মধ্যপ্রাচ্যের রণক্ষেত্রে চরম উত্তেজনা ছড়িয়ে এবার বড় ধরনের পাল্টা আক্রমণে নেমেছে ইরান। সোমবার দেশটির ইসলামি বিপ্লবী গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) ‘অপারেশন ট্রু প্রমিজ-৪’-এর আওতায় ৫৫তম দফার বিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্র হামলা শুরু করার ঘোষণা দিয়েছে। হাইপারসনিক ও সুপারহেভি ব্যালিস্টিক মিসাইলের এই নতুন ঢেউয়ে ইসরায়েল ও মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থিত মার্কিন সামরিক লক্ষ্যবস্তুগুলো লণ্ডভণ্ড হয়ে গেছে বলে দাবি করেছে তেহরান।
আইআরজিসি’র এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, অধিকৃত অঞ্চলের কেন্দ্রস্থল তেল আবিব এবং বেন গুরিওন বিমানবন্দর সংলগ্ন সামরিক স্থাপনাগুলোকে লক্ষ্য করে এই অভিযান চালানো হয়েছে। বিশেষ করে ইসরায়েলের মহাকাশ সামরিক অস্ত্র উৎপাদন কেন্দ্র এবং আকাশে জ্বালানি সরবরাহ কেন্দ্রগুলোতে নির্ভুলভাবে আঘাত হানতে সক্ষম ‘ফাত্তাহ’ হাইপারসনিক ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করা হয়েছে। এছাড়া কদর ও এমাদ ক্ষেপণাস্ত্রের পাশাপাশি একঝাঁক আত্মঘাতী ড্রোন এই অভিযানে অংশ নেয়।
প্রতিশোধের এই জোয়ার কেবল ইসরায়েলে সীমাবদ্ধ থাকেনি। আইআরজিসি স্পষ্ট করেছে যে, মধ্যপ্রাচ্যে মোতায়েনকৃত ‘সন্ত্রাসী’ মার্কিন বাহিনীর কেন্দ্রগুলোও তাদের নিশানায় ছিল। সংযুক্ত আরব আমিরাতের আল ধফরা বিমানঘাঁটি, বাহরাইনের শেখ ইসা বিমানঘাঁটি এবং জুফাইর নৌঘাঁটিতে মধ্য-পাল্লার সলিড-ফুয়েল ‘ফাতেহ’, জোলফাকার এবং দেজফুল ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে আক্রমণ চালানো হয়েছে। ধ্বংসাত্মক ইউএভি বা ড্রোনের ব্যবহার এই হামলাকে আরও প্রাণঘাতী করে তুলেছে।
গত ২৮শে ফেব্রুয়ারি ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ সাইয়েদ আলী খামেনির হত্যাকাণ্ডের পর থেকেই এই সংঘাত চূড়ান্ত রূপ নেয়। ইরানের অভিযোগ, বিনা উস্কানিতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলি জোট দেশটির সামরিক ও বেসামরিক অবস্থানে বড় আকারের হামলা চালিয়ে ব্যাপক প্রাণহানি ও অবকাঠামোগত ক্ষয়ক্ষতি করেছে। সেই আগ্রাসনের জবাব দিতেই ইরান এখন একের পর এক ‘প্রতিশোধমূলক’ ঢেউ নামাচ্ছে।
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, হাইপারসনিক ও নির্ভুল স্ট্রাইক ক্ষেপণাস্ত্রের এই ব্যবহার ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, ইরান এই লড়াইকে দীর্ঘস্থায়ী এবং আরও ভয়াবহ করার প্রস্তুতি নিয়ে রেখেছে। পুরো অঞ্চল এখন এক অনিশ্চিত ও বিধ্বংসী মহাযুদ্ধের দ্বারপ্রান্তে দাঁড়িয়ে।
তথ্যসূত্র: তাসনিম নিউজ এজেন্সি