ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনির শারীরিক অবস্থা এবং তাঁর নেতৃত্ব নিয়ে চলমান জল্পনা উড়িয়ে দিয়েছেন দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি। মার্কিন কর্মকর্তাদের দাবি ও পশ্চিমা সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনের বিপরীতে তেহরান জানিয়েছে, নতুন সর্বোচ্চ নেতার কার্যক্রমে কোনো সংকট নেই। একই সঙ্গে মধ্যপ্রাচ্য থেকে মার্কিন বাহিনীকে বহিষ্কার করতে প্রতিবেশী দেশগুলোর প্রতি জোরালো আহ্বান জানিয়েছেন ইরানের এই শীর্ষ কূটনীতিক।
এএফপি এবং দ্য টাইমস অব ইসরায়েলের প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছিল যে, সাম্প্রতিক এক হামলায় মোজতবা খামেনি আহত হয়েছেন। এ প্রসঙ্গে এমএস নাউ-এর আয়মান মোহিয়েলদিনকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে আব্বাস আরাঘচি বলেন, “নতুন সর্বোচ্চ নেতাকে নিয়ে বিন্দুমাত্র কোনো সমস্যা নেই। তিনি গতকালই রাষ্ট্রীয় বার্তা পাঠিয়েছেন এবং পূর্ণোদ্যমে নিজের দায়িত্ব পালন করছেন।”
এর আগে ইরানি কর্মকর্তারা নতুন নেতার আহত হওয়ার খবরটি স্বীকার করলেও বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা থেকে বিরত ছিলেন। উল্লেখ্য, ৫৬ বছর বয়সী মোজতবা খামেনি তাঁর পিতা আলী খামেনি ও পরিবারের অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ সদস্যদের নিহতের পর থেকে জনসমক্ষে না আসায় তাঁর শারীরিক অবস্থা নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে ধোঁয়াশা তৈরি হয়।
আব্বাস আরাঘচি কেবল অভ্যন্তরীণ নেতৃত্বই নয়, বরং আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়েও কড়া বার্তা দিয়েছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ (সাবেক টুইটার) দেওয়া এক পোস্টে তিনি মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সামরিক উপস্থিতিকে ‘ছিদ্রযুক্ত ও অকার্যকর’ হিসেবে অভিহিত করেন। তিনি বলেন, “এই অঞ্চলে মার্কিন নিরাপত্তা ছত্রছায়া স্থিতিশীলতা দেওয়ার পরিবর্তে বহিঃশত্রুর জন্য আমন্ত্রণমূলক গর্তে পরিণত হয়েছে।”
ইরানের শীর্ষ এই কূটনীতিক প্রতিবেশী দেশগুলোকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেন, মধ্যপ্রাচ্যের দীর্ঘস্থায়ী শান্তি ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হলে ‘বিদেশি আগ্রাসকদের’ এই অঞ্চল থেকে পুরোপুরি বহিষ্কার করতে হবে। ইরানের এই অবস্থান মূলত যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বিরুদ্ধে তাদের চলমান ‘প্রতিরোধ’ কৌশলেরই অংশ বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।
তথ্যসূত্র: দ্য টাইমস অব ইসরায়েল