× প্রচ্ছদ জাতীয় রাজনীতি অর্থনীতি সারাদেশ আন্তর্জাতিক খেলা বিনোদন ফিচার প্রবাস সকল বিভাগ
ছবি ভিডিও লাইভ লেখক আর্কাইভ

নেতানিয়াহুর ভিডিওতে ‘ছয় আঙুল’, মৃত্যু গুঞ্জনে সরব নেটদুনিয়া

ন্যাশনাল ট্রিবিউন ডেস্ক

১৫ মার্চ ২০২৬, ০৩:৫৩ এএম । আপডেটঃ ১৬ মার্চ ২০২৬, ০৩:১৬ এএম

শুক্রবার প্রচারিত ভিডিও বার্তার একটি স্থিরচিত্র, যেখানে ডান হাতের আঙুলের অবস্থান নিয়ে তৈরি হওয়া অসংগতি নেতানিয়াহুর অবস্থান নিয়ে বিশ্বজুড়ে জন্ম দিয়েছে নানা প্রশ্ন। ছবি: সংগৃহীত

মধ্যপ্রাচ্যে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার রক্তক্ষয়ী সংঘাত যখন ১৫তম দিনে গড়িয়েছে, তখন ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর শারীরিক অবস্থান ও অস্তিত্ব নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তোলপাড় শুরু হয়েছে। গত শুক্রবার (১৩ মার্চ) প্রচারিত তাঁর একটি ভিডিওতে ‘ছয়টি আঙুল’ দৃশ্যমান হওয়ায় নেটিজেনদের বড় একটি অংশ দাবি করছেন, নেতানিয়াহু সম্ভবত নিখোঁজ বা মৃত এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ব্যবহার করে তাঁর ভুয়া ভিডিও প্রচার করা হচ্ছে।

ভিডিওর অসংগতি ও এআই বিতর্ক

গত শুক্রবার যুদ্ধ পরিস্থিতি নিয়ে নিজের ভেরিফায়েড ‘এক্স’ হ্যান্ডলে একটি ভিডিও বার্তা শেয়ার করেন নেতানিয়াহু। সেই ভিডিওর একটি বিশেষ অংশে তাঁর ডান হাতের আঙুল সংখ্যা ছয়টি বলে প্রতীয়মান হয়। প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞরা একে ‘ক্ল্যাসিক এআই গ্লিচ’ বা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার যান্ত্রিক ত্রুটি হিসেবে অভিহিত করছেন। বিষয়টি মুহূর্তেই ভাইরাল হয়ে পড়ে এবং লাখ লাখ মানুষ ভিডিওটি শেয়ার করে প্রশ্ন তোলেন—নেতানিয়াহু আসলে কোথায়?

মার্কিন রক্ষণশীল রাজনৈতিক বিশ্লেষক ক্যান্ডাস ওয়েনস এই বিতর্কে ঘি ঢেলে দিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন, “বিবি কোথায়? কেন তাঁর দপ্তর থেকে এআই ভিডিও প্রকাশ করে আবার মুছে ফেলা হচ্ছে?” হিব্রু ভাষায় একজন ব্যবহারকারী বিদ্রুপ করে লিখেছেন, “হে বিবি, আপনার কি অতিরিক্ত একটি আঙুল গজিয়েছে, নাকি আপনি অনেক আগেই আমাদের ছেড়ে চলে গেছেন?”

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নেতানিয়াহুর ‘মৃত্যু গুজব’ ছড়িয়ে পড়লেও এক্স-এর নিজস্ব এআই চ্যাটবট ‘গ্রোক’ এসব দাবিকে ভিত্তিহীন বলে উড়িয়ে দিয়েছে। গ্রোক-এর তথ্যমতে, ভিডিওতে পোডিয়ামের অবস্থান এবং ক্যামেরার বিশেষ কোণের কারণে একটি ‘দৃষ্টিবিভ্রম’ তৈরি হয়েছে, যা অস্বাভাবিক মনে হচ্ছে। টাইমস অব ইসরায়েল এবং ফ্যাক্ট-চেক প্রতিষ্ঠান ‘স্নোপস’ দাবি করেছে, নেতানিয়াহু জীবিত আছেন এবং তাঁর মৃত্যুর খবরটি মূলত একটি উদ্দেশ্যপ্রণোদিত প্রচার।

তবে আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যা সত্ত্বেও জনমনে সংশয় কাটছে না। এর পেছনে অন্যতম কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে নেতানিয়াহুর ছেলে ইয়ার নেতানিয়াহুর দীর্ঘ নিরবতাকে। সাধারণত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অত্যন্ত সক্রিয় ইয়ার গত ৯ মার্চের পর থেকে আর কোনো পোস্ট করেননি। এছাড়া মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্টের একটি সংবাদ সম্মেলন থেকে নাটকীয় প্রস্থান এবং হোয়াইট হাউসের এক রহস্যময় তৎপরতাকে এই ঘটনার সঙ্গে মিলিয়ে দেখছেন অনেকে।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির মৃত্যুর পর মধ্যপ্রাচ্যের রাজনৈতিক সমীকরণ যে চরম অনিশ্চয়তার দিকে মোড় নিয়েছে, নেতানিয়াহুর এই ভিডিও বিতর্ক সেই উত্তাপকে আরও কয়েক গুণ বাড়িয়ে দিল।


তথ্যসূত্র: এনডিটিভি


National Tribune

সম্পাদক ও প্রকাশক: মো. আলী হোসেন

যোগাযোগ: +880244809006 ,01922575574

ই-মেইল: [email protected]

ঠিকানা: ২২০/১ (৫ম তলা), বেগম রোকেয়া সরণি, তালতলা, আগারগাঁও, পশ্চিম কাফরুল, ঢাকা-১২০৭

আমাদের সঙ্গে থাকুন

© 2026 National Tribune All Rights Reserved.