মধ্যপ্রাচ্যে চলমান ভয়াবহ সংঘাতের প্রেক্ষাপটে কোনো ধরনের নতিস্বীকার বা যুদ্ধবিরতির অনুরোধ পাঠানোর খবর নাকচ করে দিয়েছে ইরান। সোমবার তেহরানে এক সাপ্তাহিক সংবাদ সম্মেলনে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাকচি অত্যন্ত কঠোর ভাষায় ঘোষণা করেন যে, মার্কিন-ইসরায়েলি আগ্রাসন শুরু হওয়ার পর থেকে ইরান কোনো পক্ষকেই পিছু হটার বা যুদ্ধবিরতির বার্তা পাঠায়নি।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরাকচি সরাসরি হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, "এই যুদ্ধের সমাপ্তি এমনভাবে হতে হবে যাতে শত্রুরা ভবিষ্যতে আর কখনো আগ্রাসনের দুঃসাহস না দেখায়। তারা ইতিমধ্যে একটি কঠোর শিক্ষা পেয়েছে।" তিনি জোর দিয়ে বলেন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং ইসরায়েলি পক্ষ এখন বুঝতে পারছে তারা কতটা অপরাজেয় এক জাতির মুখোমুখি দাঁড়িয়েছে। ইরান তার আত্মরক্ষায় বিন্দুমাত্র দ্বিধা করবে না এবং জাতীয় স্বার্থে এই লড়াই দীর্ঘস্থায়ী করতেও প্রস্তুত।
দীর্ঘ ১৫ দিনের রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের পর হামলাকারীরা এখন হরমুজ প্রণালীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক মহলের দ্বারস্থ হচ্ছে বলে দাবি করেন আরাকচি। এ প্রসঙ্গে তিনি ইরানের অবস্থান স্পষ্ট করে বলেন, "ইরানের কাছে হরমুজ প্রণালী সর্বদা উন্মুক্ত, তবে তা আমাদের শত্রু ও তাদের মিত্রদের জন্য কঠোরভাবে অবরুদ্ধ থাকবে।" কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ এই জলপথ নিয়ে ইরান যে কোনো ধরনের চাপের কাছে নতি স্বীকার করবে না, সেই ইঙ্গিতই ফুটে উঠেছে তাঁর বক্তব্যে।
গত ২৮শে ফেব্রুয়ারি ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ সাইয়্যেদ আলী খামেনির আকস্মিক হত্যাকাণ্ডের পর এই উত্তেজনার সূত্রপাত ঘটে। এরপরই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলি বাহিনী ইরানের সামরিক ও বেসামরিক স্থাপনায় ব্যাপক বিমান হামলা চালায়। এতে অসংখ্য সিনিয়র কমান্ডার ও সাধারণ নাগরিক হতাহত হওয়ার পাশাপাশি অবকাঠামোর অপূরণীয় ক্ষতি হয়।
এর জবাবে ইরানি সশস্ত্র বাহিনীও দখলকৃত অঞ্চল ও আঞ্চলিক ঘাঁটিগুলোতে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্রের ঢেউ তুলে পাল্টা আক্রমণ চালায়। তেহরানের বর্তমান অবস্থান ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, তারা এই প্রতিরোধ যুদ্ধকে একটি সম্মানজনক যৌক্তিক পরিণতির দিকে নিয়ে যেতে বদ্ধপরিকর।