মধ্যপ্রাচ্যের ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যেই ইরানের রাজনৈতিক ও সামরিক কাঠামোর শীর্ষস্থানীয় ব্যক্তিবর্গের বিরুদ্ধে নজিরবিহীন এক পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে যুক্তরাষ্ট্র। ইরানের সর্বোচ্চ নেতার উত্তরসূরি হিসেবে বিবেচিত মোজতবা খামেনি এবং জাতীয় নিরাপত্তা কাউন্সিলের সচিব আলী লারিজানিসহ বেশ কয়েকজন প্রভাবশালী নেতার গতিবিধি ও অবস্থান সংক্রান্ত তথ্যের বিনিময়ে ১ কোটি (১০ মিলিয়ন) ডলার পর্যন্ত পুরস্কার ঘোষণা করেছে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর।
মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের সুপরিচিত ‘রিওয়ার্ডস ফর জাস্টিস’ (বিচারের জন্য পুরস্কার) কর্মসূচির আওতায় এই বিশাল অংকের অর্থ ঘোষণা করা হয়েছে। প্রকাশিত এক আনুষ্ঠানিক পোস্টারে যুক্তরাষ্ট্র দাবি করেছে, এই নেতারা ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)–এর বিভিন্ন শাখাকে বিশ্বজুড়ে ছায়াযুদ্ধ এবং সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের পরিকল্পনা ও বাস্তবায়নে সরাসরি নেতৃত্ব দিচ্ছেন। মার্কিন প্রশাসনের অভিযোগ, তেহরানের এই নীতিনির্ধারকরা বৈশ্বিক স্থিতিশীলতার জন্য বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরি করছেন।
ঘোষিত তালিকায় ইরানের বর্তমান রাজনৈতিক ও প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার শক্তিশালী স্তম্ভদের নাম রয়েছে। এদের মধ্যে রয়েছেন:
- মোজতবা খামেনি: ইরানের সর্বোচ্চ নেতার প্রভাবশালী পুত্র ও সম্ভাব্য উত্তরসূরি।
- আলী লারিজানি: সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের সচিব ও সাবেক স্পিকার।
- ইসমাইল খতিব: বর্তমান গোয়েন্দামন্ত্রী।
- আলি আসগর হেজাজি: ডেপুটি চিফ অব স্টাফ।
- মেজর জেনারেল ইয়াহিয়া রহিম সাফাভি: সর্বোচ্চ নেতার সামরিক উপদেষ্টা।
- এসকান্দার মোমেনি: প্রভাবশালী সামরিক ব্যক্তিত্ব।
মার্কিন দপ্তর স্পষ্ট করেছে, যারা এই ব্যক্তিদের আর্থিক নেটওয়ার্ক বা নাশকতামূলক কর্মকাণ্ডের নির্ভরযোগ্য তথ্য দিতে পারবেন, তাদের পরিচয় গোপন রেখে সর্বোচ্চ নিরাপত্তা প্রদান করা হবে। এমনকি প্রয়োজনবোধে তথ্যদাতাদের এবং তাদের পরিবারকে নিরাপদ কোনো দেশে স্থায়ীভাবে পুনর্বাসনের প্রতিশ্রুতিও দিয়েছে ওয়াশিংটন।
মার্কিন এই ঘোষণাকে তোয়াক্কা না করেই তেহরানের রাজপথে সরব উপস্থিতি লক্ষ্য করা গেছে এই নেতাদের। শুক্রবার আল-কুদস দিবসের বিশাল গণমিছিলে আলী লারিজানিকে জনসমক্ষে অংশ নিতে দেখা যায়। এমনকি তিনি নিজেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সেই বিক্ষোভ কর্মসূচির ছবি প্রকাশ করে ওয়াশিংটনের এই পুরস্কার ঘোষণাকে এক প্রকার উপেক্ষা করার বার্তা দিয়েছেন।
বিশ্লেষকদের মতে, গাজা ও লেবানন পরিস্থিতির অবনতির এই সময়ে শীর্ষ ইরানি নেতাদের বিরুদ্ধে এমন পদক্ষেপ তেহরান-ওয়াশিংটন সংঘাতকে এক নতুন মনস্তাত্ত্বিক যুদ্ধের দিকে ঠেলে দিল।