মধ্যপ্রাচ্যের অস্থির ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে ক্ষেপণাস্ত্র প্রযুক্তিতে ইরানের অভাবনীয় সাফল্যকে এই অঞ্চলের দেশগুলোর জন্য 'অনুকরণীয় আদর্শ' হিসেবে অভিহিত করেছেন কাতারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী শেখ হামাদ বিন জাসিম আল থানি। দীর্ঘদিনের আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা ও বৈরী পরিস্থিতি মোকাবিলা করে তেহরান যেভাবে সামরিক সক্ষমতা অর্জন করেছে, তা থেকে আরব দেশগুলোকে শিক্ষা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।
শনিবার এক বিবৃতিতে হামাদ বিন জাসিম ইরানের সামরিক স্বয়ংসম্পূর্ণতার ভূয়সী প্রশংসা করেন। তিনি উল্লেখ করেন, ইরান কেবল অস্ত্র আমদানিই করেনি, বরং ক্ষেপণাস্ত্র নির্মাণ শিল্পকে সম্পূর্ণ স্থানীয়করণ করতে সক্ষম হয়েছে। বৈশ্বিক অবরোধের মুখেও প্রযুক্তির এই ঘরোয়া বিকাশকে মধ্যপ্রাচ্যের অন্য দেশগুলোর জন্য একটি বড় ‘শিক্ষা’ হিসেবে গণ্য করছেন এই অভিজ্ঞ রাজনীতিক।
পার্সটুডে’র এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চলমান সংঘাতের রেশ ধরে কাতারি এই নেতা দূরদর্শী মন্তব্য করেছেন। তিনি বলেন, "ইতিহাসের অন্যান্য যুদ্ধের মতো বর্তমানের এই সংঘাতও একদিন স্তিমিত হয়ে আসবে। তবে এই যুদ্ধ যে গভীর ভূ-রাজনৈতিক বার্তা দিয়ে যাচ্ছে, তা এড়িয়ে যাওয়ার সুযোগ নেই।" তার মতে, পারস্য উপসাগরীয় সহযোগিতা পরিষদের (জিসিসি) সদস্য দেশগুলোর উচিত নিজেদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ইরানের প্রতিরক্ষা কৌশলের প্রভাব পর্যবেক্ষণ করা।
বিবৃতিতে উঠে এসেছে যে, কয়েক দশকের অর্থনৈতিক ও প্রযুক্তিগত সীমাবদ্ধতা ইরানের উদ্ভাবনী শক্তির পথে বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারেনি। হামাদ বিন জাসিম মনে করেন, আধুনিক প্রতিরক্ষা ব্যবস্থায় বিদেশের ওপর অতিনির্ভরশীলতা কাটিয়ে উঠে স্বয়ংসম্পূর্ণ হওয়ার যে পথ ইরান দেখিয়েছে, তা আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষার অন্যতম চাবিকাঠি।
বিশেষজ্ঞদের মতে, কাতারের সাবেক এই শীর্ষ কূটনীতিকের এমন অকপট স্বীকারোক্তি মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর প্রতিরক্ষা ভাবনায় নতুন করে প্রভাব ফেলতে পারে।