লেবাননের ইসলামি প্রতিরোধ আন্দোলন হিজবুল্লাহর সাম্প্রতিক নজিরবিহীন ক্ষেপণাস্ত্র হামলাকে কেন্দ্র করে গভীর উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়েছে ইসরায়েলের রাজনৈতিক ও সামরিক মহলে। তেল আবিবের নীতিনির্ধারকরা মনে করছেন, উত্তর সীমান্ত থেকে ধেয়ে আসা এই আগুনের বৃষ্টি কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়, বরং এটি ইসরায়েলের গভীরে আরও ভয়াবহ ও বিধ্বংসী আক্রমণের ‘উপক্রমণিকা’ মাত্র।
ইসরায়েলি পার্লামেন্ট নেসেটের সদস্য উরান হাযান হিজবুল্লাহর এই সমরকৌশল নিয়ে কড়া সতর্কবার্তা উচ্চারণ করেছেন। ইসরায়েলের নিউজ ২৪ চ্যানেলকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি জানান, “হিজবুল্লাহ যেভাবে লজিস্টিকস ও বিপুল পরিমাণ ক্ষেপণাস্ত্রের সমন্বয় ঘটাচ্ছে, তাতে এটি স্পষ্ট যে তারা যুদ্ধের পরবর্তী ধাপের জন্য চূড়ান্ত প্রস্তুতি নিচ্ছে। তারা কেবল শক্তি প্রদর্শন করছে না, বরং একটি বৃহৎ সংঘাতের পটভূমি তৈরি করছে।”
উরান হাযান আরও বলেন, ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনীকে এখন সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থায় থাকতে হবে। হিজবুল্লাহর এই তৎপরতাকে ‘সাধারণ হামলা’ হিসেবে দেখার কোনো সুযোগ নেই, বরং এটি নিকট ভবিষ্যতে আসতে চলা এক প্রলয়ংকরী যুদ্ধের সূচনা হতে পারে।
ইরানি সংবাদমাধ্যম পার্সটুডে ও মেহের নিউজের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হিজবুল্লাহ গত কয়েক দিনে ইসরায়েলের অভ্যন্তরে কৌশলগত বিভিন্ন সামরিক ঘাঁটি ও জনবসতি লক্ষ্য করে মুহুর্মুহু রকেট ও ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে। ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা অনেক ক্ষেত্রে এই হামলা প্রতিহত করতে হিমশিম খাচ্ছে।
ইসরায়েলের রাষ্ট্রীয় রেডিওর এক স্বীকারোক্তিতে জানা গেছে, গত কয়েক দিনে লেবানন সীমান্ত থেকে ১০০টিরও বেশি শক্তিশালী ক্ষেপণাস্ত্র ইসরায়েলের গভীরে আঘাত হেনেছে। এর ফলে উত্তর ইসরায়েলের জীবনযাত্রা স্থবির হয়ে পড়েছে এবং সেনাবাহিনী নতুন করে রণকৌশল সাজাতে বাধ্য হচ্ছে।
প্রতিরক্ষা বিশ্লেষকদের মতে, হিজবুল্লাহ তাদের সামরিক সামর্থ্যের ক্ষুদ্র একটি অংশ ব্যবহার করে ইসরায়েলি সেনাদের মনোযোগ ও প্রতিরক্ষা ব্যূহ পরীক্ষা করছে। লেবানন সীমান্তে ক্রমবর্ধমান এই উত্তেজনা যে কোনো মুহূর্তে একটি পূর্ণমাত্রার আঞ্চলিক যুদ্ধে রূপ নিতে পারে—এমন আশঙ্কায় এখন পুরো মধ্যপ্রাচ্য উৎকণ্ঠায় দিন গুনছে।