যুক্তরাষ্ট্রের ভেতরে ১১ সেপ্টেম্বরের (৯/১১) মতো বড় ধরনের কোনো নাশকতামূলক ঘটনা ঘটিয়ে তার দায় ইরানের ওপর চাপানোর গভীর ষড়যন্ত্র চলছে বলে দাবি করেছেন তেহরানের শীর্ষ নীতিনির্ধারক আলী লারিজানি। রোববার (১৫ মার্চ) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম 'এক্স'-এ দেওয়া এক বার্তায় ইরানের সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের এই সচিব সতর্ক করে বলেন, ‘এপস্টাইন চক্রের অবশিষ্টাংশ’ ইরানকে ফাঁসাতে এই ‘ফলস ফ্ল্যাগ’ বা সাজানো অভিযানের নীল নকশা তৈরি করছে। মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান অস্থিতিশীল পরিস্থিতিতে লারিজানির এই বক্তব্য আন্তর্জাতিক মহলে নতুন করে উদ্বেগের জন্ম দিয়েছে।
আলী লারিজানি তাঁর বার্তায় সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে ইরানের অনড় অবস্থানের কথা পুনর্ব্যক্ত করেন। তিনি স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেন যে, ইরান কখনোই সন্ত্রাসবাদ সমর্থন করে না এবং সাধারণ আমেরিকান জনগণের সঙ্গে তাঁদের কোনো সংঘাত নেই। লারিজানি বলেন, "আমরা শুনেছি যে ইরানকে বৈশ্বিক কাঠগড়ায় দাঁড় করানোর জন্য ৯/১১-এর আদলে একটি কৃত্রিম সংকট তৈরির চেষ্টা চলছে। ইরান মূলত এ ধরনের অমানবিক কর্মকাণ্ডের ঘোর বিরোধী।"
বিবৃতিতে লারিজানি বর্তমানে ইরানের অবস্থানকে ‘প্রতিরক্ষামূলক’ হিসেবে অভিহিত করেছেন। তিনি দাবি করেন, ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ সাইয়্যেদ আলী খামেনির শাহাদাতের পর থেকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল কোনো উসকানি ছাড়াই ইরানের সামরিক ও বেসামরিক অবস্থানে নির্বিচারে হামলা চালিয়ে আসছে। লারিজানি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, "ইরান এখন আত্মরক্ষার অবস্থানে থাকলেও, আক্রমণকারীদের উপযুক্ত শাস্তি দিতে তেহরান অত্যন্ত শক্তিশালী এবং দৃঢ়প্রতিজ্ঞ।"
খামেনি হত্যাকাণ্ডের পর থেকে মধ্যপ্রাচ্যের আকাশসীমায় বারুদের গন্ধ। ইরান ইতিপূর্বেই এর প্রতিক্রিয়া হিসেবে ইসরায়েল ও এই অঞ্চলে অবস্থিত মার্কিন ঘাঁটিগুলোতে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্রের ঢেউ পাঠিয়েছে। লারিজানির সাম্প্রতিক এই সতর্কতা ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, ওয়াশিংটন যদি নতুন কোনো ষড়যন্ত্রের পথে হাঁটে, তবে তেহরান তার প্রতিরক্ষা কৌশলকে আরও আক্রমণাত্মক করে তুলবে।
বর্তমানে পারস্য উপসাগর থেকে হোয়াইট হাউস পর্যন্ত যে স্নায়ুযুদ্ধ চলছে, লারিজানির এই ‘ষড়যন্ত্র তত্ত্ব’ তাকে এক নতুন ও বিপজ্জনক মাত্রায় নিয়ে গেল। বিশ্ববাসী এখন তাকিয়ে আছে ওয়াশিংটনের প্রতিক্রিয়ার দিকে।
তথ্যসূত্র: তাসনিম নিউজ এজেন্সি