× প্রচ্ছদ জাতীয় রাজনীতি অর্থনীতি সারাদেশ আন্তর্জাতিক খেলা বিনোদন ফিচার প্রবাস সকল বিভাগ
ছবি ভিডিও লাইভ লেখক আর্কাইভ

আফগানিস্তানে পাকিস্তানের ভয়াবহ বিমান হামলা, নিহত ৪০৮

ন্যাশনাল ট্রিবিউন ডেস্ক

১৮ মার্চ ২০২৬, ০০:০১ এএম । আপডেটঃ ১৮ মার্চ ২০২৬, ০০:০২ এএম

কাবুলের ওমিদ নিরাময় কেন্দ্রে পাকিস্তানের বিমান হামলার পর ধ্বংসস্তূপের মাঝে প্রিয়জনের সন্ধানে আর্তনাদ করছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। ছবি: সংগৃহীত

পবিত্র রমজান মাসের শেষে যখন মুসলিম উম্মাহ ঈদের অপেক্ষায় বিভোর, ঠিক তখনই প্রতিবেশী দুই মুসলিম দেশ পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের সংঘাত এক বীভৎস রূপ নিলো। সোমবার রাতে আফগানিস্তানের রাজধানী কাবুলের একটি মাদকাসক্তি নিরাময় কেন্দ্রে পাকিস্তানের ভয়াবহ বিমান হামলায় অন্তত ৪০৮ জন নিহত হয়েছেন। মাগরিবের নামাজের সময় চালানো এই হামলায় আহত হয়েছেন আরও ২৬৫ জন। আফগান তালেবান সরকারের এই দাবি ঘিরে দক্ষিণ এশিয়ায় এখন চরম যুদ্ধাবস্থা বিরাজ করছে।

তালেবান সরকারের মুখপাত্র জাবিহুল্লাহ মুজাহিদ জানিয়েছেন, সোমবার রাত ৯টার দিকে রাষ্ট্রায়ত্ত ‘ওমিদ’ হাসপাতালে এই হামলা চালানো হয়। ২ হাজার শয্যাবিশিষ্ট এই নিরাময় কেন্দ্রটিতে কয়েকশ মানুষ চিকিৎসাধীন ছিলেন। প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, মানুষ যখন মাগরিবের নামাজ শেষ করছিলেন, ঠিক তখনই তিনটি শক্তিশালী বোমা সরাসরি রোগীদের ওয়ার্ডে আঘাত হানে।

বেঁচে ফেরা ৫০ বছর বয়সী আহমদ শিউরে উঠে বলেন, “সেটি ছিল দোজখের আগুনের মতো। আমার চারপাশের বন্ধুরা জীবন্ত পুড়ছিল, কাউকে বাঁচাতে পারিনি।” অ্যাম্বুলেন্স চালক হাজি ফাহিম জানান, ধ্বংসস্তূপের নিচে এখনো অসংখ্য মরদেহ চাপা পড়ে আছে, যা উদ্ধারে প্রাণপণ চেষ্টা চলছে।

মাদকের নিরাময় কেন্দ্রে হামলার দাবিকে ‘মিথ্যা ও অনবরত বিভ্রান্তি’ বলে প্রত্যাখ্যান করেছে ইসলামাবাদ। পাকিস্তানের তথ্যমন্ত্রী আতাউল্লাহ তারার দাবি করেছেন, তারা কেবল সুনির্দিষ্ট সামরিক স্থাপনা ও সন্ত্রাসী অবকাঠামো লক্ষ্য করে ‘প্রিসিশন স্ট্রাইক’ বা নির্ভুল হামলা চালিয়েছেন। এক্সে দেওয়া এক পোস্টে তিনি জানান, হামলার পর বড় ধরনের দ্বিতীয় দফার বিস্ফোরণ প্রমাণ করে যে সেখানে বিপুল পরিমাণ গোলাবারুদ মজুত ছিল। পাকিস্তান স্পষ্ট করেছে, তাদের ভূখণ্ডে হামলা চালানো তেহরিক-ই-তালেবান পাকিস্তানের (টিটিপি) শেকড় উপড়ে না ফেলা পর্যন্ত এই ‘সন্ত্রাসবিরোধী অভিযান’ চলবে।

গত এক মাস ধরে চলা এই সংঘাত এখন ২ হাজার ৬০০ কিলোমিটার দীর্ঘ সীমান্তে দাবানলের মতো ছড়িয়ে পড়েছে। মধ্যপ্রাচ্যে ইরান-ইসরায়েল উত্তেজনার সমান্তরালে দক্ষিণ এশিয়ায় এই ভ্রাতৃঘাতী যুদ্ধ বিশ্বজুড়ে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে।

  • চীন: বেইজিং উভয় পক্ষকে শান্ত থাকার আহ্বান জানিয়ে মধ্যস্থতার প্রস্তাব দিয়েছে। চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র লিন জিয়ান বলেন, তারা উত্তেজনা হ্রাসে গঠনমূলক ভূমিকা পালন করতে প্রস্তুত।


  • ভারত: কাবুলের নিরাময় কেন্দ্রে হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে ভারত। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে বলেছে, পবিত্র রমজান মাসে যখন মুসলিমরা শান্তি ও ক্ষমার প্রার্থনা করছেন, তখন এমন হামলা অত্যন্ত অমানবিক ও নিন্দনীয়।

মানবিক বিপর্যয়ের মুখে দুই প্রতিবেশী

২০১৬ সালে প্রতিষ্ঠিত ওমিদ হাসপাতালটি কেবল নিরাময় কেন্দ্রই ছিল না, বরং সেখানে রোগীদের কর্মসংস্থানের জন্য সেলাই ও কাঠমিস্ত্রির প্রশিক্ষণ দেওয়া হতো। আজ সেখানে কেবল পুড়ে যাওয়া কম্বল, রোগীদের ব্যক্তিগত জিনিসপত্র আর লাশের স্তূপ পড়ে আছে। স্বাধীন কোনো সূত্র থেকে হতাহতের সঠিক সংখ্যা যাচাই করা সম্ভব না হলেও, ধ্বংসযজ্ঞের চিত্র বলছে—দুই দেশের এই অনড় অবস্থান পুরো অঞ্চলকে এক ভয়াবহ মানবিক ও রাজনৈতিক বিপর্যয়ের দিকে ঠেলে দিচ্ছে।


তথ্যসূত্র: রয়টার্স


National Tribune

সম্পাদক ও প্রকাশক: মো. আলী হোসেন

যোগাযোগ: +880244809006 ,01922575574

ই-মেইল: [email protected]

ঠিকানা: ২২০/১ (৫ম তলা), বেগম রোকেয়া সরণি, তালতলা, আগারগাঁও, পশ্চিম কাফরুল, ঢাকা-১২০৭

আমাদের সঙ্গে থাকুন

© 2026 National Tribune All Rights Reserved.