ভারতের উত্তরপ্রদেশ রাজ্যে ধর্মীয় অনুদান বা যাকাত সংগ্রহ করতে গিয়ে উগ্রবাদী গোষ্ঠীর হাতে চরমভাবে লাঞ্ছিত ও অপদস্থ হয়েছেন তিন প্রবীণ মুসলিম নাগরিক। পবিত্র রমজান মাসের প্রাক্কালে সামাজিক সংহতি ও ধর্মীয় অনুশাসনের অংশ হিসেবে যাকাত সংগ্রহের সময় এই অমানবিক ঘটনাটি ঘটে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এই লাঞ্ছনার ভিডিও ছড়িয়ে পড়লে তা ভারতজুড়ে তীব্র ক্ষোভ ও নিন্দার জন্ম দিয়েছে।
জানা যায়, সাদা শুভ্র দাড়ি ও টুপি পরা তিন প্রবীণ ব্যক্তি স্থানীয় একটি এলাকায় যাকাত বা সাদাকাহ সংগ্রহের জন্য গিয়েছিলেন। প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্র জানায়, সে সময় কিছু উগ্রবাদী যুবক তাঁদের পথরোধ করে এবং কোনো প্ররোচনা ছাড়াই তাঁদের ওপর মৌখিক ও শারীরিক চড়াও হয়। ভিডিওতে দেখা যায়, অসহায় ওই বৃদ্ধদের ভয়ভীতি দেখানো হচ্ছে এবং তাঁদের ধর্মীয় পোশাক ও ধর্মীয় বিশ্বাস নিয়ে অত্যন্ত কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য করা হচ্ছে। প্রবীণ হওয়ার পরেও তাঁদের প্রতি ন্যূনতম মানবিকতা প্রদর্শন করা হয়নি, যা আন্তর্জাতিক মানবাধিকার মানদণ্ডের চরম লঙ্ঘন।
ভুক্তভোগী ওই প্রবীণ ব্যক্তিরা দীর্ঘ সময় ধরে উগ্রবাদীদের তোপের মুখে দাঁড়িয়ে ছিলেন। ঘটনার সময় উপস্থিত জনতা কেবল নীরব দর্শক হয়ে থাকলেও পরে মানবাধিকার কর্মীরা একে উত্তরপ্রদেশের সাম্প্রদায়িক অসহিষ্ণুতার চূড়ান্ত বহিঃপ্রকাশ বলে চিহ্নিত করেছেন। আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমগুলোও এই ঘটনাকে ‘বিদ্বেষমূলক অপরাধ’ হিসেবে অভিহিত করেছে।
স্থানীয় পুলিশ প্রশাসন ঘটনার প্রাথমিক সত্যতা স্বীকার করেছে এবং অভিযুক্তদের শনাক্ত করার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে বলে দাবি করেছে। তবে ধর্মীয় অধিকার কর্মী ও সংখ্যালঘু নেতাদের মতে, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে উত্তরপ্রদেশে ধর্মীয় কারণে প্রবীণ ও অসহায়দের লক্ষ্যবস্তু বানানোর প্রবণতা আশঙ্কাজনক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে।
বিশ্বজুড়ে নিন্দা
এই ঘটনার প্রতিক্রিয়ায় সামাজিক সংহতি নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা প্রকাশ করে বিবৃতি দিয়েছেন বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থা। মানবিক দৃষ্টিভঙ্গি থেকে এই লাঞ্ছনাকে ‘হৃদয়বিদারক’ বলে আখ্যায়িত করা হয়েছে। যে বয়সে প্রবীণদের সম্মান ও সুরক্ষা পাওয়ার কথা, সেই বয়সে কেবল বিশ্বাসের কারণে তাঁদের এমন লাঞ্ছনার শিকার হওয়া ভারতের গণতান্ত্রিক ভাবমূর্তিকে বড় ধরনের প্রশ্নের মুখে ফেলেছে।