বিশ্বের জ্বালানি সরবরাহের ধমনিতে টান টান উত্তেজনা বিরাজ করলেও কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ‘হরমুজ প্রণালি’ আন্তর্জাতিক জাহাজ চলাচলের জন্য উন্মুক্ত রাখার ঘোষণা দিয়েছে ইরান। তবে তেহরান স্পষ্ট করে জানিয়েছে, সাধারণ পণ্যবাহী জাহাজ নিরাপদ থাকলেও যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল সংশ্লিষ্ট কোনো নৌযান এই পথে রেহাই পাবে না। পারস্য উপসাগরে চলমান সংঘাতময় পরিস্থিতির মাঝে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচির এই বক্তব্য বিশ্ব রাজনীতি ও জ্বালানি বাজারে নতুন সমীকরণ তৈরি করেছে।
এক সাক্ষাৎকারে ইরানি পররাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, মধ্যপ্রাচ্যে চরম উত্তেজনা সত্ত্বেও ইরান বিশ্ব অর্থনীতিতে ধস নামাতে চায় না। সে কারণেই তেলের অন্যতম প্রধান এই রুটটি বন্ধ করা হয়নি। তবে নিরাপত্তার স্বার্থে অনেক জাহাজ কোম্পানি স্বপ্রণোদিত হয়ে এই পথ এড়িয়ে চললেও ইরান একে ‘পুরোপুরি উন্মুক্ত’ হিসেবে সংজ্ঞায়িত করতে নারাজ। আব্বাস আরাঘচি সতর্কবাণী উচ্চারণ করে বলেন, কেবল সাধারণ বাণিজ্যিক জাহাজগুলোই এই পথে অবাধে যাতায়াত করতে পারবে।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলকে কড়া হুঁশিয়ারি দিয়ে আরাঘচি বলেন, যদি ইরানের তেল স্থাপনাগুলোতে কোনো ধরনের হামলা চালানো হয়, তবে তার প্রতিক্রিয়া হবে ভয়াবহ। ইরান কেবল নিজের ভূখণ্ড রক্ষা করবে না, বরং পারস্য উপসাগরজুড়ে ছড়িয়ে থাকা তেল অবকাঠামোকে লক্ষ্যবস্তু বানাতে দ্বিধা করবে না। তার এই সরাসরি হুমকি ওয়াশিংটন ও তেল আবিবের ওপর মনস্তাত্ত্বিক চাপ সৃষ্টি করবে বলে মনে করছেন সামরিক বিশ্লেষকরা।
ওমান ও ইরানের মধ্যবর্তী এই সংকীর্ণ জলপথটি মূলত বিশ্বের ‘এনার্জি লাইফলাইন’। প্রতিদিন বিশ্বের মোট চাহিদার প্রায় এক-পঞ্চমাংশ তেল এই রুট দিয়ে পরিবাহিত হয়। উপসাগরীয় দেশগুলোর তেল রপ্তানির সিংহভাগ এই সংকীর্ণ পথটির ওপর নির্ভরশীল হওয়ায় এখানকার সামান্যতম অস্থিরতাও বিশ্ববাজারে জ্বালানির দামে বড় ধরনের উল্লম্ফন ঘটাতে সক্ষম। তেহরান সম্ভবত এই অর্থনৈতিক স্পর্শকাতরতাকে হাতিয়ার করেই তাদের প্রতিরক্ষা নীতি সাজিয়েছে।
বর্তমানে হরমুজ প্রণালি কেন্দ্র করে যে স্নায়ুযুদ্ধ চলছে, তা কেবল আঞ্চলিক সীমানায় সীমাবদ্ধ নয়; বরং বিশ্ব অর্থনীতির স্থিতিশীলতা এখন তেহরানের একটি সিদ্ধান্তের ওপর ঝুলে আছে।
তথ্যসূত্র: টাইমস অব ইসরাইল