ইরানের ওপর চাপিয়ে দেওয়া সাম্প্রতিক মার্কিন-ইসরায়েলি সামরিক তৎপরতাকে কেবল একটি আঞ্চলিক সংঘাত নয়, বরং বিশ্ব জ্বালানি বাজার দখলের এক সুদূরপ্রসারী কৌশল হিসেবে অভিহিত করেছে তেহরান। সোমবার রাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ (সাবেক টুইটার) দেওয়া এক বার্তায় ইরানি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাকাই এই আশঙ্কার কথা ব্যক্ত করেন। তিনি সতর্ক করে বলেন, এই আগ্রাসনের মূল লক্ষ্য ইরানের তেল সম্পদের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে বিশ্ব অর্থনীতি ও জ্বালানি সরবরাহে একচ্ছত্র আধিপত্য বিস্তার করা।
ফক্স নিউজে প্রকাশিত হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলিন লিভিটের একটি উদ্ধৃতি টেনে বাকাই দাবি করেন, ইরানের বিরুদ্ধে এই যুদ্ধ মূলত একটি বৃহত্তর ভূ-রাজনৈতিক কৌশলের অংশ। তার ভাষ্যমতে, ভেনেজুয়েলার তেল খাতের ওপর নিয়ন্ত্রণ এবং পারস্য উপসাগরীয় উৎপাদনে প্রভাব বজায় রাখার পর, ইরানের তেল মজুদ দখল করা হবে এই ‘আধিপত্যবাদী ধাঁধার’ চূড়ান্ত অংশ। এর মাধ্যমে মূলত চীনের সাশ্রয়ী জ্বালানি প্রাপ্তির পথ রুদ্ধ করে দেশটির অর্থনৈতিক ও প্রযুক্তিগত উত্থান ঠেকানোর একটি পরিকল্পিত প্রচেষ্টা চালানো হচ্ছে।
ইসমাইল বাকাই বলেছেন, ইরান কেবল নিজের সীমান্ত রক্ষা করছে না, বরং এটি আন্তর্জাতিক রীতিনীতি ও রাষ্ট্রীয় আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকার রক্ষার সংগ্রাম। তিনি একে 'জ্বালানি ন্যায়বিচার' ও 'সার্বভৌমত্বের সুরক্ষা' হিসেবে বর্ণনা করেন। মুখপাত্রের মতে, এই যুদ্ধ কেবল ইরানের একার নয়, বরং এটি গ্লোবাল সাউথ তথা সমগ্র বিশ্ব সম্প্রদায়ের স্বার্থের সাথে জড়িত।
প্রতিবেশী রাষ্ট্র ও আঞ্চলিক সংস্থাগুলোর প্রতি উদাত্ত আহ্বান জানিয়ে বাকাই বলেন, "আমাদের এই সংগ্রাম স্বাধীনতা এবং ক্ষমতার রাজনীতিমুক্ত একটি আইন-ভিত্তিক আন্তর্জাতিক ব্যবস্থার জন্য। বিশ্বজুড়ে যারা সার্বভৌমত্ব ও স্বাধীনতার প্রতি শ্রদ্ধাশীল, তাদের এই রূঢ় বাস্তবতা সম্পর্কে এখনই সচেতন হওয়া প্রয়োজন।" তিনি উল্লেখ করেন, যদি এই আধিপত্যবাদী নীতি সফল হয়, তবে তা বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সম্পদের ন্যায্য অধিকার ও আন্তর্জাতিক স্থিতিশীলতাকে দীর্ঘমেয়াদী সংকটে ফেলবে।
তথ্যসূত্র : তাসনিম নিউজ