কুয়েতে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলোতে বড় ধরনের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)। বুধবার পবিত্র রমজান মাসের ২১তম রজনীতে পরিচালিত এই বিশেষ অভিযানে অন্তত ১০০ জন মার্কিন সেনা আহত হয়েছেন বলে দাবি করেছে তেহরান। 'অপারেশন ট্রু প্রমিজ-৪'-এর অংশ হিসেবে চালানো এই হামলাকে এ অঞ্চলে মার্কিন সামরিক উপস্থিতির বিরুদ্ধে এখন পর্যন্ত সবচেয়ে ‘নির্ণায়ক’ আঘাত হিসেবে দেখা হচ্ছে।
ইরানের আধা-সরকারি সংবাদ সংস্থা 'তাসনিম নিউজ'-এর বরাতে প্রকাশিত আইআরজিসির ৩১তম বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, কুয়েতের আল-উদাইরি মার্কিন হেলিকপ্টার ঘাঁটিতে একযোগে দুটি শক্তিশালী ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হানে। এতে বিপুল সংখ্যক মার্কিন সৈন্য হতাহত হন। এদের মধ্যে গুরুতর আহত ১০০ জনেরও বেশি সেনাকে জরুরি ভিত্তিতে কুয়েতের আল-জাবের এবং আল-মুবারক হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে।
একই সময়ে বাহরাইনের মিনা সালমান বন্দরে অবস্থিত মার্কিন পঞ্চম নৌবহরের সদর দপ্তরেও নিখুঁত হামলা চালায় ইরানি ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র। এতে মার্কিন বাহিনীর অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ‘লিডস’ সিস্টেমসহ প্রধান অবকাঠামোগুলো লণ্ডভণ্ড হয়ে গেছে বলে দাবি করেছে আইআরজিসি।
হামলার ব্যাপকতা কেবল ঘাঁটিগুলোর মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল না। বিবৃতিতে জানানো হয়, মোহাম্মদ আল-আহমদ এবং আলী আল-সালেম নৌঘাঁটিতে থাকা মার্কিন প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, সরঞ্জাম গুদাম এবং সৈন্যদের আবাসন লক্ষ্য করে একের পর এক কামিকাজে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করা হয়েছে। এতে করে মার্কিন প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার একটি বড় অংশ অকার্যকর হয়ে পড়েছে।
অভিযান শেষে দেওয়া এক কঠোর বার্তায় আইআরজিসি স্পষ্ট করে দিয়েছে যে, মার্কিন ‘সন্ত্রাসী’ বাহিনী এবং ইসরায়েলি শাসনের বিরুদ্ধে তাদের এই লড়াই অবিরাম চলবে। বিবৃতিতে জোর দিয়ে বলা হয়েছে, "আমরা কেবল শত্রুর সম্পূর্ণ আত্মসমর্পণ চাই। যেদিন আমাদের জাতির ওপর থেকে যুদ্ধের ছায়া চিরতরে সরে যাবে, কেবল সেদিনই এই লড়াইয়ের অবসান ঘটবে।"
এ ঘটনার পর পুরো মধ্যপ্রাচ্য জুড়ে মার্কিন ঘাঁটিগুলোতে সর্বোচ্চ সতর্কতা জারি করা হয়েছে। ওয়াশিংটন এই হামলার বিষয়ে এখনো বিস্তারিত কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া না জানালেও, পেন্টাগনের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের মধ্যে জরুরি বৈঠক চলছে বলে জানা গেছে।