ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর দীর্ঘ নীরবতা এবং জনসম্মুখ থেকে তাঁর অনুপস্থিতি নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে ডালপালা মেলছে নানা জল্পনা। গত কয়েক দিন ধরে তাঁর কোনো নতুন ভিডিও বা ছবি প্রকাশিত না হওয়ায় এবং গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক সফর বাতিল হওয়ায় তাঁর নিরাপত্তা ও শারীরিক অবস্থা নিয়ে তৈরি হয়েছে এক গভীর ধোঁয়াশা। যদিও তেল আবিব থেকে এখন পর্যন্ত এ বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক বিবৃতি পাওয়া যায়নি, তবে কয়েকটি সুনির্দিষ্ট ঘটনাপ্রবাহ এই রহস্যকে আরও ঘনীভূত করেছে।
নেতানিয়াহুর বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে যে প্রশ্নগুলো জনমনে ঘুরপাক খাচ্ছে, তার পেছনে প্রধানত পাঁচটি কারণকে দায়ী করছেন বিশ্লেষকরা:
ডিজিটাল নীরবতা
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অত্যন্ত সক্রিয় নেতানিয়াহুর ব্যক্তিগত চ্যানেল থেকে গত তিন দিন কোনো ভিডিও বার্তা আসেনি। তাঁর সর্বশেষ স্থিরচিত্র প্রকাশিত হয়েছে প্রায় চার দিন আগে। বর্তমানে তাঁর নামে প্রকাশিত বার্তাগুলো কেবল ‘টেক্সট’ বা লিখিত আকারে আসছে, যা সচরাচর তাঁর ক্ষেত্রে দেখা যায় না।
বার্তা প্রবাহের আকস্মিক পরিবর্তন
গত কয়েক মাসে নেতানিয়াহু প্রতিদিন গড়ে একটি থেকে তিনটি ভিডিও বার্তা দিচ্ছিলেন। সেই ধারাবাহিকতায় গত ৭২ ঘণ্টার সম্পূর্ণ নীরবতা জল্পনাকে তীব্রতর করেছে।
নিরাপত্তা বেষ্টনী বৃদ্ধি
হিব্রু সংবাদমাধ্যমগুলোর প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ৮ মার্চ থেকে প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনের চারপাশে নজিরবিহীন নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। বিশেষ করে সম্ভাব্য আত্মঘাতী ড্রোন হামলা মোকাবিলায় আধুনিক প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা মোতায়েন করা হয়েছে বলে জানা গেছে।
কূটনৈতিক সফর বাতিল
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জামাতা জ্যারেড কুশনার এবং বিশেষ প্রতিনিধি স্টিভ উইটকফের আজ নির্ধারিত ইসরায়েল সফর আকস্মিকভাবে বাতিল করা হয়েছে। এই গুরুত্বপূর্ণ সফর বাতিলের পেছনে প্রধানমন্ত্রীর শারীরিক বা নিরাপত্তা সংক্রান্ত জটিলতা থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
অস্পষ্ট ফোনালাপ
ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁর সঙ্গে নেতানিয়াহুর কথিত টেলিফোন কথোপকথনের কোনো সুনির্দিষ্ট তারিখ বা অডিও এলিসি প্যালেস প্রকাশ করেনি। প্রকাশিত হয়েছে কেবল একটি সংক্ষিপ্ত লিখিত বিবরণ, যা কোনো সরাসরি সংলাপের প্রমাণ দেয় না।
এই রহস্যময় পরিস্থিতি মধ্যপ্রাচ্যের রাজনীতিতে নতুন কোনো মোড় নিয়ে আসে কি না, বিশ্ব এখন সেদিকেই তাকিয়ে আছে।