দোলনের এক পর্যায়ে স্থানীয় জেলা প্রশাসকের (ডিসি) কার্যালয়ে ওড়ানো ভারতের জাতীয় পতাকা নামিয়ে ফেলেন বিক্ষোভকারীরা। সেখানে ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের ‘সেভেন সিস্টার্স’-এর প্রতীকী সাত রঙা পতাকা উড়িয়ে দেওয়া হয়। এই ঘটনার ভিডিও চিত্র মুহূর্তেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে তা ভারতজুড়ে তোলপাড় সৃষ্টি করে। তবে স্পর্শকাতর এই বিষয়ে এখন পর্যন্ত মণিপুর রাজ্য সরকার কিংবা দিল্লির কেন্দ্রীয় সরকারের পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
তৃণমূল পর্যায়ে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে না পারা এবং দীর্ঘস্থায়ী রাজনৈতিক সমাধানের অভাব মণিপুরকে আবারও এক অনিশ্চিত অন্ধকারের দিকে ঠেলে দিচ্ছে।