বিশ্ব রাজনীতির দুই প্রভাবশালী কেন্দ্রবিন্দু—ওয়াশিংটন ও মস্কোর মধ্যে এক দীর্ঘ প্রতীক্ষিত ও তাৎপর্যপূর্ণ কূটনৈতিক সংযোগ স্থাপিত হয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন সোমবার (৯ মার্চ) প্রায় এক ঘণ্টাব্যাপী টেলিফোনে আলাপ করেছেন। গত ডিসেম্বরের পর দুই নেতার মধ্যে এটিই প্রথম আনুষ্ঠানিক কথোপকথন, যা বর্তমান উত্তাল বিশ্ব পরিস্থিতিতে বিশেষ গুরুত্ব বহন করছে।
ক্রেমলিনের পক্ষ থেকে এই ফোনালাপকে ‘খোলামেলা ও গঠনমূলক’ হিসেবে অভিহিত করা হয়েছে। রুশ প্রেসিডেন্টের কূটনৈতিক উপদেষ্টা ইউরি উশাকভ গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছেন যে, আলোচনার এই উদ্যোগটি মূলত ওয়াশিংটনের পক্ষ থেকেই নেওয়া হয়েছিল।
ফোনালাপের মূল কেন্দ্রবিন্দুতে ছিল মধ্যপ্রাচ্যে ইরানকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের ক্রমবর্ধমান যুদ্ধাবস্থা এবং দীর্ঘস্থায়ী ইউক্রেন সংকট। পুতিন তার দীর্ঘদিনের মিত্র ইরানের বিরুদ্ধে চলমান সামরিক তৎপরতার দ্রুত রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক সমাধানের ওপর জোর দেন। তিনি স্পষ্টভাবে জানান, সংঘাতের বিস্তার রোধে আলোচনার কোনো বিকল্প নেই।
অন্যদিকে, ইউক্রেন পরিস্থিতি নিয়ে পুতিন ডোনাল্ড ট্রাম্পকে বর্তমান যুদ্ধের গতিপ্রকৃতি সম্পর্কে অবহিত করেন। রুশ প্রেসিডেন্ট দাবি করেন, রণক্ষেত্রে রাশিয়ার সেনারা ক্রমান্বয়ে কৌশলগত অগ্রগতি অর্জন করছে। তবে ইউক্রেন সংকট নিরসনে ট্রাম্পের মধ্যস্থতার আগ্রহকে ইতিবাচক দৃষ্টিতে দেখছে মস্কো। যদিও দুই দেশের প্রতিনিধিদের মধ্যে একাধিক দফায় বৈঠক হয়েছে, তবুও কার্যকর কোনো যুদ্ধবিরতির বিষয়ে এখনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আসেনি।
২০২৪ সালের আগস্টে আলাস্কায় দুই নেতার ঐতিহাসিক মুখোমুখি বৈঠকের পর এই ফোনালাপটি দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের বরফ গলানোর একটি চেষ্টা হিসেবে দেখা হচ্ছে। বর্তমান বৈশ্বিক জ্বালানি ও নিরাপত্তা সংকট মোকাবিলায় দুই পরাশক্তির শীর্ষ পর্যায়ে এমন যোগাযোগ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা।
ক্রেমলিনের ভাষ্যমতে, আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি পর্যালোচনার পাশাপাশি দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক উন্নয়নে দুই নেতাই আগ্রহ দেখিয়েছেন। তবে ওয়াশিংটনের পক্ষ থেকে এই ফোনালাপ নিয়ে এখনও বিস্তারিত কোনো বিবৃতি পাওয়া যায়নি।