মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনৈতিক সমীকরণে নতুন মোড় নিয়েছে। ইরান ও ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার চলমান সংঘাতের উত্তপ্ত আবহে এবার প্রতিবেশী আরব দেশগুলোকে লক্ষ্যবস্তু না করার জন্য তেহরানের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে ফিলিস্তিনি সশস্ত্র গোষ্ঠী হামাস। শনিবার এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে গোষ্ঠীটি ইরানকে আত্মরক্ষার অধিকার দিলেও আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার স্বার্থে সংযম প্রদর্শনের অনুরোধ জানায়।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি সর্বাত্মক যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর এটিই হামাসের পক্ষ থেকে আসা প্রথম কোনো উচ্চপর্যায়ের আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া। বিবৃতিতে হামাস স্পষ্ট করে বলেছে, আন্তর্জাতিক আইন ও স্বীকৃত রীতি অনুযায়ী যেকোনো আগ্রাসনের বিরুদ্ধে কঠোর জবাব দেওয়ার পূর্ণ অধিকার ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের রয়েছে। তবে সেই পাল্টা আঘাত যেন কোনোভাবেই প্রতিবেশী আরব রাষ্ট্রগুলোর ওপর ছিটকে না পড়ে, সেই বিষয়ে ‘ইরানি ভাইদের’ প্রতি বিশেষ অনুরোধ জানানো হয়েছে।
ইরান ও কাতারের সঙ্গে দীর্ঘদিনের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক বজায় রাখা হামাস বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্যে তেহরান-সমর্থিত ‘অক্ষশক্তি’ বা রেজিস্ট্যান্স এলায়েন্সের অন্যতম প্রধান অংশীদার। তা সত্ত্বেও, যুদ্ধ ছড়িয়ে পড়া ঠেকাতে গোষ্ঠীটি এখন আঞ্চলিক সংবাদের সুর পরিবর্তন করছে। বিবৃতিতে তারা ইরানকে লক্ষ্য করে পরিচালিত মার্কিন ও ইসরায়েলি হামলা রুখতে মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোকে ‘সহযোগিতা ও ঐক্যবদ্ধ’ হওয়ার উদাত্ত আহ্বান জানায়।
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, হামাসের এই অবস্থান মূলত এক ধরনের কৌশলগত ভারসাম্য। একদিকে তারা ইরানের সামরিক সক্ষমতাকে সমর্থন দিচ্ছে, অন্যদিকে আরব দেশগুলোর সঙ্গে শত্রুতা তৈরি করে নিজেদের জনবিচ্ছিন্ন করতে চাইছে না। বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়েছে, "বর্তমান অস্থিরতা নিরসন এবং সংঘাতের অবসান ঘটানো এই অঞ্চলের সামগ্রিক নিরাপত্তার স্বার্থে এখন সময়ের দাবি।"
তথ্যসূত্র: এপি