বিশ্ব কুদস দিবসের গণমিছিলে ইরানিদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণকে ওয়াশিংটন ও তেল আবিবের জন্য এক চূড়ান্ত মনস্তাত্ত্বিক পরাজয় হিসেবে অভিহিত করেছে তেহরান। বিশ্ব কুদস দিবস কেন্দ্রীয় কমিটির প্রধান রামাজান শরিফ বলেছেন, দীর্ঘমেয়াদি সংঘাতের ময়দানে শত্রুপক্ষ কেবল কৌশলগতভাবে ব্যর্থই হয়নি, বরং তারা ইরানি জাতির আধ্যাত্মিক ও রাজনৈতিক সংকল্প পরিমাপ করতেও চরম ভুল করেছে। শুক্রবার তেহরানে আয়োজিত এক বিশাল সমাবেশে সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি এই কড়া মন্তব্য করেন।
ইরানি বার্তা সংস্থা ইরনা-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে রামাজান শরিফ বলেন, কুদস দিবসের এই মিছিল কেবল একটি বাৎসরিক কর্মসূচি নয়, বরং এর পেছনে রয়েছে গভীর ধর্মীয় আবেগ ও সুদীর্ঘ সংগ্রামের ইতিহাস। চার দশকেরও বেশি সময় আগে ‘আরোপিত যুদ্ধ’ শুরুর কাল থেকেই প্রতিকূল আবহাওয়া কিংবা বৈরী পরিস্থিতি—কোনো কিছুই ইরানের আপামর জনতাকে রাজপথ থেকে সরাতে পারেনি। তিনি এই উপস্থিতিকে ইরানি জাতির একটি পবিত্র জাতীয় ও আধ্যাত্মিক দায়িত্ব পালন হিসেবে বর্ণনা করেন।
সংঘাতের গতিপ্রকৃতি বিশ্লেষণ করতে গিয়ে শরিফ বলেন, পশ্চিমা শক্তি ও জায়নবাদী গোষ্ঠীগুলোর চিরচেনা কৌশল হলো স্বল্পমেয়াদি আক্রমণের মাধ্যমে দ্রুত বিজয় ছিনিয়ে নেওয়া। কিন্তু যখন তারা সম্মুখ সমরে বা যুদ্ধের ময়দানে কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্য অর্জনে ব্যর্থ হয়, তখন তারা দিশেহারা হয়ে নতুন কৌশলের আশ্রয় নেয়। তিনি জোর দিয়ে বলেন, "শত্রুরা যখন রণাঙ্গনে হেরে যায়, তখন তারা পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার জন্য নানামুখী প্রোপাগান্ডা ছড়ায়। কিন্তু রাজপথের এই জনসমুদ্র তাদের সকল ছক নস্যাৎ করে দিয়েছে।"
রামাজান শরিফ আল-কুদস দিবসের মিছিলকে একটি 'স্পষ্ট ও দ্ব্যর্থহীন বার্তা' হিসেবে চিহ্নিত করেন। তাঁর মতে, মার্কিন নীতিনির্ধারক ও ইসরায়েলি গোয়েন্দা সংস্থাগুলো আজও ইরানি জনগণের মনস্তত্ত্ব উপলব্ধি করতে সক্ষম হয়নি। এই ঐতিহাসিক জমায়েত প্রমাণ করে যে, কোনো ধরনের অর্থনৈতিক অবরোধ বা সামরিক হুমকি ইরানকে ফিলিস্তিন ও কুদস মুক্তির বৈশ্বিক লক্ষ্য থেকে বিচ্যুত করতে পারবে না।
বিশ্ব কুদস দিবসের এই বিশাল সমাবেশ এমন এক সন্ধিক্ষণে অনুষ্ঠিত হলো যখন মধ্যপ্রাচ্য জুড়ে উত্তেজনার পারদ তুঙ্গে, যা বিশ্ব রাজনীতির নিয়ন্ত্রকদের জন্য এক নতুন শক্তির মহড়া হিসেবে কাজ করবে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।