আকাশে ঘনীভূত হওয়া বিমান হামলার শঙ্কা আর বারুদের ঘ্রাণ উপেক্ষা করেই আজ রাজপথে নেমেছিল তেহরানের লাখো মানুষ। সাম্প্রতিক যুদ্ধে প্রাণ হারানো ইরানের শীর্ষ সামরিক কমান্ডারদের শেষ বিদায় জানাতে আয়োজিত এই শোকযাত্রা রূপ নিয়েছিল এক অদম্য প্রতিবাদী মিছিলে। আজ শুক্রবার সকালে তেহরানের ঐতিহাসিক ‘ইনকিলাব স্কয়ার’ থেকে শুরু হওয়া এই অন্তিমযাত্রায় অংশ নিয়ে ইরানিরা জানিয়ে দিয়েছে—ভয় দেখিয়ে এই জাতিকে পিছু হটানো সম্ভব নয়।
পার্সটুডের প্রতিবেদন অনুযায়ী, এবারের শোকযাত্রাটি ছিল ইরানের প্রতিরক্ষা ও সামরিক ইতিহাসের এক শোকাতুর মুহূর্ত। মিছিলে অংশ নেওয়া মানুষের কাঁধে ছিল জাতির বীর সন্তানদের কফিন, যারা দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় নিজেদের উৎসর্গ করেছেন। দাফনের আগে তেহরানের প্রধান সড়কগুলোতে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় সামরিক বাহিনীর উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের মরদেহ বহন করা হয়।
যাদের শেষ বিদায় জানাল ইরান:
- সাইয়্যেদ আবদুর রহিম মুসাভি: ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর চিফ অব স্টাফ।
- মোহাম্মদ পাকপুর: ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর (আইআরজিসি) প্রধান কমান্ডার।
- আলি শামখানি: জাতীয় প্রতিরক্ষা পরিষদের সচিব।
- আজিজ নাসিরজাদে: প্রতিরক্ষামন্ত্রী।
- মোহাম্মদ শিরাজি: সর্বাধিনায়কের দপ্তরের সামরিক প্রধান।
শত্রুপক্ষের সম্ভাব্য বোমা হামলার চূড়ান্ত সতর্কবার্তার মধ্যেই তেহরানের সাধারণ মানুষ যেভাবে ঘর থেকে বেরিয়ে এসেছে, তা বিশ্ব গণমাধ্যমে বিস্ময় সৃষ্টি করেছে। শোকযাত্রায় অংশ নেওয়া সাধারণ নাগরিকদের কণ্ঠে ছিল অভিন্ন সুর—"মৃত্যুর ভয় আমাদের দমিয়ে রাখতে পারবে না।" জনসমুদ্রের এই উপস্থিতি যেন কেবল শোক প্রকাশ নয়, বরং বহির্বিশ্বের কাছে ইরানের এক শক্তিশালী রাজনৈতিক বার্তা; যেখানে সাহসিকতাকেই জাতির শ্রেষ্ঠ ‘অস্ত্র’ হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে।
শহীদ কমান্ডারদের স্মরণে তেহরানের রাজপথ আজ হয়ে উঠেছিল কান্নার সমুদ্র, কিন্তু সেই কান্নায় ছিল লড়াইয়ের তীব্র তেজ। বিলাপের চেয়েও সেখানে উচ্চকিত ছিল দেশপ্রেমের স্লোগান। সামরিক বিশ্লেষকদের মতে, একসঙ্গে এতজন শীর্ষ কমান্ডারের বিদায় বড় ধরনের শূন্যতা তৈরি করলেও, সাধারণ মানুষের এই স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ ইরানের জাতীয় সংহতিকে আরও সুসংহত করবে।
অশ্রু আর বীরত্বের মিশেলে শেষ বিদায়ের পর রাষ্ট্রীয় কবরস্থানে পূর্ণ সামরিক মর্যাদায় তাঁদের দাফন সম্পন্ন হয়।