মধ্যপ্রাচ্যে ইরানের সঙ্গে চলমান রক্তক্ষয়ী সংঘাত নিয়ে খোদ হোয়াইট হাউসের অভ্যন্তরেই বাজতে শুরু করেছে সতর্কঘণ্টা। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের শীর্ষ উপদেষ্টা ডেভিড স্যাক্স এই যুদ্ধকে একটি 'অনিশ্চিত গন্তব্য' হিসেবে অভিহিত করে অবিলম্বে একটি সুনির্দিষ্ট ‘নির্গমন পরিকল্পনা’ বা রোডম্যাপ তৈরির আহ্বান জানিয়েছেন। তাঁর মতে, সংঘাত দীর্ঘায়িত হলে ইসরায়েলের অস্তিত্ব সংকটের মুখে পড়ার পাশাপাশি গোটা পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চল এক ভয়াবহ মানবিক ও অর্থনৈতিক বিপর্যয়ে নিমজ্জিত হতে পারে।
আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম ফিন্যান্সিয়াল টাইমসের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ডেভিড স্যাক্স ওয়াশিংটনকে উত্তেজনা কমিয়ে যুদ্ধবিরতি প্রতিষ্ঠার পথে হাঁটার জন্য তাগিদ দিয়েছেন। তিনি স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছেন যে, বৈশ্বিক বাজার এবং বিনিয়োগকারীরা এখন যুদ্ধের বদলে স্থিতিশীলতা চাইছে। যুদ্ধের নেতিবাচক প্রভাব বিশ্ব অর্থনীতিতে যে গভীর ক্ষত তৈরি করছে, তা থেকে উত্তরণের একমাত্র পথ হলো আলোচনার টেবিলে ফিরে আসা।
স্যাক্স সতর্ক করে দিয়ে বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র যদি ইরানের গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোকে লক্ষ্যবস্তু করা অব্যাহত রাখে, তবে ইরানও সমমানের পাল্টা হামলা চালানোর সক্ষমতা ও সংকল্প রাখে। এই 'পাল্টা হামলার চক্র' শুরু হলে পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলের জনপদগুলো জনশূন্য হয়ে পড়তে পারে, যা আধুনিক ইতিহাসের অন্যতম বড় মানবিক বিপর্যয় হিসেবে চিহ্নিত হবে।
ট্রাম্পের এই উপদেষ্টার সবচেয়ে চাঞ্চল্যকর বক্তব্য ছিল ইসরায়েলকে নিয়ে। তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন যে, বর্তমান সংঘাত যদি আগামী কয়েক সপ্তাহ বা কয়েক মাস ধরে অব্যাহত থাকে, তবে ইসরায়েল সামরিক ও কাঠামোগতভাবে অপূরণীয় ক্ষতির শিকার হবে। ভূ-রাজনৈতিক সংকটের কেন্দ্রে থাকা রাষ্ট্রটি এই দীর্ঘমেয়াদী যুদ্ধের ভার সইতে পারবে না বলে তিনি মন্তব্য করেন।
কূটনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ মহলের পক্ষ থেকে এমন খোলামেলা স্বীকারোক্তি ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, মার্কিন প্রশাসন এখন ইরানের সঙ্গে সামরিক শক্তি প্রদর্শনের চেয়ে পর্দার আড়ালের কূটনীতিকে বেশি গুরুত্ব দেওয়ার কথা ভাবছে।