মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনীতিতে চরম উত্তেজনা ছড়িয়ে এবার খোদ ইসরায়েলের হৃৎপিণ্ড তেল আবিবের উপকণ্ঠে ভয়াবহ হামলা চালিয়েছে হিজবুল্লাহ ও ইরান। একের পর এক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন বর্ষণে প্রকম্পিত হয়ে উঠেছে আধুনিক এই নগরীর চারপাশ। গত কয়েক ঘণ্টার অভিযানে তেল আবিবের উপকণ্ঠের গুরুত্বপূর্ণ সামরিক ও কৌশলগত স্থাপনাগুলোতে আঘাত হানতে সক্ষম হয়েছে এই জোট, যার ফলে ছড়িয়ে পড়েছে বিধ্বংসী অগ্নিশিখা।
আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমগুলোর সূত্রে জানা গেছে, স্থানীয় সময় গভীর রাতে সাইরেনের উচ্চকিত শব্দের পরপরই একের পর এক বিস্ফোরণে কেঁপে ওঠে তেল আবিবের উত্তরের শিল্পাঞ্চল ও সামরিক ঘাঁটিগুলো। হিজবুল্লাহর পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, তারা অত্যাধুনিক নির্ভুল নিশানার ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করে ইসরায়েলের ‘নিশ্ছিদ্র’ নিরাপত্তা বলয় ভেদ করেছে।
অন্যদিকে, ইরানের সম্পৃক্ততা এই আক্রমণকে আরও বেশি রক্তক্ষয়ী ও বিধ্বংসী রূপ দিয়েছে। হামলার পরপরই বিভিন্ন স্থাপনায় দাউ দাউ করে জ্বলতে থাকা আগুনের লেলিহান শিখা মাইলের পর মাইল দূর থেকে দৃশ্যমান হচ্ছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওগুলোতে দেখা যায়, আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ‘আয়ডন ডোম’ বিদীর্ণ করে বেশ কিছু রকেট সরাসরি জনবহুল ও সংরক্ষিত এলাকায় আছড়ে পড়ছে।
এই হামলা কেবল ক্ষয়ক্ষতির মধ্যেই সীমাবদ্ধ নেই, বরং এটি ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার জন্য এক বড় ধরনের কৌশলগত চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা দিচ্ছে। তেল আবিবের মতো সুরক্ষিত শহরে আগুনের এই মহোৎসব সাধারণ নাগরিকদের মধ্যে তীব্র আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে। দেশটির জরুরি বিভাগগুলো আগুন নিয়ন্ত্রণে হিমশিম খাচ্ছে এবং নিরাপত্তার স্বার্থে সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে যান চলাচল।
বিশ্লেষকদের মতে, ইরান ও হিজবুল্লাহর এই সমন্বিত অবস্থান মধ্যপ্রাচ্যে দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধের দামামা বাজিয়ে দিল। যেখানে সাধারণত আকাশপথের লড়াই চলে, সেখানে স্থলভাগের গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলো এভাবে জ্বলতে দেখা ইসরায়েলি গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর জন্য এক বিরাট ব্যর্থতা হিসেবে গণ্য করা হচ্ছে।
এই ঘটনার পর বিশ্বজুড়ে উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়েছে। ওয়াশিংটন থেকে শুরু করে ইউরোপীয় দেশগুলো সংযম প্রদর্শনের আহ্বান জানালেও, তেহরান ও লেবানন ফ্রন্ট স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে—আগ্রাসনের জবাব এভাবেই দেওয়া হবে। তেল আবিবের উপকণ্ঠ থেকে ধোঁয়ার কুণ্ডলী এখনো আকাশকে আচ্ছন্ন করে রেখেছে, যা এই অঞ্চলের অনিশ্চিত ভবিষ্যতের এক মৌন সাক্ষী।