মধ্যপ্রাচ্যের রণক্ষেত্রে চরম উত্তেজনার পারদ আরও উসকে দিয়ে ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুকে ‘নির্মূল’ করার প্রকাশ্য ঘোষণা দিয়েছে ইরানের ইসলামিক রেভোলিউশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)। রবিবার (১৫ মার্চ) প্রকাশিত এক বিবৃতিতে আইআরজিসি জানায়, নেতানিয়াহু যদি এখনো বেঁচে থাকেন, তবে তাঁকে খুঁজে বের করে চূড়ান্ত শাস্তি নিশ্চিত না করা পর্যন্ত তাদের অভিযান থামবে না। একই সঙ্গে তারা অধিকৃত অঞ্চল এবং মধ্যপ্রাচ্যের তিনটি কৌশলগত মার্কিন ঘাঁটিতে ব্যাপক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালানোর দাবি করেছে।
আইআরজিসি তাদের ‘৫২তম অপারেশন ট্রু প্রমিজ-৪’-এর বিস্তারিত তুলে ধরে জানিয়েছে, মার্কিন ও ইসরায়েলি হামলায় শহীদ ইরানি শ্রমিকদের রক্তের প্রতিশোধ নিতেই এই সম্মিলিত অভিযান। এবার কেবল ইসরায়েলের অভ্যন্তরেই নয়, বরং ইরাকের এরবিলের আল-হারির বিমানঘাঁটি, কুয়েতের আলী আল সালেম ঘাঁটি এবং ক্যাম্প আরিফজানের শিল্প ও সামরিক কেন্দ্রগুলোতে শক্তিশালী ক্ষেপণাস্ত্রের নিখুঁত আঘাত হেনেছে তেহরান। আইআরজিসির দাবি, এসব হামলায় প্রতিপক্ষের সামরিক ব্যবস্থাপনা ও অবকাঠামো পুরোপুরি লণ্ডভণ্ড হয়ে গেছে।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ সাইয়্যেদ আলী খামেনির হত্যাকাণ্ডের পর থেকেই ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যে ‘ছায়াযুদ্ধ’ সরাসরি সংঘাতে রূপ নেয়। তেহরানের অভিযোগ, কোনো উসকানি ছাড়াই যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানের সামরিক ও বেসামরিক অবস্থানে ব্যাপক বিমান হামলা চালিয়ে আসছে। এর প্রতিক্রিয়ায় ইরানি সশস্ত্র বাহিনী একের পর এক প্রতিশোধমূলক ঢেউ পাঠাচ্ছে। আইআরজিসি বলছে, তেল আবিবের শিল্প খাত ও সামরিক অবস্থানে অ্যাম্বুলেন্সের বিরামহীন সাইরেনই বলে দিচ্ছে তাদের ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাত কতটা গভীর ছিল।
বিবৃতিতে নেতানিয়াহুকে ‘শিশু হত্যাকারী’ ও ‘অপরাধী’ হিসেবে অভিহিত করে বলা হয়, ইহুদিবাদী শাসকগোষ্ঠীর মধ্যে এখন চরম অনিশ্চয়তা ও ফাটল দেখা দিয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর পরিবারের অধিকৃত অঞ্চল ছেড়ে পালিয়ে যাওয়ার গুঞ্জনকে তারা এই পতনেরই লক্ষণ হিসেবে দেখছে। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ইরানের এই প্রকাশ্য হুমকি এবং মার্কিন ঘাঁটিতে সরাসরি হামলা মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতকে এক ভয়াবহ আঞ্চলিক যুদ্ধের দিকে ঠেলে দিতে পারে।
পরমাণু শক্তিধর এই অঞ্চলটির বর্তমান পরিস্থিতি এখন এমন এক পর্যায়ে পৌঁছেছে, যেখানে বৈশ্বিক পরাশক্তিগুলোর হস্তক্ষেপ ও কূটনৈতিক তৎপরতা ছাড়া বড় ধরনের মানবিক বিপর্যয় এড়ানো অসম্ভব হয়ে দাঁড়িয়েছে।