× প্রচ্ছদ জাতীয় রাজনীতি অর্থনীতি সারাদেশ আন্তর্জাতিক খেলা বিনোদন ফিচার প্রবাস সকল বিভাগ
ছবি ভিডিও লাইভ লেখক আর্কাইভ

ইরান-যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধ

কী চায় দুই পরাশক্তি?

ন্যাশনাল ট্রিবিউন ডেস্ক

১১ মার্চ ২০২৬, ০০:১৬ এএম । আপডেটঃ ১১ মার্চ ২০২৬, ০১:২৬ এএম

তেহরানে বিস্ফোরণের কালো ধোঁয়া। ছবি: এপি

যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল বনাম ইরান সংঘাত আজ দ্বিতীয় সপ্তাহে পদার্পণ করেছে। ইতোমধ্যে ১২টি দেশ সরাসরি এই যুদ্ধের আগুনের লেলিহান শিখায় জড়িয়ে পড়েছে, যার প্রকম্পন অনুভূত হচ্ছে বিশ্ব রাজনীতি ও অর্থনীতির প্রতিটি রন্ধ্রে। তবে রণক্ষেত্রে পাল্টাপাল্টি রক্তক্ষয় সত্ত্বেও কোনো পক্ষই এখন পর্যন্ত তাদের কৌশলগত কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্য অর্জনে সক্ষম হয়নি। মার্কিন সংবাদমাধ্যম 'ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল'-এর এক প্রতিবেদনে উঠে এসেছে এই অচলাবস্থার চিত্র, যেখানে অনিশ্চয়তাই এখন একমাত্র ধ্রুব সত্য।

সোমবার রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে রুদ্ধদ্বার আলোচনার পর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এক সংবাদ সম্মেলনে জানান, যুদ্ধ ‘খুব দ্রুত’ শেষ হতে চলেছে। কিন্তু এর পরক্ষণেই তাঁর কণ্ঠে ঝরে পড়ে কঠোর হুঁশিয়ারি—যুক্তরাষ্ট্র প্রয়োজনে ‘আরও অনেক দূর’ যেতে প্রস্তুত। ওয়াশিংটনের এই দ্বিমুখী বার্তার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে কয়েক শ’ ড্রোন ও ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়ে নিজেদের সমরশক্তির জানান দিয়েছে ইরান।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনিসহ শীর্ষ নেতৃত্বের ওপর যে জোরালো হামলার ছক ট্রাম্প প্রশাসন এঁকেছিল, তার পেছনে গূঢ় লক্ষ্য ছিল দুটি: তেহরানের ক্ষমতার পটপরিবর্তন অথবা ইরানকে ভেনেজুয়েলার মতো ওয়াশিংটনের বশ্যতা শিকারে বাধ্য করা। তবে বাস্তবতা বলছে ভিন্ন কথা। খামেনির কট্টরপন্থি উত্তরসূরি হিসেবে মোজতবা খামেনির উত্থান এবং প্রতিশোধের সংকল্প এই যুদ্ধকে আরও দীর্ঘস্থায়ী করার ইঙ্গিত দিচ্ছে।

তীব্র বিমান হামলা সত্ত্বেও ইরান এখনও হরমুজ প্রণালির মতো গুরুত্বপূর্ণ জলপথ অবরুদ্ধ রাখা এবং মিত্র দেশগুলোর জ্বালানি অবকাঠামোতে আঘাত হানার সক্ষমতা বজায় রেখেছে।

ইরানের রণকৌশল এখন মূলত আঞ্চলিক প্রতিবেশীদের অর্থনীতির ওপর মনস্তাত্ত্বিক চাপ সৃষ্টি করা। সৌদি আরব ও আরব আমিরাতের জ্বালানি অবকাঠামো এবং পর্যটন কেন্দ্রগুলোতে অস্থিরতা তৈরি করে তারা মূলত ট্রাম্পকে যুদ্ধবিরতিতে বাধ্য করতে চায়। তবে কুয়েত ইউনিভার্সিটির ইতিহাসবিদ বদর আল-সাইফ মনে করেন, এই ক্ষতি দ্বিমুখী। তার মতে, "যা আমাদের ক্ষতি করছে, তা ইরানিদেরও ক্ষতি করছে। তবে আমাদের টিকে থাকার ক্ষমতা তাদের চেয়ে বেশি।"

বিশ্লেষকদের মতে, এই দীর্ঘস্থায়ী সংঘাতের অদৃশ্য জয়ী হতে পারে রাশিয়া। তেলের মূল্যবৃদ্ধি ক্রেমলিনের কোষাগার সমৃদ্ধ করার পাশাপাশি ইউক্রেন যুদ্ধ থেকে পশ্চিমা বিশ্বের মনোযোগ সরিয়ে দেবে। এদিকে, ইরান বিশেষজ্ঞ এলি গেরানমায়েহ সতর্ক করে বলেছেন, ইরানের বিশাল ভূখণ্ড ও সামরিক কাঠামোর কারণে এখানে 'নিশ্চিত বিজয়' সম্ভব নয়। বরং এটি এখন মার্কিন অর্থনীতির সহ্যক্ষমতার এক বড় পরীক্ষা।

ইন্টারন্যাশনাল ক্রাইসিস গ্রুপের আলী ওয়ায়েজ মনে করেন, পরিস্থিতির বিপজ্জনক মোড় হলো এই যে, যেকোনও সাময়িক অস্ত্রবিরতি ইরানকে পারমাণবিক সক্ষমতা অর্জনের পথে ধাবিত করতে পারে। ফলে যুদ্ধ থামলেও মধ্যপ্রাচ্য এক দীর্ঘমেয়াদী অস্থিতিশীল ভারসাম্যের দিকেই এগিয়ে যাচ্ছে।

National Tribune

সম্পাদক ও প্রকাশক: মো. আলী হোসেন

যোগাযোগ: +880244809006 ,01922575574

ই-মেইল: [email protected]

ঠিকানা: ২২০/১ (৫ম তলা), বেগম রোকেয়া সরণি, তালতলা, আগারগাঁও, পশ্চিম কাফরুল, ঢাকা-১২০৭

আমাদের সঙ্গে থাকুন

© 2026 National Tribune All Rights Reserved.