মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত এক নতুন ও রক্তক্ষয়ী অধ্যায়ে প্রবেশ করেছে। লেবানন সীমান্ত দিয়ে হিজবুল্লাহর নজিরবিহীন ক্ষেপণাস্ত্র বৃষ্টি এবং ইসরায়েলি আকাশসীমায় ড্রোনের অবাধ বিচরণে উত্তর ইসরায়েল এখন কার্যত রণক্ষেত্রে পরিণত হয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় লেবানন থেকে অধিকৃত ফিলিস্তিন ভূখণ্ডে ৪০০-রও বেশি ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করা হয়েছে, যা সাম্প্রতিক সময়ের মধ্যে একক দিনে সর্বোচ্চ আঘাতের রেকর্ড। একই সঙ্গে পূর্ব লেবাননের বেকা সীমান্ত এলাকায় ইসরায়েলি কমান্ডো নামানোর একটি দুঃসাহসী অভিযান হিজবুল্লাহর তীব্র প্রতিরোধে ব্যর্থ হয়েছে, যেখানে একটি ইসরায়েলি সামরিক হেলিকপ্টার ভূপাতিত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।
ইসরায়েলি রাষ্ট্রীয় সম্প্রচার মাধ্যম ‘কান’-এর বরাত দিয়ে জানা গেছে, হিজবুল্লাহর ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার গতি ও তীব্রতা গত দুই দিনে বহুগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। সামরিক বিশেষজ্ঞরা এই আকস্মিক পরিবর্তনের পেছনে হিজবুল্লাহর সুসংগঠিত রণকৌশলকে দায়ী করছেন। উত্তর ইসরায়েলের বিস্তীর্ণ অঞ্চলে হিজবুল্লাহর একের পর এক ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে নিরাপত্তা ব্যবস্থা ভেঙে পড়ার উপক্রম হয়েছে। ড্রোন ও রকেটের সমন্বিত এই হামলার মুখে ইসরায়েলি আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ‘আয়রন ডোম’ বড় ধরনের চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন হচ্ছে।
সংঘাতের সবচেয়ে নাটকীয় মোড়টি আসে পূর্ব লেবাননের পার্বত্য উপত্যকায়। আল-জাজিরার নিরাপত্তা সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী বেকা সীমান্ত এলাকায় হেলিকপ্টার যোগে সেনা নামানোর (এয়ারবোর্ন অপারেশন) চেষ্টা চালিয়েছিল। তবে সেখানে ওত পেতে থাকা হিজবুল্লাহ যোদ্ধাদের ভারী গোলাবর্ষণের মুখে পড়ে ইসরায়েলি বহর। প্রবল বাধার মুখে সেনা নামানো সম্ভব হয়নি এবং লেবাননের দাবি অনুযায়ী, তীব্র আক্রমণের শিকার হয়ে একটি ইসরায়েলি হেলিকপ্টার ভূপাতিত হয়। এই ঘটনাটি ইসরায়েলি পদাতিক অভিযানের সক্ষমতাকে বড় প্রশ্নের মুখে ঠেলে দিয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, লেবানন সীমান্তে হিজবুল্লাহর এই ক্রমবর্ধমান শক্তি প্রদর্শন প্রমাণ করে যে, দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধের জন্য তারা পুরোপুরি প্রস্তুত। ৪০০ ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাত কেবল সামরিক ক্ষয়ক্ষতির মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়, এটি উত্তর ইসরায়েলের জনজীবনে এক দীর্ঘস্থায়ী মনস্তাত্ত্বিক ভীতির সঞ্চার করেছে। সীমান্ত এলাকায় হিজবুল্লাহর এই প্রতিরোধ ইসরায়েলের দীর্ঘমেয়াদী সামরিক পরিকল্পনায় বড় ধরনের ছন্দপতন ঘটাতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।