× প্রচ্ছদ জাতীয় রাজনীতি অর্থনীতি সারাদেশ আন্তর্জাতিক খেলা বিনোদন ফিচার প্রবাস সকল বিভাগ
ছবি ভিডিও লাইভ লেখক আর্কাইভ

ইরান যুদ্ধে ট্রাম্পের আহ্বানে সাড়া দিল না কিয়ার স্টারমার

ন্যাশনাল ট্রিবিউন ডেস্ক

১৭ মার্চ ২০২৬, ০১:৫০ এএম । আপডেটঃ ১৭ মার্চ ২০২৬, ০৩:৩৫ এএম

মধ্যপ্রাচ্য সংকটে সরাসরি সামরিক হস্তক্ষেপে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের (বামে) প্রবল চাপ উপেক্ষা করে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার (ডানে) নিজের অবস্থানে অবিচল। ছবি: এপি

মধ্যপ্রাচ্যের ক্রমবর্ধমান যুদ্ধাবস্থায় ইরানের বিরুদ্ধে সরাসরি সামরিক অভিযানে অংশ নিতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের তীব্র চাপ ও প্রকাশ্য সমালোচনাকে উপেক্ষা করে নিজের অবস্থানে অনড় রয়েছেন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার। সোমবার এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, কোনো সুচিন্তিত পরিকল্পনা এবং আইনি ভিত্তি ছাড়া ব্রিটিশ সেনাদের অনিশ্চিত যুদ্ধের মুখে ঠেলে দেবেন না তিনি।

সম্প্রতি ডোনাল্ড ট্রাম্প ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রীর ওপর ক্ষোভ উগরে দিয়ে অভিযোগ করেন, মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন যুদ্ধবিমান চলাচলের ক্ষেত্রে ব্রিটিশ ঘাঁটি ব্যবহারে সীমাবদ্ধতা আরোপ করেছেন স্টারমার। এমনকি সেখানে ব্রিটিশ বিমানবাহী রণতরি পাঠাতেও অস্বীকৃতি জানিয়েছেন তিনি। এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প ব্রিটিশ নেতার প্রতি অসন্তোষ প্রকাশ করে বলেছিলেন, "আমি যখন তাদের আসতে বললাম, তারা আসতে চাইল না।"

ট্রাম্পের এই প্রকাশ্য সমালোচনার জবাবে প্রধানমন্ত্রী স্টারমার অত্যন্ত ধীরস্থির ও দৃঢ়ভাবে বলেন, "ব্রিটিশ সেনাদের কেবল তখনই কোনো অভিযানে পাঠানো উচিত, যখন সেটির সুনির্দিষ্ট আইনি ভিত্তি থাকে এবং তার পেছনে একটি যথাযথ ও সুচিন্তিত পরিকল্পনা থাকে। আমরা কোনো পরিকল্পনা ছাড়া আমাদের বাহিনীর জীবন ঝুঁকিতে ফেলতে পারি না।"

ব্রিটেনের ভেতরেও স্টারমারের এই অবস্থান নিয়ে বিরোধী দলের রাজনীতিবিদরা কড়া সমালোচনা করছেন। তাদের দাবি, ওয়াশিংটনের সঙ্গে লন্ডনের ঐতিহাসিক মিত্রতায় এই সিদ্ধান্ত ফাটল ধরাতে পারে। তবে বিরোধীদের এই সমালোচনার কড়া জবাব দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।

স্টারমার বলেন, "বিরোধী রাজনৈতিক নেতারা পরিস্থিতির ভয়াবহতা না বুঝেই তড়িঘড়ি করে ব্রিটেনকে এই যুদ্ধের দিকে ঠেলে দিতে চাইছেন। তারা চান আমাদের বাহিনীকে কোথায় পাঠানো হচ্ছে তার পূর্ণাঙ্গ চিত্র না জেনেই এবং ফিরে আসার কোনো পরিকল্পনা ছাড়াই এই যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়ুক। এটা দায়িত্বশীল নেতৃত্ব নয়, এটা স্রেফ অন্ধ অনুসরণ।"

বিশ্লেষকরা মনে করছেন, স্টারমারের এই অবস্থান ব্রিটেনের 'কৌশলগত স্বায়ত্তশাসন' বজায় রাখার এক সাহসী পদক্ষেপ। ট্রাম্পের 'আমেরিকা ফার্স্ট' নীতির বিপরীতে স্টারমার ব্রিটেনের জাতীয় স্বার্থ ও আইনি বাধ্যবাধকতাকে প্রাধান্য দিচ্ছেন, যা আটলান্টিক পাড়ের দুই ঘনিষ্ঠ মিত্রের সম্পর্কের শীতলতাকে আরও বাড়িয়ে দিতে পারে।

National Tribune

সম্পাদক ও প্রকাশক: মো. আলী হোসেন

যোগাযোগ: +880244809006 ,01922575574

ই-মেইল: [email protected]

ঠিকানা: ২২০/১ (৫ম তলা), বেগম রোকেয়া সরণি, তালতলা, আগারগাঁও, পশ্চিম কাফরুল, ঢাকা-১২০৭

আমাদের সঙ্গে থাকুন

© 2026 National Tribune All Rights Reserved.