মার্কিন বিমান হামলায় বিধ্বস্ত ইরানের কৌশলগত খারগ দ্বীপের একটি সামরিক স্থাপনা। এএফপি
মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনীতিতে চরম উত্তেজনা ছড়িয়ে ইরানের কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ‘খারগ দ্বীপে’ ভয়াবহ বিমান হামলা চালিয়েছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। হরমুজ প্রণালির সন্নিকটে অবস্থিত এই দ্বীপটিতে শনিবার ভোরে অন্তত ১৫টি শক্তিশালী বিস্ফোরণ ঘটে। ইরান দাবি করেছে, হামলায় তাদের সামরিক অবকাঠামো ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হলেও দেশটির অর্থনীতির মূল ভিত্তি হিসেবে পরিচিত তেল স্থাপনাগুলো এখনো নিরাপদ রয়েছে।
স্থানীয় সময় শনিবার (১৪ মার্চ) ভোররাতে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ডের (সেন্টকম) যুদ্ধবিমানগুলো পারস্য উপসাগরের এই ক্ষুদ্র দ্বীপে বৃষ্টির মতো গোলাবর্ষণ শুরু করে। ইরানের রেভোল্যুশনারি গার্ডস কোর (আইআরজিসি) সংশ্লিষ্ট ফার্স নিউজ এজেন্সির তথ্যমতে, হামলার লক্ষ্যবস্তু ছিল দ্বীপের বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, একটি কৌশলগত নৌ ঘাঁটি, বিমানবন্দরের নিয়ন্ত্রণ টাওয়ার এবং একটি হেলিকপ্টার হ্যাঙ্গার। প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, দফায় দফায় বিস্ফোরণে কেঁপে ওঠে পুরো দ্বীপ।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তার নিজস্ব সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ এই হামলাকে মধ্যপ্রাচ্যের ইতিহাসের অন্যতম শক্তিশালী সামরিক পদক্ষেপ হিসেবে অভিহিত করেছেন। ইরানকে কড়া বার্তা দিয়ে তিনি বলেন, "মার্কিন বাহিনী খারগ দ্বীপের প্রতিটি সামরিক লক্ষ্যবস্তু গুঁড়িয়ে দিয়েছে। আমি এখনই দ্বীপটির তেল অবকাঠামো ধ্বংস করার সিদ্ধান্ত নেইনি। তবে হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলে কোনো বিঘ্ন ঘটানো হলে সেই সিদ্ধান্তও পুনর্বিবেচনা করা হবে।"
ট্রাম্পের এই বক্তব্য স্পষ্ট করে দেয় যে, ওয়াশিংটন এখনই ইরানের অর্থনীতি পুরোপুরি পঙ্গু করতে চায় না, বরং সামরিক সক্ষমতাকে লক্ষ্যবস্তু করে একটি ‘নিয়ন্ত্রিত যুদ্ধাবস্থা’ বজায় রাখতে চাইছে।
কেন গুরুত্বপূর্ণ এই খারগ দ্বীপ?
মাত্র পাঁচ মাইল দীর্ঘ এই দ্বীপটি ইরানের উপকূল থেকে ১৫ নটিক্যাল মাইল দূরে অবস্থিত হলেও একে দেশটির ‘অর্থনৈতিক লাইফলাইন’ বলা হয়। ইরানের মোট অপরিশোধিত তেল রপ্তানির প্রায় ৯০ শতাংশই এই দ্বীপের টার্মিনালগুলো দিয়ে সম্পন্ন হয়। ইরান স্পষ্ট করেছে যে, মার্কিন হামলায় তেলের জেটি বা স্টোরেজ ট্যাংকের কোনো ক্ষতি হয়নি, যা বিশ্ববাজারে তেলের দামের বড় ধরনের উল্লম্ফন ঠেকাতে সহায়ক হতে পারে।
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই হামলার মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র সরাসরি ইরানের সার্বভৌমত্বের ওপর আঘাত হানল। আন্তর্জাতিক জলসীমায় চলাচলের স্বাধীনতা নিশ্চিত করার অজুহাতে চালানো এই হামলা মধ্যপ্রাচ্যকে এক অনিশ্চিত যুদ্ধের দিকে ঠেলে দিতে পারে। তেহরান এই হামলার প্রতিশোধ নেওয়ার ঘোষণা দিলে পরিস্থিতি আরও জটিল হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
তথ্যসূত্র: বিবিসি, আল জাজিরা
সম্পাদক ও প্রকাশক: মো. আলী হোসেন
যোগাযোগ: +880244809006 ,01922575574
ই-মেইল: [email protected]
ঠিকানা: ২২০/১ (৫ম তলা), বেগম রোকেয়া সরণি, তালতলা, আগারগাঁও, পশ্চিম কাফরুল, ঢাকা-১২০৭
© 2026 National Tribune All Rights Reserved. Design & Developed By Root Soft Bangladesh
