ইসরায়েলের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা ও গোয়েন্দা সংস্থা ‘শিন বেট’-এর সদর দপ্তরসহ একাধিক কৌশলগত সামরিক স্থাপনায় একযোগে ভয়াবহ ড্রোন হামলা চালিয়েছে ইরান। আজ বৃহস্পতিবার ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) এক বিবৃতিতে এই অভিযানের কথা নিশ্চিত করেছে। এই অতর্কিত হামলাকে কেন্দ্র করে মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি এখন চরম উত্তেজনার চূড়ায় পৌঁছেছে।
আইআরজিসি জানিয়েছে, তাদের আত্মঘাতী ও ধ্বংসাত্মক ড্রোন বহর ইসরায়েলের অন্যতম স্পর্শকাতর স্থাপনাগুলোকে লক্ষ্য করে পরিচালিত হয়েছে। হামলার মূল কেন্দ্রবিন্দু ছিল:
- শিন বেট সদর দপ্তর: ইসরায়েলের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তার অপারেশনাল কোর হিসেবে পরিচিত এই সংস্থাটি ভিআইপি সুরক্ষা এবং দেশব্যাপী নিরাপত্তা অভিযানের সমন্বয় করে থাকে। এই সদর দপ্তরে হামলা ইসরায়েলের নিরাপত্তা বেষ্টনীতে এক বড় আঘাত হিসেবে দেখা হচ্ছে।
- পালমাহিম বিমান ঘাঁটি: তেল আবিবের নিকটবর্তী এই ঘাঁটিটি ইসরায়েলের কৃত্রিম উপগ্রহ ও ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষার প্রধান কেন্দ্র। এটি বিখ্যাত ‘ডেভিডস স্লিং’ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এবং ‘হার্মিস ৯০০’ ড্রোন বহরের প্রধান আস্তানা হিসেবে পরিচিত।
- ওভেবদা বিমান ঘাঁটি: ইসরায়েলি বিমান বাহিনীর অন্যতম কৌশলগত ও প্রশিক্ষণ কেন্দ্র। ঐতিহাসিকভাবে এই ঘাঁটিতে মার্কিন তৈরি অত্যাধুনিক এফ-২২ যুদ্ধবিমান মোতায়েন থাকে।
ইরানি বাহিনীর দাবি, ড্রোনগুলো সফলভাবে বিমান ঘাঁটিগুলোর পর্যবেক্ষণ টাওয়ার, রানওয়ে এবং হ্যাঙ্গারগুলোতে আঘাত হানতে সক্ষম হয়েছে। তবে ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ বা প্রাণহানি সম্পর্কে বিস্তারিত কোনো তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। ইসরায়েলের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এই ড্রোনগুলো কতটুকু প্রতিহত করতে পেরেছে, তা নিয়েও শুরু হয়েছে চুলচেরা বিশ্লেষণ।
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, শিন বেট এবং পালমাহিমের মতো উচ্চ-সুরক্ষাসম্পন্ন স্থাপনায় আঘাত হানার সক্ষমতা প্রদর্শনের মাধ্যমে ইরান সরাসরি ইসরায়েলি গোয়েন্দা ব্যবস্থার শ্রেষ্ঠত্বকে চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়েছে। এই হামলার পর ইসরায়েল পাল্টা কোনো বড় সামরিক পদক্ষেপ নেবে কি না, তা নিয়ে বিশ্বজুড়ে উদ্বেগ বাড়ছে।
তথ্যসূত্র: তাসনিম নিউজ এজেন্সি