পশ্চিম এশিয়ায় ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে ইরানের বিরুদ্ধে কোনো সামরিক অভিযানে অংশ না নেওয়ার সাফ ঘোষণা দিয়েছে যুক্তরাজ্য। ওয়াশিংটন ও তেল আবিবের রণপ্রস্তুতির বিপরীতে দাঁড়িয়ে লন্ডন স্পষ্ট করেছে যে, তারা এই সংঘাতে জড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি নিতে নারাজ। একইসঙ্গে আয়ারল্যান্ডের পক্ষ থেকে মার্কিন-ইসরায়েলি তৎপরতাকে ‘আন্তর্জাতিক আইনের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন’ হিসেবে অভিহিত করে কঠোর নিন্দা জানানো হয়েছে।
ব্রিটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইভেট কুপার রোববার এক বিবৃতিতে জানান, মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান অস্থিতিশীল পরিস্থিতিতে ব্রিটেন কোনোভাবেই ইরানের বিরুদ্ধে আমেরিকা ও ইসরায়েলের এই যুদ্ধে শরিক হবে না। তাসনিম নিউজ এজেন্সির বরাত দিয়ে পার্সটুডে জানিয়েছে, ব্রিটিশ সরকার এই মুহূর্তে আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখাকেই সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিচ্ছে।
লন্ডনের মেয়র সাদিক খান এই অবস্থানের পক্ষে জোরালো যুক্তি তুলে ধরে বলেন, ইরানের বিরুদ্ধে এই যুদ্ধ কোনো আন্তর্জাতিক ঐকমত্য বা জাতিসংঘের অনুমোদন ছাড়াই শুরু হয়েছে। তিনি সতর্ক করে দিয়ে বলেন, "জাতিসংঘের ম্যান্ডেটবিহীন এই যুদ্ধে হস্তক্ষেপ করা ব্রিটেনের জন্য আত্মঘাতী হবে। এটি কেবল আন্তর্জাতিক নীতিমালার পরিপন্থীই নয়, বরং ব্রিটিশ অর্থনীতিতে এক ভয়াবহ বিপর্যয় ডেকে আনতে পারে।"
এদিকে, এই সংঘাতের প্রেক্ষাপটে আয়ারল্যান্ডের শীর্ষ নেতৃত্ব কঠোর প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন। আইরিশ প্রেসিডেন্ট ক্যাথরিন কনেলি ইরানের ওপর মার্কিন-ইসরায়েলি আক্রমণকে একটি ‘অপরাধ’ হিসেবে বর্ণনা করেন। তিনি জোর দিয়ে বলেন, পশ্চিম এশিয়ায় যা ঘটছে তা আন্তর্জাতিক আইন এবং জাতিসংঘের সনদের সরাসরি লঙ্ঘন।
সাবেক আইরিশ প্রেসিডেন্ট মেরি রবিনসন ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের ভূমিকার তীব্র সমালোচনা করে অভিযোগ করেন যে, মিথ্যার ওপর ভিত্তি করে এই সংঘাত ছড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে। তিনি বলেন, "আমরা এমন এক যুদ্ধ প্রত্যক্ষ করছি যা কেবল ধ্বংসযজ্ঞই বয়ে আনছে না, বরং সমগ্র মধ্যপ্রাচ্যকে এক দীর্ঘস্থায়ী সংকটের মুখে ঠেলে দিয়েছে।"