ভারতের বিতর্কিত হিন্দুত্ববাদী সংগঠন আরএসএস এবং দেশটির প্রভাবশালী গোয়েন্দা সংস্থা ‘র’ এর ওপর কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপের সুপারিশ করেছে যুক্তরাষ্ট্রের আন্তর্জাতিক ধর্মীয় স্বাধীনতা বিষয়ক কমিশন (ইউএসসিআইআরএফ)। একই সঙ্গে ভারতে ধর্মীয় স্বাধীনতার চরম অবনতির অভিযোগ তুলে দেশটিকে ‘বিশেষ উদ্বেগের রাষ্ট্র’ (সিপিসি) হিসেবে ঘোষণা করার আহ্বান জানিয়েছে এই মার্কিন স্বাধীন সংস্থাটি।
চলতি মাসের শুরুতে প্রকাশিত ২০২৬ সালের বার্ষিক প্রতিবেদনে ইউএসসিআইআরএফ জানায়, ২০২৫ সালে ভারতে ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের মৌলিক অধিকারের পরিস্থিতি আশঙ্কাজনক পর্যায়ে পৌঁছেছে। প্রতিবেদনে প্রথমবারের মতো ভারতের রাষ্ট্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা ‘র’-কে নিষেধাজ্ঞার তালিকায় আনার সুপারিশ করা হয়েছে। সংস্থাটির দাবি, ভারতের বাইরেও ভিন্নমতাবলম্বীদের দমনে এই গোয়েন্দা সংস্থার বিতর্কিত ভূমিকা ধর্মীয় ও রাজনৈতিক স্বাধীনতার পরিপন্থী।
প্রতিবেদনে আরএসএস-এর সম্পদ বাজেয়াপ্ত এবং এর সদস্যদের যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশে বিধিনিষেধ আরোপের প্রস্তাব দিয়ে বলা হয়েছে, হিন্দুত্ববাদী গোষ্ঠীগুলো সারা বছর ধরে বিভিন্ন রাজ্যে মুসলিম ও খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে পরিকল্পিত সহিংসতা ও উস্কানিতে লিপ্ত ছিল। কমিশন সরাসরি অভিযোগ করেছে যে, ভারত সরকার এসব কর্মকাণ্ডকে পরোক্ষভাবে মদদ দিচ্ছে।
প্রতিবেদনে গত বছরের বেশ কিছু সুনির্দিষ্ট ঘটনাকে ‘মানবাধিকার লঙ্ঘন’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে:
- আসাম থেকে পুশব্যাক: গত জুলাইয়ে কয়েকশ বাংলাভাষী মুসলিমকে ‘অনুপ্রবেশকারী’ আখ্যা দিয়ে জোরপূর্বক আসাম থেকে বাংলাদেশে ফেরত পাঠানোর তীব্র সমালোচনা করা হয়েছে।
- আইনি কড়াকড়ি: ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে ‘বিদেশি আইন’-এ নতুন ধারা সংযোজন করে সংখ্যালঘুদের অধিকার সংকুচিত করার অভিযোগ তোলা হয়েছে।
- ওয়াকফ আইন সংশোধন: মুসলিমদের ধর্মীয় সম্পত্তি রক্ষণাবেক্ষণ কমিটিতে অমুসলিমদের অন্তর্ভুক্ত করার বিষয়টিকে ধর্মীয় স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ হিসেবে বর্ণনা করেছে কমিশন।
উল্লেখ্য, ইউএসসিআইআরএফ একটি স্বাধীন ও স্বশাসিত মার্কিন সরকারি সংস্থা যা বিশ্বজুড়ে ধর্মীয় স্বাধীনতা পর্যবেক্ষণ করে। যদিও এই সংস্থার সুপারিশ বাস্তবায়ন করা মার্কিন প্রশাসনের জন্য বাধ্যতামূলক নয়, তবে এটি আন্তর্জাতিক মহলে ভারতের গণতান্ত্রিক ভাবমূর্তির ওপর বড় ধরনের চাপ সৃষ্টি করবে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। উল্লেখ্য, ভারতসহ বিশ্বের ১৮টি দেশকেও এই প্রতিবেদনে ‘বিশেষ উদ্বেগজনক’ তালিকায় রাখা হয়েছে।