মধ্যপ্রাচ্যের আকাশসীমায় বারুদের গন্ধ আর দফায় দফায় ক্ষেপণাস্ত্র হামলার মাঝেই সুর নরম করতে শুরু করেছে ইসরায়েল। ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ মোজতবা খামেনির নেতৃত্বে তেহরানের ক্রমবর্ধমান সামরিক অভিযানের মুখে এবার ‘যুদ্ধ থেকে প্রস্থানের পথ’ খুঁজছে তেল আবিব। মঙ্গলবার (১০ মার্চ) এক সংবাদ সম্মেলনে ইসরায়েলি পররাষ্ট্রমন্ত্রী গিডিয়ন সার স্পষ্ট জানিয়েছেন, ইরানের সঙ্গে কোনো ‘অনন্তকালব্যাপী সংঘাত’ দীর্ঘায়িত করার পরিকল্পনা তাঁদের নেই।
ইরানের শীর্ষ নেতৃত্বে পরিবর্তনের পর গত কয়েক দিনে হামলার তীব্রতা ও ভয়াবহতা বহুগুণ বেড়েছে। তেহরান এখন আগের চেয়ে অধিক বিধ্বংসী ও নিখুঁত নিশানার ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করছে, যা ইসরায়েলের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে ক্রমাগত চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলছে। বিশেষ করে মোজতবা খামেনি দায়িত্ব গ্রহণের পর যে প্রতিশোধমূলক অভিযান শুরু হয়েছে, তার প্রভাব সরাসরি আছড়ে পড়ছে ইসরায়েলের কৌশলগত স্থাপনাগুলোতে। সামরিক বিশ্লেষকদের মতে, এই অপ্রতিরোধ্য চাপই মূলত ইসরায়েলকে আলোচনার টেবিলে ফিরতে বা যুদ্ধ বন্ধের বিকল্প ভাবতে বাধ্য করছে।
জেরুজালেমে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে গিডিয়ন সার বলেন, যুদ্ধ শেষ করার বিষয়টি এখন সময়ের ব্যাপার মাত্র। তবে এ ক্ষেত্রে একক কোনো সিদ্ধান্ত না নিয়ে প্রধান মিত্র যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে নিবিড় পরামর্শের কথা জানান তিনি। গিডিয়ন বলেন, "আমরা ইরানের সঙ্গে চিরকাল লড়াই চালিয়ে যেতে চাই না। যখন আমরা মনে করব যে সংঘাত থামানোর উপযুক্ত সময় এসেছে, তখন আমাদের আমেরিকান বন্ধুদের সঙ্গে সমন্বয় করেই পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।"
আন্তর্জাতিক কূটনীতিতে ইসরায়েলি পররাষ্ট্রমন্ত্রীর এই মন্তব্যকে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। একদিকে ইরানের নতুন নেতৃত্বের আপসহীন সামরিক অবস্থান, অন্যদিকে ইসরায়েলের ভেতরে যুদ্ধবিরোধী জনমত ও সামরিক ক্লান্তি—সব মিলিয়ে মধ্যপ্রাচ্যের এই রক্তক্ষয়ী সংঘাত একটি নিষ্পত্তির দিকে মোড় নিতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে তেহরান এই যুদ্ধবিরতির আহ্বানে কতটা সাড়া দেবে, তা এখনো অনিশ্চিত।
তথ্যসূত্র: মিডল ইস্ট আই