ইরানের ধারাবাহিক প্রতিশোধমূলক ক্ষেপণাস্ত্র হামলার মুখে ইসরায়েলের অভ্যন্তরে চরম মানবিক ও নিরাপত্তা সংকট তৈরি হয়েছে। ইসরায়েলি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সবশেষ পরিসংখ্যান অনুযায়ী, সংঘাত শুরুর পর থেকে এ পর্যন্ত ২ হাজার ৭৪৫ জন ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারী গুরুতর আহত অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। ইরানের আধা-সরকারি সংবাদমাধ্যম ‘তাসনিম নিউজ এজেন্সি’ এই তথ্য প্রকাশ করেছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে ১৭৯ জন ইসরায়েলিকে জরুরি ভিত্তিতে হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে। বর্তমানে অন্তত ৮৫ জন আহতের অবস্থা অত্যন্ত আশঙ্কাজনক বলে জানা গেছে। যদিও ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ নিহতের সুনির্দিষ্ট সংখ্যা নিয়ে কঠোর গোপনীয়তা বজায় রাখছে, তবে আহতের এই বিশাল সংখ্যাটি ক্ষয়ক্ষতির ব্যাপকতাকেই নির্দেশ করে।
ক্ষেপণাস্ত্র হামলার তীব্রতা বাড়ার সাথে সাথে তেল আবিব এবং অধিকৃত আল-কুদস (জেরুজালেম) জুড়ে সতর্ক সংকেত বা সাইরেন বেজে উঠছে। ইসরায়েলের ‘হোম ফ্রন্ট কমান্ড’ জানিয়েছে, ইরানের দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র শনাক্ত হওয়ার পর তেল আবিবের বাণিজ্যিক এলাকা ও বসতিগুলোতে বাসিন্দাদের নিরাপদ আশ্রয়ে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। মুহুর্মুহু সাইরেনের শব্দে গোটা অঞ্চলের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা এখন থমকে গেছে।
প্রতিরক্ষা বিশ্লেষকদের মতে, ইরানের এই ব্যাপক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা ইসরায়েলের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে নতুন চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলেছে। বিশেষ করে এক দিনে ১৭৯ জন আহতের ঘটনাটি ইসরায়েলি নিরাপত্তা বেষ্টনীতে বড় ধরনের ফাটলের ইঙ্গিত দিচ্ছে। এদিকে, ইসরায়েলের সামরিক সদর দপ্তর ও স্পর্শকাতর স্থাপনাগুলোকে লক্ষ্য করে ইরানের এই পাল্টাপাল্টি আক্রমণ মধ্যপ্রাচ্যকে এক দীর্ঘমেয়াদী যুদ্ধের দিকে ঠেলে দিচ্ছে।
হাসপাতালগুলোতে আহতের সংখ্যা ক্রমাগত বাড়তে থাকায় চিকিৎসা সরঞ্জাম ও শয্যা সংকটের খবরও পাওয়া যাচ্ছে। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে ইসরায়েলি প্রশাসন দেশজুড়ে জরুরি সতর্কতা জারি রেখেছে।
তথ্যসূত্র: তাসনিম নিউজ এজেন্সি