মধ্যপ্রাচ্যের আকাশসীমায় চলমান সংঘাতের ২০তম অধ্যায়ে এসে ইসরায়েলের কৌশলগত শহর হাইফায় বড় ধরনের ড্রোন হামলা চালিয়েছে ইরান। মঙ্গলবার ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের সেনাবাহিনী এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, দেশটির বিমান বাহিনীর দক্ষ সদস্যরা হাইফায় অবস্থিত ইসরায়েলি সরকারের প্রধান জ্বালানি সংরক্ষণাগারে (ফুয়েল ডিপো) নিখুঁত নিশানায় আঘাত হেনেছে। তেহরান ভিত্তিক সংবাদ সংস্থা তাসনিম নিউজ এজেন্সির বরাতে এই তথ্য জানা গেছে।
সেনাবাহিনীর ২০তম এই বিবৃতিতে বলা হয়, ইরানের অভ্যন্তরীণ তেল ডিপোগুলোতে ইসরায়েলি বিমান হামলার সরাসরি প্রতিশোধ হিসেবেই হাইফাকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে। বিবৃতিতে এই লড়াইকে ‘মিথ্যার বিরুদ্ধে সত্যের বিজয়’ হিসেবে অভিহিত করে বলা হয়, চূড়ান্ত জয় না আসা পর্যন্ত মার্কিন ও ইসরায়েলি সামরিক জোটের বিরুদ্ধে এই প্রতিরোধ অব্যাহত থাকবে।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ সাইয়্যেদ আলী খামেনির শাহাদাত বরণের পর থেকে এই রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের সূত্রপাত। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যৌথভাবে ইরানের বিরুদ্ধে যে সর্বাত্মক সামরিক অভিযান শুরু করে, তাতে বেশ কয়েকজন জ্যেষ্ঠ সামরিক কমান্ডার এবং বিপুল সংখ্যক বেসামরিক প্রাণহানি ঘটে। ইরানের সামরিক ও বেসামরিক অবকাঠামোতে চালানো সেই ব্যাপক বিমান হামলার ক্ষত থেকেই এখন পাল্টা আঘাতের রণকৌশল সাজাচ্ছে তেহরান।
ইরানি সশস্ত্র বাহিনী জানিয়েছে, হাইফায় ড্রোন হামলা কেবল একটি খণ্ডচিত্র। দখলকৃত অঞ্চলের বিভিন্ন কৌশলগত স্থাপনা এবং মধ্যপ্রাচ্যে মোতায়েন করা মার্কিন ও ইসরায়েলি সামরিক ঘাঁটিগুলোতে দফায় দফায় ক্ষেপণাস্ত্র ও আত্মঘাতী ড্রোন (ইউএভি) নিক্ষেপ করা হচ্ছে। এই সংঘাত এখন কেবল সীমান্তের লড়াইয়ে সীমাবদ্ধ নেই, বরং তা পুরো অঞ্চলের জ্বালানি ও সামরিক স্থিতিশীলতাকে খাদের কিনারে নিয়ে দাঁড় করিয়েছে।