মধ্যপ্রাচ্যসহ বিশ্বজুড়ে চলমান অস্থিরতা ও ক্রমবর্ধমান সামরিক উত্তেজনার মাঝে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করলেন তুর্কি প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়্যেপ এরদোয়ান। তিনি সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, কোনো অবস্থাতেই সরাসরি যুদ্ধে জড়াবে না আঙ্কারা। আঞ্চলিক অস্থিতিশীলতা নিরসনে তুরস্ক সামরিক সংঘাতের চেয়ে কূটনৈতিক সমাধান এবং শান্তির পথকেই অগ্রাধিকার দিচ্ছে।
প্রেসিডেন্ট এরদোয়ান এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে উল্লেখ করেন যে, যুদ্ধের ভয়াবহতা কোনো জাতির জন্যই কল্যাণ বয়ে আনে না। বর্তমান বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে তুরস্কের লক্ষ্য হলো নিজেদের সার্বভৌমত্ব রক্ষা করা এবং প্রতিবেশি দেশগুলোর মধ্যে শান্তি বজায় রাখতে মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করা। তিনি জোর দিয়ে বলেন, উস্কানিমূলক কোনো পদক্ষেপ তুরস্ককে যুদ্ধের ময়দানে টেনে নিতে পারবে না।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এরদোয়ানের এই ঘোষণা আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে তুরস্কের কৌশলগত ভারসাম্য বজায় রাখার একটি অংশ। একদিকে ন্যাটোর গুরুত্বপূর্ণ সদস্য হওয়া এবং অন্যদিকে আঞ্চলিক শক্তিগুলোর সাথে সুসম্পর্ক বজায় রাখার যে চ্যালেঞ্জ, তা তিনি সামরিক সংঘাত এড়িয়েই মোকাবিলা করতে চান। তিনি বলেছেন, তুরস্কের সামরিক শক্তি কেবল আত্মরক্ষা এবং আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করার জন্য সংরক্ষিত।
এরদোয়ান মনে করেন, যুদ্ধের দাবানল ছড়িয়ে পড়লে তার প্রভাব কেবল সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর ওপর সীমাবদ্ধ থাকে না, বরং বৈশ্বিক অর্থনীতি ও মানবতাও বিপর্যয়ের মুখে পড়ে। তাই মানবিক সংকটের এই সময়ে সংঘাত নয়, বরং আলোচনার টেবিলে বসে সমস্যা সমাধানের জন্য বিশ্বনেতাদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।